পাকিস্তানে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত ২৩
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ মে ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
পাকিস্তানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে দফায় দফায় অভিযান চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ২৩ জঙ্গি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক কমান্ডারও রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব অভিযান চালানো হয়। গত ৪৮ ঘণ্টায় দত্তা খেল, স্পিনওয়াম এবং বান্নু অঞ্চলে এসব অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ধারাবাহিক এসব অভিযানে একাধিক অবস্থান লক্ষ্য করে কার্যকরভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তীব্র গোলাগুলির পর ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ গোষ্ঠীর আরও ২৩ জন সদস্য নিহত হয়েছে।
দেশটিতে ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ শব্দটি নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সদস্যদের বোঝাতে ব্যবহার করা হয়। আর ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ শব্দটি বেলুচিস্তানে সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে জান মীর নামের এক শীর্ষ কমান্ডারও রয়েছেন। তিনি তোওর সাকিব নামেও পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু ওই অঞ্চলে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ওপর বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মীর নিরাপত্তা বাহিনীর ওয়ান্টেড তালিকায় ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে সরকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল। এসব অপরাধের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ নাগরিকদের হত্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তল্লাশি অভিযানের সময় সন্ত্রাসীরা ব্যবহার করছিল এমন জটিল ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ ও বাঙ্কার শনাক্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া নিহতদের কাছ থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিপুল বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
বাহিনী জানায়, এসব এলাকায় লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ পরিকল্পনার অধীনে নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো পূর্ণগতিতে কাজ চালিয়ে যাবে। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
ডন জানিয়েছে, বিপুল সন্ত্রাসী নিহত হওয়া সত্ত্বেও ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইসলামাবাদভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী হামলা ৩৪ শতাংশ বেড়েছে এবং সন্ত্রাস-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ২১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় গত বছরে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একটি নিরাপত্তা গবেষণা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে যেখানে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬২০। কিন্তু ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ হাজার ৩৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।
