কৃষিকার্ডেও মিলছে না ডিজেল, সেচ বন্ধ হয়ে বিপাকে কৃষক
মোস্তাক আহমেদ মনির, সরিষাবাড়ী (জামালপুর) থেকে
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম
ছবি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেলের জন্য ভিড়
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জ্বালানি তেলের সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রয়োজনীয় ডিজেল না পাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ ও সেচকাজ। অপরদিকে জ্বালানি তেল ঠিকমতো না পাওয়ায় যাত্রা বাতিল হচ্ছে যাত্রীবাহী বাসগুলোর। এতে চরম ভোগান্তি ও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে কৃষক ও বাসযাত্রীদের।
সরেজমিনে পাম্পগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, ডিজেল নিতে কৃষকদের দীর্ঘ সারি। কারও হাতে তেল নেওয়ার ক্যান বা বোতল, আবার কেউ শ্যালো মেশিনের ফুয়েল ট্যাংক নিয়ে অপেক্ষা করছেন। ফজর নামাজের পর থেকেই লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায় কৃষকদের। ডিজেল না থাকায় গত কয়েক দিন থেকে বন্ধ রয়েছে ডিজেলচালিত অধিকাংশ সেচ পাম্প। পানির অভাবে জমির মাটি শুকিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গায় ধানের চারা লালচে হয়ে মরে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে মাঠের এই ফাটল কেবল মাটির নয়, বরং কৃষকের বুকচেরা হাহাকার। সোনালি স্বপ্নের বদলে এখন তাদের চোখেমুখে কেবলই অন্ধকারের হাতছানি।
স্থানীয় কার্ডধারী কৃষক আজমত আলী, দিদার আলী, মোফাজ্জল হকসহ একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, এখন আমাদের শষ্যমাঠে কৃষিকাজের ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। জমি চাষ, সেচ এবং কৃষিযন্ত্র চালাতে ডিজেলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু তেলের সংকটে শাকসবজি, পেঁয়াজ, রসুন, ভুট্টা ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেলচালিত সেচযন্ত্র, পাওয়ার টিলার, ধান কাটার মেশিন ও ট্রাক্টর বন্ধ থাকায় অনেক জমির কাজ করতে পাচ্ছি না। কয়েক দিন ধরেই কৃষি কার্ড নিয়ে এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরেও প্রয়োজনীয় ডিজেল পাচ্ছি না। সেই ভোররাত থেকে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও অনেক সময় তেল না পাওয়ায় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে যে টুকুও তেল পাওয়া যায়, তা একেবারে প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

এদিকে তেল সংকটের কারণে যাত্রা বাতিল হচ্ছে বিভিন্ন গণপরিবহনগুলোর। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে দূরপাল্লার যাত্রীদের। তারাকান্দির বাস সার্ভিস আর এস ট্রাভেলসের ম্যানেজার রাজু আহাম্মেদ বলেন, তেল সংকটের কারণে আমরা ঠিক সময়মতো বাস সার্ভিস দিতে পারছি না। তেল আসলে এক দিন আগে থেকেই পাম্পে বাসগুলো সিরিয়ালে রাখতে হয়। যার কারণে প্রায়ই যাত্রা বাতিল করতে হয়। এতে করে ভোগান্তি ও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে যাত্রীরা।
নূরজাহান ফিলিং স্টেশনের মালিক মো. সুমন মিয়া বলেন, আমরা সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি, যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। এই ডিজেল ট্রাক, বাস, বিভিন্ন যানবাহন ও কৃষকদের দেওয়া হয়।
অনেক সময় লম্বা লাইনের কারণে তেল শেষ হয়ে গেলে সারাদিন লাইনে থাকার পরও অনেক কৃষককে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়, যা আমাদের জন্যই দুঃখজনক ও কষ্টকর। আবার অনেক সময় তেল না পেয়ে পাম্পে ভাঙচুরও চালায় গ্রাহকেরা।
এ বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অনুপ সিংহ বলেন, সকল কৃষককে ফুয়েল কার্ডের জন্য কৃষি অফিসে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ২ শতাধিক কৃষক আবেদন করেছেন। ডিজেল সংকটের কারণে কৃষি খাতে সেচ প্রকল্প, ট্রাক্টর ও অন্যান্য মেশিনারিজ যন্ত্র চালানোর জন্য ডিজেল প্রয়োজন। আর সামনে ডিজেলের প্রয়োজন আরও বেশি হবে, চাপ পড়বে। আশা করি ডিজেলের সমস্যা অতি দ্রুত সমাধান হবে।
