×

আন্তর্জাতিক

ডব্লিউএইচও

ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম

ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি

ছবি: সংগৃহীত

ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসের মারাত্মক বিস্তারের কারণে জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ( ডব্লিউএইচও)।

রোববার (১৭ মে) সংস্থাটি বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা বিবিসি।

সংস্থাটি বলেছে, ‘ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যেখানে প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তা মহামারীজনিত জরুরি অবস্থার মানদণ্ড পূরণ করে না।’

তবে এতে সতর্ক করা হয়েছে, ‘বর্তমানে যা শনাক্ত ও রিপোর্ট করা হচ্ছে, তার চেয়ে এটি সম্ভাব্যভাবে "অনেক বড় একটি প্রাদুর্ভাব" হতে পারে এবং এর স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি রয়েছে।’

স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘ইবোলার বর্তমান স্ট্রেইনটি বুন্দিবুগিও ভাইরাসের কারণে হয়, যার জন্য কোনো অনুমোদিত ওষুধ বা টিকা নেই।

ইবোলার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে: 

জ্বর, পেশী ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা এবং এর পরে বমি, ডায়রিয়া, ফুসকুড়ি ও রক্তপাত দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়া এবং স্বর্ণখনির শহর মঙ্গওয়ালু ও রুয়ামপারা সহ তিনটি স্বাস্থ্য অঞ্চল জুড়ে এখন পর্যন্ত পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া আটটি ভাইরাসে আক্রান্তের ঘটনা রয়েছে এবং এর পাশাপাশি অন্যান্য সন্দেহভাজন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।’

দেশটির রাজধানী কিনশাসায় ভাইরাসটির একটি সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে তিনি ইতুরি থেকে ফেরা একজন রোগী।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘ভাইরাসটি ডিআর কঙ্গোর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিবেশী উগান্ডায় দুটি নিশ্চিত সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। উগান্ডার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মারা যাওয়া ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তির কোভিড-১৯ পরীক্ষা পজিটিভ এসেছিলো।’

এক বিবৃতিতে উগান্ডা সরকার জানিয়েছে, ‘মৃত রোগীটি কঙ্গোর নাগরিক ছিলেন এবং তাঁর মরদেহ ইতোমধ্যে ডিআর কঙ্গোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।’

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ‘বর্তমানে এম২৩ বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা পূর্বাঞ্চলীয় শহর গোমায় একটি পরীক্ষাগারে একজনের ইবোলা শনাক্ত হয়েছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ‘ডিআর কঙ্গোতে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মানবিক সংকট, এর সাথে জনসংখ্যার উচ্চ চলাচল, সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুটির শহুরে অবস্থান এবং ওই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক অপরিকল্পিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উপস্থিতি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।’

বাণিজ্য ও যাতায়াতের সুবিধার কারণে ডিআর কঙ্গোর সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে ইবোলা সংক্রমণের ক্ষেত্রে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ডিআর কঙ্গো এবং উগান্ডাকে বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি দুই দেশকেই রোগ পর্যবেক্ষণ, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং সংক্রমণ-প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদারে অবিলম্বে 'জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র' স্থাপনের তাগিদ দিয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার উপায় হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, শনাক্ত হওয়া রোগীদের অবিলম্বে আইসোলেশনে (বিচ্ছিন্নকরণ) নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে, কমপক্ষে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে করা দুটি 'বুন্দিবুগিও ভাইরাস-নির্দিষ্ট' পরীক্ষার ফলাফল নেগেটিভ না আসা পর্যন্ত রোগীদের চিকিৎসাধীন রাখা উচিত। এছাড়া, যেসব অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিশ্চিতভাবে রোগী পাওয়া গেছে, সেসব দেশের সরকারগুলোকে নজরদারি এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদন আদান-প্রদান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আরো বলেছে, ‘আক্রান্ত অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর উচিত নয় তাদের সীমান্ত বন্ধ করা বা ভ্রমণ ও বাণিজ্যে বিধিনিষেধ আরোপ করা, কারণ “এই ধরনের পদক্ষেপগুলো সাধারণত ভয়ের কারণে নেওয়া হয় এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই”।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ডক্টর টেড্রোস আধানম গেব্রেয়াসুস সতর্ক করে বলেছেন, ‘এই প্রাদুর্ভাবের "প্রকৃত আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা এবং ভৌগোলিক বিস্তার" নিয়ে বর্তমানে "উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা" রয়েছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে (ডিআর কঙ্গো) প্রথম ইবোলা ভাইরাস আবিষ্কৃত হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের ধারণা, এই ভাইরাসটি মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে ছড়িয়েছিল। দেশটিতে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসজনিত রোগের এটি ১৭তম প্রাদুর্ভাব।

এই মারাত্মক রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক তরল (রক্ত, লালা ইত্যাদি) এবং শরীরের ক্ষতস্থানের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত রোগীর শরীরে এর ফলে তীব্র রক্তপাত এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার মতো ভয়াবহ লক্ষণ দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘ইবোলার কোনো প্রমাণিত প্রতিকার নেই এবং এর গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ।’

আফ্রিকা সিডিসি এর আগে জানিয়েছিল, ‘রুয়ামপারা ও বুনিয়ার শহুরে পরিবেশ এবং মঙ্গওয়ালুতে খনি কার্যক্রমের কারণে আরও ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।’

স্বাস্থ্য সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডক্টর জিন কাসেয়া আরো বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ‘উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যা চলাচল’-এর কারণে আঞ্চলিক সমন্বয়ও অপরিহার্য ছিলো।’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৫০ বছরে আফ্রিকার দেশগুলোতে এই প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবটি ঘটেছিলো ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যবর্তী সময়ে; সে সময় দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৩০০ জন প্রাণ হারান। এমনকি গত বছরও দেশটির একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কেন গোয়ার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন বিদেশি পর্যটকরা?

কেন গোয়ার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছেন বিদেশি পর্যটকরা?

সব মামলায় আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

সব মামলায় আইভীর জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি

ডব্লিউএইচও ইবোলা প্রাদুর্ভাবে কঙ্গোতে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা জারি

টাইগারদের বোলিং তোপে বিধ্বস্ত পাকিস্তান

সিলেট টেস্ট টাইগারদের বোলিং তোপে বিধ্বস্ত পাকিস্তান

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App