×

শিক্ষা

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ পিএম

রাবিতে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভাইভা বোর্ডের সুপারিশকৃত দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘যোগ্য’ প্রার্থীকে বাদ দিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছে। 

এ ঘটনায় ভাইভা বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. ইস্রাফিল মেধাতালিকার চূড়ান্ত ফলাফলে সই করেননি। এমন জালিয়াতির পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে শিক্ষক নিয়োগটি অনুমোদন পায়।

বাদ পড়া ওই নিয়োগপ্রত্যাশী প্রার্থীর নাম ড. এ সালাম অনিয়ম ও দুর্নীতির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের লিগ্যাল সেলে ই-মেইলযোগে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ থেকে ২০০৮ স্নাতক ও ২০০৯ সালে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৪ সালে এমফিল এবং ২০১৯ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ দুটি স্বর্ণপদকও পান। এছাড়া একটি গবেষণা পুস্তকসহ বেশকিছু গবেষণা আর্টিকেল রয়েছে তার।

নিয়োগ বোর্ডের সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয় ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, 'রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগে তিনজন প্রভাষকের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেই বিজ্ঞপ্তিতে নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি।'

এরপর নতুন করে আবার তিনজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত বছরের ৭ আগস্ট তিনজন প্রভাষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই পরীক্ষায় মোট ৪৩ জন প্রার্থী অংশ নেন। নিয়ম অনুযায়ী, পদ সংখ্যার তিনগুণ প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়। এ হিসেবে ৯জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় ডাক পাওয়ার কথা।

তবে আগে একবার তিনজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ায় উর্দু বিভাগের প্ল্যানিং কমিটির চিঠি ও রেজিস্ট্রার দপ্তরের নির্দেশনায় নিয়োগ বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়, মোট ছয়জনকে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হবে। এই হিসেবে ফলাফলের ভিত্তিতে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ১৮জন নিয়োগ প্রত্যাশীকে মনোনীত করা হয়। মৌখিক পরীক্ষার পারফর্ম্যান্স এবং একাডেমিক ক্যারিয়ার বিবেচনায় ছয়জন প্রার্থীর নাম ক্রম অনুযায়ী সাজানো হয় এবং নিয়োগের সুপারিশ করা হয়।

সূত্রগুলো আরো জানায়, 'নিয়োগটি সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে মুঠোফোনে কল করে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাবি অধ্যাপক মো. ইস্রাফিলকে আবার ক্যাম্পাসে আনা হয়। এরপর তাকে জানানো হয়, ছয়জন নয়, তিনজনকে প্রভাষক হিসেবে তারা নিয়োগ দেবেন। এ সময় নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য তিনজনের চূড়ান্ত মেধাতালিকায় সই করতে গিয়ে দেখেন, নির্বাচিত ও সুপারিশকৃত একজন প্রার্থীর ক্রম পরিবর্তন করা হয়েছে। দ্বিতীয়স্থান অর্জনকারী প্রার্থীর জায়গায় চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থীর নাম ঢোকানো হয়েছে। সেই মর্মে তাকে চূড়ান্ত মেধা তালিকায় সই করতে বলা হয়, কিন্তু তিনি তখন অনিয়মের অভিযোগ তোলেন এবং প্রতিবাদ জানান। ওই শিক্ষক চূড়ান্ত মেধা তালিকায় সই না করে শুধু হাজিরা খাতায় সই করে চলে আসেন। এসব আপত্তি উপেক্ষা করেই গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেটে নিয়োগটি অনুমোদন পায়।'

এ বিষয়ে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল বলেন, 'প্রথমে তিনজন প্রভাষক নিয়োগ হওয়ার কথা ছিল। পরে নিয়োগ বোর্ডের বাকি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন, ছয়কে নিয়োগ দেওয়া হবে। সামগ্রিক দিক বিবেচনায় নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ছয় প্রার্থীর নাম ক্রমানুসারে সাজানো হয়। তখন কেউ দ্বিমত বা আপত্তি জানাননি। ছয়টি পদ সংখ্যার বিপরীতে মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী মোট ১৮ জনের মধ্যে এদের নির্বাচিত করা হয়। '

অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল বলেন, ‘আমি ঢাকা চলের আসার পর আবার আমাকে ক্যাম্পাসে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তারা জানায় ছয়জনকে নিতে পারছেন না, তিনজনকেই নিতে হবে। যদি ছয়জনকে নিতে না পারেন, তখন ফাইলপত্র দেখে কেন ছয় জনের সিদ্ধান্ত হলো। ভিসি, প্রো-ভিসি, রেজিস্ট্রার, এত বড় বড় মাথার মানুষ কী বুঝে সিদ্ধান্ত নিলেন। তখন ছয়টা হলে এখন তিনটার প্রসঙ্গ কেন? যাদের আমরা বঞ্চিত করছি, এটা তো ঠিক হচ্ছে না। এটা আমার একটা প্রশ্নের জায়গা ছিল।’  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিশেষজ্ঞ শিক্ষক আরও বলেন, ‘তারা তিনজন নিলেন। যিনি সেকেন্ড পজিশনে ছিলেন, তাকে স্কিপ করে চতুর্থ পজিশনে যিনি ছিলেন, তাকে অগ্রাধিকার দিলেন। তখন আমি এটার প্রতিবাদ করে ভিসি স্যারকে বলেছিলাম, স্যার আপনি নিজেই তো প্রার্থীদের নাম লিখেছিলেন। কার নাম প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়...রাখা হবে সকলের সম্মতিতে আমরা নির্ধারণ করেছিলাম। এখানে বিবেচনা ছিল ভাইভার পারফর্ম্যান্স ও একাডেমিক ক্যারিয়ার। কেউ কোনো দ্বিমত জানায়নি। এখন কিসের বিবেচনায় তাকে আমরা স্কিপ করছি। সেটি আমার প্রশ্নের জায়গা ছিল। আমি বলেছিলাম, স্যার এটা বোধহয় উচিত হচ্ছে না। তখন তারা বলার চেষ্টা করেছেন, যেহেতু তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাকে প্রায়োরিটি দেওয়া আরকি। তখন ভাইস চ্যান্সেলর একটা কথা বলেছিলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করলে এটা শোভনীয় হয় না, কিন্তু সামগ্রিক কথা চিন্তা করে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।’ স

বাদ পড়া ওই নিয়োগ প্রত্যাশী ড. এ সালাম বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে নির্বাচিত হয়েও পরে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া, এটা অবশ্যই বড় ধরনের জালিয়াতি। আমার সঙ্গে বেইনসাফি করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্বিবেচনা এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান অভিযোগকারী।

উর্দু বিভাগের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, ‘বিগত নকীব প্রশাসন তাদের জামায়াত-শিবির সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ দিতে নানা আয়োজন করেছে। তার উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। তিন পদের বিপরীতে আঠারোজনের ভাইভা নেওয়া হয়েছে। আবার চূড়ান্ত শিক্ষক মেধাতালিকায় বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের সই ছাড়াই নিয়োগ কাউ শেষ করা হয়েছে। এটি কার্যত অনিয়ম করা হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক উপাচার্য এবং নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘যেখানে অনিয়ম হয়নি, সেখানে ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। অভিযোগ যে কেউ করতে পারে, সংগত কারণে যাদের হয়নি তাদের তো অভিযোগের শেষ নেই। কাজেই ব্যাখ্যা করার কিছু নেই। এগুলো নিয়ে যদি কোনো কনসার্ন বডি থাকে বা কারও মাথা ব্যথা থাকে, খোঁজখবর নিয়ে দেখুক।

নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ শিক্ষক চূড়ান্ত মেধাতালিকায় সই না করার কারণ জানতে চাইলে সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘মনে করতে পারছি, একটা জায়াগায় বোধহয় তিনি সই করেননি। বোর্ডে মোট পাঁচজন সদস্য ছিল। সবাই একমত হবেন-এমন কোনো কথা নেই আরকি। সুতরাং, অনিয়মের কোনো প্রশ্নই নেই।’ক

নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘ভাইভা বোর্ডে যখন সিরিয়াল করা হয়, তখন যে শুধু মেধার ভিত্তিতে করা হয়, বিষয়টা এমন নয়। এখানে অনেক সময় জ্যেষ্ঠতা ও পিএইচডি ডিগ্রি আছে কি না সেটা বিবেচ্য বিষয় হিসেবে সিরিয়াল করা হয়। এ ছাড়া যাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার বয়স ফিফটি প্লাস ছিল। সবদিক বিবেচনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে এখানে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগটি আমার নজরে আসেনি। বিশেষজ্ঞ সদস্যের অমত থাকতে পারে, কিন্তু সই না করলে সমস্যা। যদি অভিযোগ পাই, তাহলে অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।’ 

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এবার 'মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার' পেলেন যারা

এবার 'মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার' পেলেন যারা

জামায়াতকে কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের

জামায়াতকে কড়া বার্তা মির্জা ফখরুলের

তীব্র গরমে এনার্জি ধরে রাখার ৭ কার্যকর উপায়

তীব্র গরমে এনার্জি ধরে রাখার ৭ কার্যকর উপায়

৪৬ ঘণ্টা পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

৪৬ ঘণ্টা পর উৎপাদনে ফিরল বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App