চলচ্চিত্র শিল্প এখন একটি সার্কাস: নাক্কাশ খালিদ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৪৮ পিএম
জুলিয়েট লার্থের ক্যামেরায় নাক্কাশ খালিদ। ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
নাক্কাশ খালিদ হলিউডের নতুন ও প্রতিভাবান লেখক-পরিচালকদের একজন। যার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘ইন ক্যামেরা’ ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই ছবিটিতে খালিদ শোবিজের ভেতরকার নানান পারফর্মেটিভ দিক নিয়ে তার বিদ্রূপাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। দ্য গার্ডিয়ানকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি চলচ্চিত্রের প্রকৃতি, শিল্পের অবস্থান এবং নিজের চিন্তাভাবনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
চলচ্চিত্র হিসেবে ইন সিনেমা
খালিদের নতুন চলচ্চিত্র ‘ইন সিনেমা’ শুধুমাত্র একজন তরুণ অভিনেতার চাকরি পাওয়ার সংগ্রামের গল্পই নয়, বরং এটি শিল্প এবং সমাজের নানান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়েও কথা বলেছে। খালিদ ছবিটি সম্পর্কে বলেন, এটি এক ধরনের গোলকধাঁধার মতো রূপকথার গল্প, যেখানে একজন অভিনেতা শিল্পের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে নিজের পথ খুঁজে বের করেন। তবে এটি আসলে তার চেয়েও বেশি কিছু নিয়ে কথা বলেছে।

চলচ্চিত্রটিতে নায়ক ভূমিকায় এডেন (নভান রিজওয়ান) লন্ডনে অভিনয়ের সুযোগ পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। একটি দৃশ্যে, তিনি একটি টুথপেস্ট বিজ্ঞাপনের জন্য অডিশন দিচ্ছেন এবং তাকে একই লাইন বারবার বলতে বলা হচ্ছ, যতক্ষণ না সেই শব্দগুলোর অর্থই হারিয়ে যায়। অন্য একটি অডিশনে, তাকে 'সন্ত্রাসী' চরিত্রে অভিনয় করতে বলা হয়, যেখানে তাকে একটি বিশেষ ধরনের 'অ্যাকসেন্টে' কথা বলতে বলা হয়, কিন্তু তিনি তা করতে রাজি হন না।
প্রতিনিধিত্বের টানাপড়েন
নাক্কাশ খালিদের মতে, প্রতিনিধিত্বের ধারণা এখন একটি ক্ষতিকর প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যেভাবে মানুষ প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আলোচনা করে, তা হাস্যকর এবং অস্বস্তিকর। এটি আসলে কারো জন্য মুক্তি বা সিস্টেমিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারবে না।’
খালিদ আরো উল্লেখ করেন, ব্রিটেনে প্রথম ব্রিটিশ এশিয়ান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া একটি 'প্রতিনিধিত্বের বিজয়' হিসেবে দেখা হলেও তা প্রকৃতপক্ষে নিপীড়িতদের জন্য কোনো সুবিধা নিয়ে আসেনি।
শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং সমালোচনা
একসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কাজ করলেও খালিদ তার পিএইচডি সম্পন্ন না করেই চলচ্চিত্র নির্মাণের পথে আসেন। ‘ইন সিনেমা’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য তিনি মাত্র ২৬ বছর বয়সে লিখে ফেলেছিলেন এবং ২ বছর পর তা শুট করেন।

খালিদ বলেন, ‘আমি নিজেকে বলেছিলাম, এটি সম্ভবত আমার প্রথম এবং একমাত্র চলচ্চিত্র হতে যাচ্ছে। আমি এটিকে একেবারে আমার নিজের মত করে তৈরি করতে চেয়েছিলাম। যদি এই একটি চলচ্চিত্রের পর আর কখনো সিনেমা নির্মাণ করতে না পারি, তাও আমি তৃপ্ত থাকব।’
শিল্পের প্রতি কৌতুকপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি
খালিদ চলচ্চিত্র শিল্পকে 'সার্কাস' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং হাস্যকরভাবে উল্লেখ করেন, ‘আমি ভেবেছিলাম এক সার্কাস থেকে বেরিয়ে এসেছি, যেটি ছিল একাডেমিয়া, কিন্তু আমি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সার্কাসে এসে পড়েছি।’
তার এই মজার মন্তব্য তার ছবির বিদ্রূপাত্মক ও তীক্ষ্ণ রূপকে আরো স্পষ্ট করে তুলে ধরে, যা সহজেই বোঝা যায় না।
আরো পড়ুন: হায়াও মিয়াজাকির ঝুলিতে নতুন সাফল্য
সাক্ষাৎকারের শেষের দিকে খালিদ জানান, তিনি একজন পেশাদার মানুষের মতো পোশাক পরা শুরু করেছেন কারণ এটি তাকে আরো দায়িত্বশীলতার কথা মনে করিয়ে দেয়। তার দাদার পুরানো টাই পরে সাক্ষাৎকারে আসা খালিদের মতে, শিল্পে থাকতে হলে নিজেকে মাঝে মাঝে এমন ভান করতে হয় যেন সবকিছু সঠিকভাবে চলছে, কোথাও কোন সমস্যা নেই।
নাক্কাশ খালিদের ‘ইন সিনেমা’ চলচ্চিত্রটি ৬ সেপ্টেম্বর থেকে প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে।
অনুবাদ: দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে
