স্পিকার, উপনেতা ও চিফ হুইপ পদে আলোচনায় যারা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:২৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
আগামী ১২ মার্চ শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। তবে সংবিধান অনুযায়ী বিদায়ী সংসদের স্পিকার অথবা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকারের নতুন সংসদের প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করার বিধান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হচ্ছে না। জুলাইয়ের ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার একটি গণহত্যা মামলায় কারাবন্দি থাকায় তারা কেউই অধিবেশন পরিচালনা করতে পারছেন না। ফলে প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ এবং প্রথম বৈঠক পরিচালনা করতে পারেন। যদিও অতীতে এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তির পরিবর্তে সংবিধানে বর্ণিত দ্বিতীয় পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে সদস্যদের শপথ পড়ানো হয়েছে। তবে শুধুমাত্র অধিবেশন পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রপতি কাউকে মনোনয়ন দিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
আরো পড়ুন : ১০ মার্চ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন
এদিকে সংসদে একটি প্রচলিত রেওয়াজ রয়েছে, রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নির্বাচিত সিনিয়র সংসদ সদস্য প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৩ সালের সংসদের প্রথম অধিবেশনে এ প্রথা অনুসরণ করা হয়েছিল। সেই নজির অনুযায়ী এবারও বর্তমান সংসদের কোনো সিনিয়র সদস্যকে দিয়ে প্রথম বৈঠক পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে।
সিনিয়র সদস্যদের মধ্যে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, জয়নুল আবদিন ফারুক এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ও হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ায় তাদের দিয়ে অধিবেশন পরিচালনার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বা জয়নুল আবদিন ফারুকের কেউ স্পিকার হিসেবে মনোনীত হলে, সেক্ষেত্রে প্রথম বৈঠকে সভাপতিত্ব করার সুযোগ থাকবে না।
সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা নির্বাচিত করেছে। তবে নতুন সংসদে স্পিকার, সংসদ উপনেতা ও চিফ হুইপ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে দলটির ভেতরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদ উপনেতা পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাম আলোচনায় রয়েছে। স্পিকার পদে জোর আলোচনায় আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, দলটির সরকার থাকাকালে সাধারণত আইনজ্ঞকে স্পিকার করা হয়। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় স্পিকার ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে এবারও আইন পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে স্পিকার করার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া স্পিকার পদে স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুল মঈন খান এবং ভাইস চেয়ারম্যান ড. ওসমান ফারুকের নামও আলোচনায় রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদে ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এবং লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন নিজানের নাম শোনা যাচ্ছে।
চিফ হুইপ পদে সাবেক বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু এবং নুরুল ইসলাম মনির নাম আলোচনায় আছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অধিবেশন শুরুর তারিখ সদ্য ঘোষণা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পদগুলোতে কারা আসবেন তা সময় হলে জানানো হবে।
সংসদ সচিবালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার চূড়ান্ত করা হবে।
