×

অর্থনীতি

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কত বাড়ছে, যা জানা গেল

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৮:৩১ পিএম

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কত বাড়ছে, যা জানা গেল

ছবি : সংগৃহীত

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবছর থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ানোর আভাস দিয়েছে সরকার। তবে ঠিক কত শতাংশ বা কীভাবে বেতন বাড়বে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, আগামী বাজেটেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে এটি একবারে নাকি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে।

তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন পে-স্কেল তিন অর্থবছরে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন একটি কমিটি সুপারিশ করেছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম দুই অর্থবছরে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ করে বৃদ্ধি কার্যকর করা হবে। তৃতীয় বছরে বাড়ানো হবে বিভিন্ন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

যদি এ পরিকল্পনা কার্যকর হয়, তাহলে জুলাই থেকে একজন সরকারি চাকরিজীবী তার বর্তমান মূল বেতনের অর্ধেক পরিমাণ অতিরিক্ত অর্থ পাবেন।

উদাহরণ হিসেবে, কারও মূল বেতন যদি ৫০ হাজার টাকা হয়, তাহলে প্রথম বছরে তিনি পাবেন ৭৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় বছরে সেটি বেড়ে হবে এক লাখ টাকা। এ সময় অন্যান্য ভাতা আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। তৃতীয় বছরে নতুন কাঠামো অনুযায়ী বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধাও সমন্বয় করা হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের কমিশনের সুপারিশ

২০২৫ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে ২৩ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশনের সুপারিশে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ২০টি গ্রেডে নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা যেতে পারে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, শিক্ষা ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও পেনশন সুবিধা বৃদ্ধির সুপারিশও করা হয়। প্রতিবন্ধী সন্তান থাকলে অতিরিক্ত ভাতার প্রস্তাব এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা বাড়ানোর কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা

সরকারি চাকরিজীবীদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে তা তাদের জীবনযাত্রায় কিছুটা স্বস্তি আনবে। তবে অনেকেই চান, এটি ধাপে ধাপে নয়, একবারেই বাস্তবায়ন করা হোক।

তাদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়ে ধাপে ধাপে বেতন বাড়ালে বাস্তবে এর সুফল কমে যেতে পারে। কারণ বাজারদর বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে বাড়তি বেতনের প্রকৃত মূল্য কমে যাবে।

বাংলাদেশে সর্বশেষ অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছিল। এরপর এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও নিত্যপণ্যের দাম, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে নতুন পে-স্কেল নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করলেন শুভেন্দু

বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করলেন শুভেন্দু

বাংলাসহ ৩৫ ভাষায় সরাসরি অনুবাদ হবে হজের খুতবা

বাংলাসহ ৩৫ ভাষায় সরাসরি অনুবাদ হবে হজের খুতবা

সীমান্তে ভারতীয় মাদকসহ আটক ১

সীমান্তে ভারতীয় মাদকসহ আটক ১

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App