নানা আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

আগের সংবাদ

লো স্কোরিংয়ের রোমাঞ্চকর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয়

পরের সংবাদ

বিশ্বকাপের চার ভেন্যু

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। ১৭ অক্টোবর ওমানে বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে বাছাইপর্বের ম্যাচ দিয়ে। এরপর ২৩ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বকাপের মূল পর্বের ম্যাচের পর্দা উঠবে। এর আগে ২০০৭ সালে প্রথমবার দক্ষিণ আফ্রিকায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে দ্বিতীয় আসর অনুষ্ঠিত হয়। এর এক বছর পর ২০১০ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০১২ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চতুর্থ আসর আয়োজন করে শ্রীলঙ্কা। পঞ্চম আসর ২০১৪ সালে আয়োজন করে বাংলাদেশ। আর ষষ্ঠ আসর ২০১৬ সালে ভারত নিজেদের মাঠে আয়োজন করে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসরের আয়োজক ও ভারত। তবে করোনার কারণে তারা এবার ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ম্যাচগুলো পরিচালনা করছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনে ভারত মধ্যপ্রাচ্যের চারটি ভেন্যুকে নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে একটি ওমানের রাজধানী মাস্কাটে। সেখানে শুধু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আর সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিনটি স্টেডিয়ামে হবে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের পাশাপাশি মূল পর্বের ম্যাচগুলো।
ওমান ক্রিকেট একাডেমি গ্রাউন্ড : বিশ্বকাপে ওমানের একমাত্র স্টেডিয়ামটি আল আমিরাত ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ভেন্যুটি ওমান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ড হিসেবেও পরিচিত। ২০০৮ সালে ওমান ক্রিকেট বোর্ড নিজেদের অর্থায়নে স্টেডিয়ামটি নির্মাণ করে। ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি কুয়েত ও মালদ্বীপের মধ্যকার টি- টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে ভেন্যুটির আন্তর্জাতিক অভিষেক ঘটে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে আইসিসি স্টেডিয়ামটিতে টেস্ট ম্যাচ আয়োজনের অনুমোদন দেয়। ফ্লাড লাইটের ব্যবস্থা থাকায় ভেন্যুটিতে দিনের পাশাপাশি দিবারাত্রি ম্যাচ আয়োজনের জন্যও উপযুক্ত। তবে এই ভেন্যুটির ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৩ হাজার। যা একটি বিশ্বকাপে উপযুক্ত ধারণক্ষমতা সম্পন্ন নয়। তাই হয়তো শুধু বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ পেয়েছে ওমান। তবে বিশ্বকাপে তাদের এই ভেন্যুটি পরিচিত লাভ করার দারুণ সুযোগ পেয়ে গেল। ভেন্যুটিতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। ১৭ অক্টোবর ওমান-পাপুয়া নিউগিনির ম্যাচের মধ্য দিয়ে স্টেডিয়ামটি বিশ্বকাপে প্রাণের সঞ্চার করেছে। আর ২১ অক্টোবর ওমান-স্কটল্যান্ড ম্যাচের মধ্য দিয়ে এ ভেন্যু ফ্লাডলাইটের আলো হারিয়েছে। কারণ এটি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচ। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিশ্বকাপের তিন ভেন্যুর মধ্য আছে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। পাকিস্তান তাদের ঘরের মাঠে ম্যাচ আয়োজনে নিষিদ্ধ থাকাকালে এই ভেন্যুগুলো নিজেদের ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহার করত। আন্তর্জাতিক ম্যাচের পাশাপাশি, ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টুর্নামেন্ট স্টেডিয়ামগুলোতে আয়োজন করে আসছে পাকিস্তান। তাছাড়া আইপিএলের পর পর দুইটি আসর এই ভেন্যুগুলোতে আয়োজিত হয়েছে। স্টেডিয়ামগুলোর পরিচালনায় দায়িত্বেও রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম : দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া-পাকিস্তানের ম্যাচ দিয়ে একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিষেক হয় ২০০৯ সালে। ২৫ হাজার আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামকে বিশ্বের সেরা বলে দাবি করেছে স্থানীয়রা। এখানে রয়েছে ৮টি পিচ। এই মাঠে ফ্লাডলাইট ব্যতিক্রমী। ছোট ছোট ৪০০ বাল্ব দিয়ে পুরো স্টেডিয়ামকে সাজানো হয়েছে। স্টেডিয়াম তৈরি করতে খরচ হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ডলার। আধুনিক স্টেডিয়ামে যত সুবিধা প্রয়োজন তার পুরোটাই আছে এখানে। চলতি বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৩ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে স্টেডিয়ামটিতে। ২৩ অক্টোবর উদ্বোধনী দিনে ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ফ্লাড লাইট জ¦লে উঠবে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২১-এর একটি সেমিফাইনালের পাশাপাশি ফাইনাল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামটিতে।
শেখ আবু জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম : সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম আধুনিক শহর আবুধাবিতে অবস্থিত স্টেডিয়ামটির নাম শেখ আবু জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। যেটিকে অনেকে আবুধাবি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নামে চিনে থাকে। ২০০৪ সালে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালনায় স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণ ক্ষমতা ২০ হাজার। ২০০৬ সালের ১৮ এপ্রিল ভারত বনাম পাকিস্তানের মধ্যকার ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে স্টেডিয়ামটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৫টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে স্টেডিয়ামটিতে। যার মধ্য চারটি ম্যাচ থাকবে বাছাইপর্বের। তাছাড়া টুর্নামেন্টের একটি সেমিফাইনাল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে আধুনিক এই স্টেডিয়ামটিতে।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম : সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্য আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামটি শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির সবচেয়ে পুরনো স্টেডিয়াম। সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট অঙ্গনে পা রেখেছে মূলত এই স্টেডিয়ামটির মাধ্যমেই। অন্য দুইটি স্টেডিয়ামের তুলনায় এটির দর্শকধারণ ক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। এর ধারণক্ষমতা ২৭ হাজার। দুবাই ও আবুধাবির মতো এই স্টেডিয়ামটিরও পরিচালনায় আছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। স্টেডিয়ামটি ১৯৮২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৮৪ সালের ৬ এপ্রিল পাকিস্তান বনাম শ্রীলঙ্কার মধ্যকার আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে এর অভিষেক ঘটে। চলতি বছরের টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১১ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সর্বোচ্চ দর্শকধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামটিতে। এর মধ্যে বাছাইপর্বের দুইটি ম্যাচ থাকবে। আর বাকি ৯ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে। তবে আসরের বড় কোনো ম্যাচের আয়োজনে নেই স্টেডিয়ামটি।
-জুনায়েদ বাবু

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়