ছাগলকাণ্ডের মতিউরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যত টাকা পাওয়া গেলো
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৪, ০৬:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ছাগলকাণ্ডের আলোচিত-সমালোচিত সাবেক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তা মতিউর রহমানের জব্দ করা ব্যাংক হিসাবে মাত্র ৪ কোটি টাকা পাওয়া গেছে! কোরবানির ঈদে নিজের ছেলেকে ঘিরে তৈরি হওয়া ‘ছাগলকাণ্ড’ ঘটার পর তুমুল আলোচনায় আসেন মতিউর। এর পরপরই তিনি এসব হিসাব থেকে সরিয়ে ফেলেন ৮ কোটি টাকা।
১১৫টি ব্যাংক হিসাবের মধ্যে বেশ কিছু হিসাব ২ থেকে ৫ বার লেনদেনের পর তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল এই কাস্টমস কর্মকর্তার। মতিউরের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনায় এসব তথ্য উঠেছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৫ জুন দুদকের অনুরোধে মতিউর, দুই স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে তাদের মুঠোফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাব ও শেয়ারবাজারের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
আরো পড়ুন: ১ বছরে যেসব দেশ থেকে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এলো
আরো পড়ুন: কবে-কীভাবে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা চালু হলো
তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১০ জুন আলোচিত মতিউর রহমানের ব্যাংক হিসাবগুলোতে মোট ১২ কোটি টাকা ছিল। ছেলের ‘ছাগলকাণ্ড’ আলোচনায় আসার পর ঈদের আগে ও পরে মিলিয়ে ব্যাংক থেকে ৮ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিএফআইইউ থেকে ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হলে বাকি অর্থ তুলে নেওয়ার সুযোগ পাননি। এতে তার ব্যাংক হিসাবে ৪ কোটি টাকা রয়ে যায়।
বিএসইসি জানায়, মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে এখন পর্যন্ত ১৬টি বিও হিসাবের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে নিজের নামে চারটি, তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে দুটি, প্রথম পক্ষের ছেলে আহমেদ তৌফিকুর রহমান অর্ণবের নামে দুটি, প্রথম পক্ষের মেয়ে ফারজানা রহমান ঈপসিতার নামে তিনটি ও দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতার শিবলীর নামে পাঁচটি বিও হিসাব রয়েছে।
সাধারণত শেয়ারবাজারে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে বিও হিসাব ও শেয়ার ধারণসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। দুদকের চিঠি পাওয়ার পর সিডিবিএলকে মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা বিও হিসাব জব্দের নির্দেশ দেয় বিএসইসি।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহার আগে মতিউরের ছেলে মুশফিকুর রহমান ইফাতের ১৫ লাখ টাকায় ছাগল কেনার খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে আলোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেশে-বিদেশে মতিউর ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশ পায়। এরপর তাদের সম্পদের খোঁজে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
