ইরানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহব্যাপী অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই মার্কিন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার গুরুত্ব আরো বেড়েছে এবং সম্ভাব্য সংঘাতের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এমন অভিযান শুরু হলে তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আগের যেকোনো সংঘাতের তুলনায় আরো গুরুতর রূপ নিতে পারে।
গত সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা হিসেবে ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি জোরদার করায় নতুন সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা তৈরি হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা শুক্রবার জানান, পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত একটি বিমানবাহী রণতরী পাঠাচ্ছে। এর সঙ্গে হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ হামলা ও প্রতিরক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।
একই দিনে নর্থ ক্যারোলিনার একটি ঘাঁটিতে সেনাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, কখনও কখনও ভয় তৈরি করতে হয়। সেটাই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একমাত্র উপায়।
আরো পড়ুন : ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা, চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ
সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ইরানকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব বিকল্পই খোলা রেখেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন মতামত শুনলেও শেষ সিদ্ধান্ত জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রেসিডেন্টই নেবেন। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে পেন্টাগন।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার সময় মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করেছিল। জুন মাসে মিডনাইট হ্যামার নামে এক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেলথ বোমারু বিমান সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে গিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান কাতারে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে সীমিত পাল্টা হামলা চালিয়েছিল।
ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা
মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এবারকার পরিকল্পনা আগের তুলনায় আরো জটিল। দীর্ঘমেয়াদি অভিযানে পারমাণবিক স্থাপনার পাশাপাশি ইরানের রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অভিযানে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের কারণে মার্কিন বাহিনীর ঝুঁকি অনেক বেশি থাকবে এবং পাল্টা হামলা আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
এক কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি আশা করছে যে ইরান পাল্টা আঘাত হানবে, যা দীর্ঘ সময় ধরে পাল্টাপাল্টি হামলার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন ঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অভ্যন্তরীণ দমননীতির প্রসঙ্গ তুলে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তিনি সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক সমাধান না হলে পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ হতে পারে।
এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ভূখণ্ডে হামলা হলে তারা যেকোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যার মধ্যে জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং তুরস্ক উল্লেখযোগ্য।
এর মধ্যে বুধবার ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। বৈঠকের পর তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা অবশ্যই ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে এ আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
