গৌতম রায়ের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ১৬ বছরেও হত্যাকাণ্ডের বিচার পায়নি পরিবার
তিলক রায় টুলু, পূর্ধলা (নেত্রকোনা) থেকে
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
ঢাকার বংশাল থানার অপারেশন অফিসার এস আই গৌতম রায় হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পরেও বিচার পায়নি তার পরিবার । আজ তাঁর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১০ সালের এই দিনে পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে রাতে ওয়ারীর বাসায় ফেরার পথে সূত্রাপুর থানার লাল মোহন সাহা স্ট্রিট এলাকায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করে । আজ ১৯ এপ্রিল তার হত্যাকাণ্ডের ১৬ বছর পূর্ণ হলো । এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য গত ১৬টি বছর তার পরিবার দাবি জানিয়ে আসলেও কিছুতেই কিছু হলো না।
এস আই গৌতম রায় জীবিত অবস্থায় অনেক মামলার তদন্ত করে রহস্য উদঘাটন করে পুরস্কারও পেয়েছেন বেশ কয়েকবার । সেই মানুষটিকে দায়িত্বরত অবস্থায় হত্যা করে পালিয়ে গেছে খুনিরা, অথচ ১৬ বছর পরেও পুলিশ তার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য ও খুনিদের খুঁজে বের করতে পারেনি। গৌতম রায় আজ নিজেই সংবাদের শিরোনাম। গৌতম রায়ের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ বাজারে। তিনি চাকুরীর সুবাদে ঢাকার বংশাল থানায় অপারেশন অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
২০১০ সালের ১৯ এপ্রিল এস আই গৌতম রায় পেশাগত দায়িত্ব শেষে রাতে ওয়ারীর বাসায় ফেরার সময় সূত্রাপুর থানার লাল মোহন সাহা স্ট্রিট এলাকায় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। পরে রাতেই তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, পুলিশের ভারপ্রাপ্ত আইজিপি নববিক্রম ত্রিপুরা, র্যাবের ডিজি হাসান মাহমুদ খন্দকার ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে যান এবং অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারে আদেশ দেন।
এ ব্যাপারে সূত্রাপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এরপর চলে র্যাব ও পুলিশের মধ্যে আসামি ধরা নিয়ে প্রতিযোগিতা। হত্যাকাণ্ডটি নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসাবে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ক্ষোভ ও হতাশা তুলে ধরে নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের প্রশ্ন মোট ৪৭ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ২ জনের সাক্ষ্য নিতে ১০ বছর লেগে যায়, তবে বাকী সাক্ষীদের সাক্ষ্য নিতে কত বছর লাগবে? তাছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার না হওয়ায় খুনি কারা বা খুনিদের শাস্তি বা কিভাবে নিশ্চিত হবে তা নিয়েই আশ্বস্ত হতে পারছে না নিহত গৌতম রায়ের পরিবার।
ঘটনার একমাস পর তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার দাবি করে ছিলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু সিআইডি’র ল্যাবে করা আলামত পরীক্ষার ফল বলছে ভিন্ন কথা। পুলিশ বিস্ফোরক পরীক্ষার জন্য যে দুটি অস্ত্র ও গুলি (তিনটি) ও গুলির খোসা (তিনটি) পাঠিয়েছেন সেগুলি পরীক্ষা করে দেখা গেছে এই সব গুলি ও দুটি অস্ত্র (উদ্ধার করা ) থেকে ছোড়া হয়নি।
এস আই গৌতম রায়ের ছোট ভাই সাংবাদিক তিলক রায় জানান আমার দাদার হত্যাকাণ্ডটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। যে পিস্তল দিয়ে আমার দাদাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সেই পিস্তল পুলিশ আজও উদ্ধার করতে পারেনি। প্রত্যক্ষদর্শী নাইটগার্ড ও বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী থাকার পরেও আসল অপরাধীচক্রকে পুলিশ চিহ্নিত করতে পারেনি। তাই আমরা বারবার অভিযোগ পত্র নিয়ে আপত্তি তুলেছিলাম। যেহেতু আমরা মামলার বাদী না, তাই পত্রিকার মাধ্যমে আমরা এ আপত্তি তুলে ছিলাম।
প্রসঙ্গত গৌতম রায় নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজ পত্রিকার সাংবাদিক ছিলেন এ ছাড়া গৌরীপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যও ছিলেন । তার এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবীতে মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে বেশ কয়েকবার। কিন্তু বিচার না পেয়ে এলাকা বাসীও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এসআই গৌতম রায়ের ১৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জে গীতা পাঠ, নাম কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
