কোটা আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৩:০৪ পিএম
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক
কোটা আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসতে রাজি। এই আলোচনার জন্য দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা চাইলে আজই আলোচনায় বসতে রাজি আছি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলের নীচে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ।
তিনি বলেন, আন্দোলনকারীদের আলোচনার প্রস্তাবকে স্বাগত জানায় সরকার। আমাকে ও শিক্ষামন্ত্রীকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ওরা চাইলে আমরা আজকেই আলোচনায় বসতে রাজি।
আইনমন্ত্রী আরো বলেন, আপিল বিভাগে শুনানির তারিখ এগিয়ে নিয়ে আসতে ইতিমধ্যে এটর্নী জেনারেলকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে কাজ শুরু করবেন। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলমান সহিংসতায় নিহতদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বিচারবিভাগীয় তদন্ত করার যে কথা বলেছেন সেজন্য হাইকোর্টের বিচারপতি দিলুরুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গণভবনে আসেন আইন মন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী সহ সরকারের দায়িত্বশীলরা। সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী চলমান আন্দোলন থেকে সরে আসতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, 'শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ-বিজিবি-র্যাব ও সোয়াটের ন্যক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে' আজ কমপ্লিট শাটডাউন (সর্বাত্মক অবরোধ) পালন করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। হাসপাতাল, গণমাধ্যমসহ অন্যান্য জরুরি সেবা ছাড়া এই কর্মসূচি চলাকালে সব কিছু বন্ধ থাকবে—ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
২০১৮ সালে সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোটা বাতিল করে জারি করা পরিপত্র হাইকোর্ট অবৈধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা দুই সপ্তাহ ধরে টানা আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এরমধ্যে গত রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, সরকারি চাকরিতে কোটার বিষয়টি আদালতেই ফয়সালা করতে হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সরকারপ্রধান বলেন, “কোটা আন্দোলন করার আগে তো তাদের রেজাল্টগুলো দেখা উচিত ছিল যে- কোথায় তারা দাঁড়িয়েছে! দ্বিতীয়টি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি তাদের এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি পুতিরা পাবে না, তাহলে কি রাজাকারের নাতি পুতিরা (চাকরি) পাবে?”
ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওই বক্তব্য নিয়ে রবিবার রাতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে গভীর রাতে বিক্ষোভে নামেন। সেখানে স্লোগান দেয়া হয়, ‘তুমি কে আমি কে, রাজাকার-রাজাকার; কে বলেছে কে বলেছে, স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’।
এরপর সোমবার পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে এবং পরে আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় ছাত্রলীগ। পিটুনিতে আহত হয়ে প্রায় তিনশ শিক্ষার্থী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান, তাদের মধ্যে ১২ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করে নেয়া হয়। পরদিন মঙ্গলবার ও বুধবার ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেল অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারীরা।
