বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
ভাঙচুর ও অগ্নিকাণ্ডে আমরা জড়িত নই
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:০২ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভাংচুর ও অগ্নিকাণ্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কোনোভাবেই জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন তারা। একইসঙ্গে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নিন্দাও জানিয়েছেন এ সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বলে, আন্দোলনে কেউ সহিংসতা করলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর দায়ভার নেবে না। এ আন্দোলন শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবির আন্দোলন। তাই এটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহের চেষ্টা না করতেও অনুরোধ জানানো হয়।
এসময় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অভিভাবক, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকদের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আর কোটার যৌক্তিক সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আজ (বৃহস্পতিবার) সারাদেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক টিম।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোটা সংস্কারের যৌক্তিক ও ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশ-বিজিবি-ছাত্রলীগ যৌথভাবে হামলা করে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ থাকলেও সরকার কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়নি। সরকার প্রথমে বিচার বিভাগকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কালক্ষেপণ ও দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে সরকারের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দলীয় সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে সহিংসভাবে আন্দোলন দমনের প্রচেষ্টা চলছে।
আরো পড়ুন: কোটা আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী
এখন পর্যন্ত সারাদেশে হাজারের বেশি শিক্ষার্থী আহত এবং সাতজনের মতো শহীদ হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জোর করে বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া হচ্ছে।
এতে আরো বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পুলিশ হলে হলে টিয়ারশেল, গ্রেনেড ও গুলি চালিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সোয়াত যৌথভাবে কফিন মিছিলে হামলা চালিয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়ে সরকারই উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরতে চায়। সরকারই দৃশ্যমান পদক্ষেপ সমাধানের পথ তৈরি করতে পারে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আরো জানিয়েছে, আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা থাকবে। তাদের দাবি, হামলায় জড়িত ছাত্রলীগ কর্মী ও দায়িত্বরত পুলিশদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে কোটার সংস্কার করতে হবে।
আজকের শাটডাউনে অফিস, আদালত সব বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে সংগঠনটি বলেছিল, সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করা হবে। অ্যাম্বুলেন্স, ইমার্জেন্সি পরিবহন ও গণমাধ্যম পরিবহন শাটডাউনের আওতামুক্ত থাকবে। এছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের আহ্বান জানানো হয়।
