লেবাননে নতুন সীমারেখা বসাচ্ছে ইসরায়েল, অতিক্রম করলেই হামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে গাজার মতো ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, এই সীমারেখা অতিক্রম করলে সরাসরি সামরিক হামলা চালানো হবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ‘ইয়েলো লাইন’ অনুযায়ী দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। পাশাপাশি উত্তর দিক থেকে আসা সন্দেহভাজন যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলার কথাও জানিয়েছে তারা।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, এরই মধ্যে এই সীমারেখা অতিক্রম করে সেনাদের দিকে এগিয়ে আসায় সন্দেহভাজন হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ লেবাননে ‘ইয়েলো লাইনের’ দক্ষিণে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনারা কিছু ‘সন্ত্রাসী’ শনাক্ত করে, যারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভেঙে উত্তর দিক থেকে বাহিনীর দিকে অগ্রসর হচ্ছিল এবং তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম লেবাননে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক সীমারেখার ঘোষণা দিল ইসরায়েল। এর আগে গাজায় ২০২৩ সালের যুদ্ধবিরতির পর একটি ‘ইয়েলো লাইন’ চালু করা হয়েছিল, যা অঞ্চলটিকে কার্যত দুটি সামরিক জোনে ভাগ করে। যেখানে একটি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে এবং অন্যটি হামাসের নিয়ন্ত্রণে।
এদিকে যুদ্ধবিরতি থাকলেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে। এসব হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। একই সময়ে সীমান্তবর্তী কিছু কৌশলগত এলাকা দখলের অভিযোগও উঠেছে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ইউনিফিলের ওপর হামলায় এক ফরাসি শান্তিরক্ষী নিহত এবং আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন।
রাজনৈতিকভাবে যুদ্ধবিরতির পর লেবানন স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই উদ্যোগ এগিয়ে নিতে আগ্রহী হলেও হিজবুল্লাহ এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে বলে জানা গেছে।
