পদত্যাগের ঘোষণা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিয়ার স্টারমার। তবে তিনি নিজের শর্তেই বিদায় নেবেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (১৭) প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের বরাতে এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল।
এর আগে, শনিবার সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদক ড্যান হজেসকে মন্ত্রিসভার এক সদস্য জানান, ‘রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝেন স্টারমার। চলমান বিশৃঙ্খলা আর বেশিদিন চলতে দেয়া যাবে না, তিনি এটা ভালোভাবেই অনুধাবন করতে পারছেন। স্রেফ মর্যাদার সঙ্গে নিজের ইচ্ছেমতো সময়ে পদত্যাগ করতে চান স্টারমার।’
মন্ত্রিসভার আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ‘পদত্যাগের ঘোষণা ঠিক কবে নাগাদ আসবে তা এখনও স্পষ্ট না। স্টারমারের কিছু প্রবীণ সহযোগী তাকে এখনই কোনো মন্তব্য না করার পরামর্শ দিচ্ছেন।’
তাদের মতে, ‘মেকারফিল্ড উপনির্বাচনের প্রাথমিক ভোট সমীক্ষা ও প্রচারের গতিপ্রকৃতি সামনে না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।’
নিজস্ব রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরে তীব্র বিদ্রোহের মুখে পড়ে কার্যত খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ক্ষমতাসীন দলের আইনপ্রণেতাদের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম অসন্তোষ এখন প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে; একের পর এক সংসদ সদস্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ওপর থেকে নিজেদের আস্থা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছেন।
রাজনৈতিক এই অস্থিরতার পারদ আরও চড়েছে সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের আকস্মিক পদত্যাগে। গত শুক্রবার তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে স্টারমার মন্ত্রিসভার মোট চারজন মন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে বড় ধরনের পরাজয়ের পর এমনিতেই লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, এর ওপর মন্ত্রীদের এই ধারাবাহিক পদত্যাগ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
এমন চরম সংকটের মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক চিফ অব স্টাফ মরগ্যান ম্যাকসুইনি অবশ্য স্টারমারকে এখনই হাল না ছেড়ে আরও কিছুদিন দায়িত্বে টিকে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন সরকারের এক মন্ত্রী। ম্যাকসুইনির মতে, নেতৃত্বের এই লড়াই যদি শেষ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি রূপ নেয় এবং প্রতিপক্ষ অ্যান্ডির পরাজয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে পরিস্থিতির মোড় যেকোনো সময় ঘুরে যেতে পারে।
