দুই শিবির নেতাকে গুলি, আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ ট্রাইব্যুনালের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলির ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন পুলিশ সুপারসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (২০ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
শুনানির শুরুতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন জানালেও তা খারিজ করে দেন ট্রাইব্যুনাল। পরে প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগ পড়ে শোনানো হয়। কাঠগড়ায় উপস্থিত আসামিদের কাছে দোষ স্বীকারের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন এবং ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন।
এরপর ট্রাইব্যুনাল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের নির্দেশ দেন এবং মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিন সকালে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। তারা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক।
অন্যদিকে পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার সাবেক ওসি মশিউর রহমান এবং এসআই মোখলেছ, জামাল ও মাজেদুল। তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীরা আদালতে প্রতিনিধিত্ব করছেন।
এর আগে গত ১৬ এপ্রিল আসামিপক্ষ অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করে শুনানি শেষ করে। অন্যদিকে ১২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির না করে দুই রাত ধরে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নাটক সাজিয়ে তাদের পায়ে গুলি করা হয়। এতে তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আহত স্থানে বালু ঢুকিয়ে কাপড় দিয়ে বেঁধে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। আহতদের পায়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাদের পা কেটে ফেলতে হয় বলে প্রসিকিউশন জানিয়েছে।
