ইরানের কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০৮:২২ এএম
ছবি : সংগৃহীত
চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই আবারও ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযান পরিচালনা করেছে। এ ঘটনার পর দ্বীপটিতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। একই সঙ্গে পাল্টা হামলার দাবি করেছে তেহরান, ফলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ছোড়া কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে পরিচালিত এ অভিযান ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের কথিত হামলার প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়া।
এর আগে সেন্টকম দাবি করেছিল, হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন : ইরানের দুই দ্বীপে মার্কিন বিমান হামলা
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান কুয়েতের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, তবে সেগুলো লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ব্যর্থ হয় বা ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি বাহরাইনের দিকে ছোড়া আরো তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপে তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল একটি ইরানি সামরিক নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজের দিকে ছোড়া ইরানের তিনটি হামলাকারী ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর বতসোয়ানার পতাকাবাহী একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারের ইঞ্জিন কক্ষে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। মঙ্গলবার ওই হামলার ভিডিওও প্রকাশ করেছে সেন্টকম। তবে এ বিষয়ে ইরান প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে বার্তাসংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ভোরে কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের আধা-সরকারি মেহর বার্তাসংস্থা জানায়, বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, কেশম দ্বীপের সুজা ও মাসেন এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই এলাকার মাঝামাঝি একটি জনবসতিহীন এলাকায় কোনো ধরনের প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। পরবর্তীতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বৃহত্তর কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা এখনো সফল হয়নি।
