বিমান প্রতিমন্ত্রী
হাজিদের ১৫০ লাগেজ কেটে চুরির অভিযোগ ভিত্তিহীন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হাজিদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরপরই বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি-অন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে কোনো ধরনের অনিয়ম বা লাগেজ ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাগেজ সংক্রান্ত একটি পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্বিগ্ন করেছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাজিদের দেশে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয় যে ১৫০টি লাগেজ কেটে সেখান থেকে মালামাল চুরি করা হয়েছে। ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীকে ট্যাগ করা হলে তিনি দ্রুত বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এসব ক্ষেত্রে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে বিভ্রান্তি দূর করতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে তাৎক্ষণিকভাবে অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও বডি-অন ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিবেদন তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
তদন্তে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটে আসা মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে ২১টি ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে দায়িত্বপ্রাপ্ত গ্রাউন্ড স্টাফরা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন।
লাগেজ ব্যবস্থাপনার প্রচলিত নিয়ম সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা যথাযথভাবে সিল না করা তরল প্রসাধনী বহন করা যায় না। স্ক্যানিংয়ের সময় এমন কিছু শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে সেগুলো জব্দ করতে পারে।
তিনি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক বিধি অনুযায়ী ঘোষণা ছাড়া নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে রাখা নিষিদ্ধ। ঢাকা বিমানবন্দরের ফুটেজ পর্যালোচনায় কোনো ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী পুনরায় দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনাটির বর্ণনা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
