×

জাতীয়

ঢাকার রিকশায় শৃঙ্খলা কত দূর

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৯:১৯ এএম

ঢাকার রিকশায় শৃঙ্খলা কত দূর

প্রতীকী ছবি

হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া রাজধানীর প্রায় সব সড়কেই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রিকশা। নগরীর প্রতিটি অলিগলি, মহাসড়ক এমনকি ভিআইপি রোড- কোনোটিতেই রিকশার চলাচল বাদ নেই। কোনো প্রকার বাঁধা ছাড়া উল্টোপথেও চলছে রিকশা। রিকশার নৈরাজ্যে বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ছে সড়ক। সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না তাদের। যদিও রিকশা নিয়ন্ত্রণে এর আগে একাধিকবার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সবশেষ উদ্যোগ নেয়া হয় ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। ঐ সময় ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির প্রধান ছিলেন ঢাকা দক্ষিণের তৎকালীন মেয়র সাঈদ খোকন। সে সময় একটি সভা থেকে তিনি ঘোষণা দেন, অলিগলি বাদ দিয়ে মূল সড়কগুলো থেকে ধীরে ধীরে রিকশা তুলে দেয়ার। ওই দিনই রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় থেকে শাহবাগ, খিলক্ষেত থেকে রামপুরা হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত সড়ক এবং মিরপুর রোডে রিকশা চলাচল বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মেয়র খোকন। সিদ্ধান্ত কার্যকর করাও শুরু হয়। কিন্তু রিকশা চালকদের আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে তা আর টেকেনি। পিছিয়ে আসতে হয়েছে সেই সিদ্ধান্ত থেকে।

দিন দিন ঢাকায় রিকশার সংখ্যা বাড়ছেই। বর্তমানে মহানগরীতে প্রায় ১২ লাখ রিকশা চলাচল করছে বলে জানা গেছে। সেগুলোর মধ্যে নিবন্ধন আছে মাত্র ৯০ হাজারের। অবশ্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নতুন করে আরো ২ লাখ রিকশার নিবন্ধন দিয়েছে। আর অননুমোদিত ও ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধে অভিযান চলমান রেখেছে সংস্থাটি।

এদিকে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বা বিলসের এক গবেষণায় দেখা গেছে ঢাকায় রিকশার সংখ্যা ১১ লাখের মতো। দিনে একটি রিকশা দুই শিফটে চলে। এর চালকের সংখ্যা সেই হিসেবে আনুমানিক ২২ লাখের মতো। তাই রাজধানীতে রিকশা বন্ধের আগে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য বিকল্প ভাবা দরকার বলেও সেসময় মত দেন বিলস-এর পরিচালকদের একজন পরিচালক কোহিনুর মাহমুদ। তিনি বলেন, যে কোনো শ্রমজীবী মানুষ হোক না কেন, তার পেশা থেকে তাকে যদি সরিয়ে নিতে হয় তাহলে তাকে সময় দিতে হবে। আমরা স্লোগান দিচ্ছি কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না; কিন্তু আবার আমরা একটা বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিচ্ছি। আমাদের আবার গ্রামীণ অর্থনীতিতে ফিরে যেতে হবে। এরা মূলত খন্ডকালীন রিকশাচালক। তারা যেন গ্রামেই কাজ করতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

বর্তমানে সড়কে বের হলেই যত্রতত্র রিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সড়কের অর্ধেক জুড়েই রিকশার সারি। এছাড়া অলিগলি থেকে শুরু করে সড়ক-মহাসড়ক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাটারিচালিত রিকশা। সড়কের উল্টোপথেও চলছে তারা বিনা বাঁধায়। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ যানজটের। ঢাকার সড়কে এ চিত্র এখন প্রতিদিনের।

এদিকে গত ২ জানুয়ারি থেকে অননুমোদিত ও ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। ওইদিন ধানমন্ডি-১ নম্বর রোডে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বৈধ কাগজপত্র ও অনুমোদন না থাকায় মোট ১৫ টি রিকশা জব্দ করে ঢাকা দক্ষিণের ভ্রাম্যমাণ আদালত। সংস্থাটির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সামাদ শিকদার অভিযানে নেতৃত্ব দেন। আর দ্বিতীয়দিন সোমবার অভিযান চালানো হয় সদরঘাট বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বাগানবাড়ী এলাকায়। ঐদিন ব্যাটারিচালিত সাতটি অবৈধ রিকশা জব্দ করে ডাম্পিং করা হয়।

এর আগে গত ৩০ ডিসেম্বর ডিএসসিসির ১১ তম বোর্ড সভায় নতুন বছরের শুরু থেকেই অবৈধ রিকশা, অনুমোদনহীন রিকশা এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। সেদিন তিনি বলেন, ঢাকা শহরের যান চলাচল ব্যবস্থাপনা শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে ও নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে বিভিন্ন সড়কে রিকশা রাখার পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করা হবে। এরই মাঝে রিকশা নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করছি। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর রিকশা নিবন্ধন চলছে। অনেক জটিলতা ছিল, অনেক সময় নিয়ে ধৈর্য্য সহকারে কার্যক্রমগুলো প্রায় সমাপ্তির দিকে নিয়ে এসেছি। আমরা যেমনি গাড়ি রাখার স্থান তৈরি করব, তেমনি রিকশা রাখার স্থানও তৈরি করা হবে। সেখান থেকেই যাত্রীরা রিকশায় উঠবে, সেবা নেবে। এভাবে আমরা ঢাকা শহরের যান চলাচল ব্যবস্থা শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসব।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৭ লাখ রিকশা চলাচল করে শুধু দক্ষিণ সিটিতেই। গত বছর এসব রিকশাকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। এজন্য আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে বলা হয়। ২ লাখ ১২ হাজার ৯৯৯ জন রিকশা চালক নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে। সবধরনের যাছাই-বাছাই শেষে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার রিকশা নিবন্ধন দেয় সংস্থাটি। এরইমধ্যে তাদের লাইসেন্সও হস্তান্তর করা হয়। বাকিগুলোকেও পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। যদি দক্ষিণে রিকশার সংখ্যা হয় ৭ লাখ। সেই হিসেবে ঢাকা উত্তরে রিকশার সংখ্যা ৫ লাখ। কিন্তু সংস্থাটির মতে উত্তরে রিকশার সংখ্যা কত আছে তার সঠিক পরিসংখ্যান বলা মুশকিল। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, আমরা রিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসব। চলতি মাসেই এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ রিকশাকে নিবন্ধন দেয়া হবে। নীতিমালা মেনে রিকশার নিবন্ধন দেব। আর অবৈধ কোনো রিকশা চলাচল করতে দেব না। এরই মধ্যে অবৈধ ও অননুমোদিত রিকশার বিরুদ্ধে আমরা অভিযানও শুরু করে দিয়েছি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আকর্ষনীয় বেতনে নিটল-নিলয় গ্রুপে চাকরির সুযোগ

আকর্ষনীয় বেতনে নিটল-নিলয় গ্রুপে চাকরির সুযোগ

বিগত দুই সরকারের গাফিলতিতে হাম ছড়িয়ে পড়েছে

প্রধানমন্ত্রী বিগত দুই সরকারের গাফিলতিতে হাম ছড়িয়ে পড়েছে

রাজধানীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

রাজধানীতে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় বৃদ্ধা নিহত

ইরানে আইআরজিসির অভিযান, গ্রেপ্তার শতাধিক

ইরানে আইআরজিসির অভিযান, গ্রেপ্তার শতাধিক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App