মোবাইল কোর্টে টিমের ওপর ড্রেজার ব্যবসায়ীদের হামলা!
সুরেশ চন্দ্র রায়, মানিকগঞ্জ
প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৩২ এএম
ছবি: প্রতীকি
মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অবৈধভাবে পরিচালিত দুটি ড্রেজারের বিরুদ্ধে একটি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। আর অভিযান শেষে ফেরার পথে ড্রেজার বাণিজ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে রবেল হোসেন(২২) ও পলাশ মিয়া(৪৫) নামে দুইজন সরকারি অফিস সহায়ককে আহত করেছে। এ বিষয়ে দৌলতপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলেও থানা সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১১টার দিকে দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো.নাহিয়ান নূরেনের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দুটি ড্রেজার ভেঙে ফেলা হয় এবং ড্রেজার ব্যবসায়ীদের পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট শেষে ফেরার পথে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ভাঙ্গা রামচন্দ্রপুর মজনু মিয়ার বাড়ির সামনে ইটের রাস্তার ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটায় দুষ্কৃতকারীরা।
থানায় দায়েরকৃত অভিযোগপত্রের অনুলিপি সূত্রে জানা যায়, রবিবার(৭ জুন) দুপুরে উপজেলার কালিনগা নদীতে চলমান ড্রেজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জেরে স্থানীয় শুভ (২২), আব্দুর রাজ্জাক (৩২), মো. আমজাদ (৫৫) এবং আরো অজ্ঞাতনামা ২ জন সন্ত্রাসী ওই হামলা চালায়।
অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে অফিস সহকারী রুবেল হোসেনকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেয়। তার মাথায় হেলমেট থাকায় তিনি মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হননি, তবে হাতুড়ির আঘাতে তার হেলমেটটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে পলাশ মিয়ার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতরভাবে জখম করে তারা। অভিযুক্তরা অভিযানে অংশগ্রহণকারী দুইজন কর্মচারিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পলাশ মিয়ার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সেখান থেকে মানিকগঞ্জ মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) স্বপন কুমার সরকার জানান, এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন দৈনিক ভোরের কাগজকে জানান, ‘দায়িত্ব পালনকালে সরকারি কর্মচারীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টা একটি ফৌজদারি অপরাধ। অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে বা ভয় দেখিয়ে সরকারি কাজ বাধাগ্রস্থ করা যাবে না। অবৈধ ড্রেজার বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত রয়েছে এবং অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে।’
