×

আন্তর্জাতিক

যে কারণে গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগ করলেন মেলিন্ডা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৪, ০৬:৪০ পিএম

যে কারণে গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পদত্যাগ করলেন মেলিন্ডা

মেলিন্ডা গেটস। ছবি: সংগৃহীত

গেটস ফাউন্ডেশন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানিয়েছেন মেলিন্ডা গেটস। তিনি বলেন, ২০২২ সালে ডবস বনাম জ্যাকসন মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়ে গর্ভপাতের অনুমতির অধিকার অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল। এমন সিদ্ধান্তের পর মার্কিন নাগরিকদের প্রজননে আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন তিনি। এটিই তার গেটস ফাউন্ডেশন ত্যাগের কারণ হিসেবে জানিয়েছেন মেলিন্ডা। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

মেলিন্ডা বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গর্ভ নিরোধকের উন্নতির জন্য কাজ করেছি। তবে ডবস-পরবর্তী সময়ে আমি নিজ দেশে এ বিষয়ে কাজ করার তাগিদ অনুভব করি।’

গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্ক টাইমসের অপ-এডে এ কথা জানিয়েছেন মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে অর্থের অভাবে থাকা যে সংগঠনগুলো নারীর অধিকারের জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করে যাচ্ছে, আমি তাদের সহযোগিতা করতে চাই। আমি একবার হলেও তাদের সাহায্য করতে চাই।’

বিশ্বের অন্যতম ধনী ও শীর্ষ সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ থেকে ফ্রেঞ্চ গেটস এ মাসের শুরুর দিকে পদত্যাগ করেছেন। 

তিনি জানান, ৭ জুন হবে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে থাকা দাতব্য সংস্থাটিতে তার শেষ দিন। 

তিনি আরো জানান, বিবাহবিচ্ছেদের চুক্তির অংশ হিসেবে গেটস ফাউন্ডেশন থেকে পাওয়া ১ হাজার ২৫০ কোটি ডলার (১২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার) তিনি জনহিতকর কাজের অংশ হিসেবে নারী ও মেয়েদের উন্নয়নে ব্যয় করবেন। এ উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ( ২৮ মে) তিনি এ বিষয়ে নতুন পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস বলেছেন, তার সংস্থা পিভোটাল ভেঞ্চারসের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে নারীদের অধিকার বিষয়ক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের মধ্যে ১ হাজার কোটি ডলার (১ বিলিয়ন ডলার) দান করবেন। এতে নারীর প্রজনন অধিকারের জন্য লড়াই করা সংস্থাগুলোকে অনুদান দেবেন ২০ কোটি ডলার (২০০ মিলিয়ন ডলার)।

এর মধ্যে রয়েছেন ‘দ্য নাইটিন্থ’ নামের একটি অলাভজনক সংবাদ সংস্থা, যারা লিঙ্গ নীতির ওপর প্রতিবেদন তৈরিতে কাজ করে। 

কোম্পানিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এমিলি র‍্যামশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক্সে (সাবেক টুইটার) দেয়া এক পোস্টে বলেছেন, ‘কখনো কখনো স্বপ্ন সত্যি হয়।’ 

কোম্পানির ওয়েবসাইটে এক ব্লগ পোস্টে তিনি বলেন- ‘এই সমর্থন আমাদের রাজনীতি ও নীতির প্রচারণাকে শক্তিশালী করবে। আমাদের শ্রোতা ও ভবিষ্যতের জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ এবং শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ভিত্তি স্থাপন করবে।’

অনুদানের অন্তর্ভুক্ত দ্য ইন্সটিটিউট ফর উইমেনস পলিসি রিসার্চ নামের আরেক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গেটসের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নারীদের স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং লৈঙ্গিক ব্যবধানকে সংকুচিত করে তাদের কাজকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।

আইডব্লিউপিআর প্রেসিডেন্ট ও সিইও ড. জামিলা টেলর এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের কাছ থেকে এই সমর্থন পেয়ে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত। যারা নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করে, তাদের মধ্যে মেলিন্ডা একজন সত্যিকারের অগ্রগামী।’

ফ্রেঞ্চ গেটস নারীদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তাকারী সংস্থাগুলোকে ২৫ কোটি ডলার (২৫০ মিলিয়ন ডলার) পুরস্কার দেবেন। ফ্রেঞ্চ গেটস আরো বলেন, তিনি ১২ জন আইনজীবী এবং প্রভাবশালী নেতাদের একটি গ্রুপকে মোট ২৪০ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবেন (প্রত্যেকের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার) যাতে তারা তাদের সংগঠনগুলোকে প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে পারে।

গেটস জানান, তার সেই দলে রয়েছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন, মাতৃস্বাস্থ্য বিষয়ক আইনজীবী অ্যালিসন ফেলিক্স এবং আফগান নারী শিক্ষা কর্মী শাবানা বাসিজ-রাসিখ।

ফ্রেঞ্চ গেটস তার অপ-এডিতে বলেন, ‘সহযোগিতার এই বিস্তৃত পরিসরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে আমি অভিনব কৌশল নিয়ে কাজ করছি।’ 

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য দাতব্য প্রতিষ্ঠানের অদূরদর্শিতা তাকে হতাশ করেছে। তিনি আমেরিকার উচ্চ মাতৃমৃত্যুর হারকে ‘অসংবেদনশীল’ বলে অভিহিত করেছেন।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অনুদানের শতকরা মাত্র ২ শতাংশ যায় নারী ও মেয়েদের জন্য কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। তবে তিনি বলেন, নারী স্বাস্থ্যে এই বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্যভাবে অবদান রাখবে।

তার অপ-এডিতে মেলিন্ডা বলেছেন, গেটস ফাউন্ডেশনে তাকে একবার বলা হয়েছিল, অন্য কেউ নির্ধারণের আগেই যেন তিনি (মেলিন্ডা) সেখানে নিজের এজেন্ডা নির্ধারণ করেন। সে কারণেই তিনি গেটস ফাউন্ডেশন ছাড়ার পথ বেছে নিয়েছেন।

আরো পড়ুন: ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়ার ইঙ্গিত ফ্রান্সের

তিনি আরো বলেন, ‘যেহেতু এই অসাধারণ সুযোগটি পেয়েছি, তাই নারীদের সাহায্য করবে এবং তাদেরও নিজেদের এজেন্ডা নির্ধারণে সহায়তা করবে এমন নীতি গ্রহণে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App