×

খুলনা

জাল দলিল দিয়ে ব্যাংক লোনের ফন্দি

কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারের সচেতনতায় বানচাল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৫:৪৫ এএম

কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারের সচেতনতায় বানচাল

ছবি: লোহাগড়া শাখা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় যেন গড়ে উঠেছে এক জাল দলিলের কারখানা। মাত্র দশ হাজার টাকার বিনিময়ে তৈরি করা হয় অবৈধ দলিল, যার মাধ্যমে ব্যাংক থেকে নেওয়া হচ্ছিলো মোটা অঙ্কের ঋণ। সম্প্রতি এই জালিয়াতির চিত্র উন্মোচিত হয়েছে, এলাকায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য।

জানা গেছে, লোহাগড়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের লক্ষীপাশা গ্রামের মো: আসাদুজ্জামান (জামাল), পিতা মৃত দ্বীন মোহাম্মদ, মাতা সালেহা বেগম ওই ভুয়া দলিলের দাতা ও গ্রহীতা। অথচ তাঁরা সম্পর্কে মা ও ছেলে। মা ও ছেলে মিলেই তৈরি করেছেন জাল দলিল।

দলিলভুক্ত জমির অবস্থান লোহাগড়া উপজেলার লক্ষীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামে। মৌজা নং ৯৭, এস এ দাগ নং ১২৩, আর এস দাগ নং ৩৩২ ধানী। জমির পরিমাণ ২ একর ৩৬ শতক। সূত্রমতে, এই দলিলটি তৈরি করে দিয়েছেন ভূমি দস্যুদের সহযোগী দলিল লেখক মো: জাকির মুন্সী। পুরো কাজটির চুক্তি মাত্র ১০ হাজার টাকায়।

প্রশ্ন ওঠে, কে এই আসাদুজ্জামান (জামাল)? জমি গ্রহীতা আসাদুজ্জামান হলেন ভূমি দস্যু ও অবৈধ সম্পদ অর্জনকারী মো: শাহিদুল ইসলাম-এর দ্বিতীয় স্ত্রীর আপন বড় ভাই। আর জমিদাতা মোসা: সালেহা বেগম হলেন শাহিদুলের শাশুড়ি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সালেহা বেগমের নামে আসলে কোনো জমির অস্তিত্বই নেই।

এই অবৈধ দলিলের মাধ্যমেই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, লোহাগড়া শাখা থেকে মোটা অঙ্কের ঋণ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আসাদুজ্জামান। কিন্তু ব্যাংক ম্যানেজার খুব দক্ষতার সঙ্গে বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং নিশ্চিত হন যে দলিলটি সম্পূর্ণ জাল ও অবৈধ।

এলাকাবাসী বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন—যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত, তাদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হোক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভূমি দস্যু ও জালিয়াতদের এই চক্র দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় নানা অনিয়ম করে আসছে। সম্প্রতি ব্যাংক ম্যানেজারের সচেতনতার কারণে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম রোধ সম্ভব হয়েছে। তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তারা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে লোহাগড়া শাখা কৃষি ব্যাংকের ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দলিলটি জমা দিয়ে দেড় লাখ টাকা কৃষি ঋণ চাইলে দলিলের কিছু বিষয়ে আমার খটকা লাগে। আমি তাদের কাছে ওই জমির খাজনা ও নামজারিসহ বাদবাকি কাগজপত্র তাদের জমা দিতে বলি। কিন্তু তারা সেগুলো জমা না দিয়ে একরকম জোর করে আমার কাছ থেকে দলিলটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। তখনই আমি দলিলটি জাল বলে নিশ্চিত হই। পরে ওই জমির মূল মালিকও আমার সঙ্গে দেখা করে।’

তিনি আরো বলেন, এখন জমির নামজারি ও খাজনা শতভাগ ডিজিটাল ডাটাবেস নির্ভর হওয়ায় আর কারো পক্ষে ভুয়া দলিল বা কাগজপত্র দিয়ে কৃষি ঋণ নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব না।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারের সচেতনতায় বানচাল

জাল দলিল দিয়ে ব্যাংক লোনের ফন্দি কৃষি ব্যাংক ম্যানেজারের সচেতনতায় বানচাল

মোবাইল কোর্টে টিমের ওপর ড্রেজার ব্যবসায়ীদের হামলা!

মোবাইল কোর্টে টিমের ওপর ড্রেজার ব্যবসায়ীদের হামলা!

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App