×

যুক্তরাষ্ট্র

ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা, চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩০ পিএম

ইরানকে ট্রাম্পের কঠোর বার্তা, চুক্তি না হলে সামরিক পদক্ষেপ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো মেনে না নেয়, তবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব গ্রহণ না করলে কঠোর পরিণতির মুখোমুখি হতে পারে ইরান, এমন বার্তাই দিয়েছেন ট্রাম্প।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২-কে দেওয়া এক মন্তব্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তিনি বলেন, “হয় আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাব, অথবা আমাদের খুব কঠিন কিছু করতে হবে।”

এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা আলী লারিজানি ওমানের সুলতান হাইসাম বিন তারিক আল সাঈদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক মার্কিন-ইরান আলোচনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরো পড়ুন : ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টা, অভিযুক্ত রায়ান রাউথেরকে যাবজ্জীবন সাজা

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প। পার্শ্ববর্তী জলসীমায় একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করা হয়েছে, যার মধ্যে বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন রয়েছে। ইসরায়েলি চ্যানেল-১২ ও মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে আরো একটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। এতে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দিয়েছে। জানুয়ারি থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী যেকোনো সময় অভিযান চালাতে প্রস্তুত।

সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত শক্তি প্রয়োগে সক্ষম। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইরান আলোচনার টেবিলে এসে একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তি করবে।

গত মাসের শেষ দিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সামনে তিনটি প্রধান দাবি তুলে ধরে—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা।

ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এই দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করা ইরানের জন্য বোকামি হবে। তাঁর প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ায়, যেখানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল।

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ নীতি জোরদার করেছেন। এই নীতির মধ্যে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের চাপ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যদিও তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক জ্বালানি ব্যবহারের জন্য।

এর আগে গত জুনে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় সামরিক হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক আজ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ ব্যবসায়ীদের বৈঠক আজ

সিলেটে ঝড়-বৃষ্টি, অন্য অঞ্চলে তাপপ্রবাহের আভাস

সিলেটে ঝড়-বৃষ্টি, অন্য অঞ্চলে তাপপ্রবাহের আভাস

ইরানের হামলায় আরেক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

ইরানের হামলায় আরেক মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত

জুম্মার দিন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাইরেনের শব্দ

জুম্মার দিন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাইরেনের শব্দ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App