×

অর্থনীতি

২০২৪-২৫ অর্থবছর: অর্থমন্ত্রীর পুরো বাজেট বক্তৃতা

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৪, ০৪:১৩ পিএম

২০২৪-২৫ অর্থবছর: অর্থমন্ত্রীর পুরো বাজেট বক্তৃতা

আবুল হাসান মাহমুদ আলী

বৃহস্পতিবার (৬ জুন) বিকেল ৩টার পর জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম বাজেট উত্থাপন শুরু করেন আবুল হাসান মাহমুদ আলী। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ৫৩তম বাজেট, আওয়ামী লীগ সরকারের টানা চতুর্থ মেয়াদের প্রথম বাজেট এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পক্ষে ২১তম বাজেট। এবারের বাজেটের আকার হতে যাচ্ছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে সরকার ব্যয় বাড়াতে চায় আগের বছরের (২০২৩-২৪) চেয়ে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় যা বললেন-

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
মাননীয় স্পিকার


মহান জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পেশ করার প্রাক্কালে আমি গভীর ও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান রূপকার, বাংলার আপামর জনসাধারণের স্বপ্নের দিশারি আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি বঙ্গমাতা ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল সদস্যকে যারা  কলঙ্কময় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাত্রিতে আমাদের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের নৃশংস ছোবলে শহিদ হয়েছেন। শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করছি কেন্দ্রীয় জেলখানায় শহিদ হওয়া বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সহচর জাতীয় চার নেতাকে। গভীর ভালবাসা এবং শ্রদ্ধায় আরও স্মরণ করছি সেই সকল অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যারা বিনা দ্বিধায় হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র, লড়াই করেছেন অসীম সাহসে, জীবন দিয়েছেন এ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন বলে। মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন-এর কাছে আমি তাঁদের সকলের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সুগভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি একাত্তর সালে নির্যাতিতা মা-বোনদের যারা আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। 

মাননীয় স্পিকার   
১. আপনার সানুগ্রহ অনুমতিক্রমে আমি এখন ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট মহান জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করছি। বাজেট বক্তৃতা দীর্ঘ হওয়ায় এর একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ আমি পাঠ করছি এবং বাজেট বক্তৃতার বাকী অংশ পঠিত বলে গণ্য করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাচ্ছি।

মাননীয় স্পিকার,
২.বক্তৃতার বাকী অংশ বসে পাঠ করার জন্য আপনার সানুগ্রহ অনুমতি প্রার্থনা করছি।

সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার

ধন্যবাদ মাননীয় স্পিকার
১. সুদীর্ঘ সংগ্রামমুখর এবং গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা, এ দেশের মানুষকে উন্নয়নের শীর্ষবন্দুতে পৌঁছে দেয়া। বিনিময়ে তিনি প্রত্যাশা করেননি কিছুই। জেলে কাটিয়েছেন ৪ হাজার ৬৮২ দিন, অমিত সাহসে উপেক্ষা করেছেন মৃত্যুর সম্ভাবনা। তাঁর সব স্বপ্ন, সব পরিকল্পনার কেন্দ্রে ছিল এ দেশ, এ দেশের মানুষ। 

২. বঙ্গবন্ধু এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন তা সমাপ্ত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাননি। সোনার বাংলা বিনির্মাণের সেই অসমাপ্ত ও মহান কর্মপরিকল্পনা আজ তাঁরই সুযোগ্য কন্যা, আমাদের জাতির গর্ব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে পূরণ হওয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে। বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশের সামাজিক, আর্থিক, ভৌত অবকাঠামো, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞানসহ সকল ক্ষেত্রে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সংঘটিত হয়েছে তা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের ভিত রচনা করেছে। ২০০৯ সাল থেকে বিগত ১৫ বছরে আমাদের এ অগ্রযাত্রার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র আপনার মাধ্যমে সর্বসাধারণের অবগতির জন্য উপস্থাপন করছি। 

•গত দেড় দশকে মোট দেশজ উৎপাদ বা জিডিপি’র গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৭ শতাংশের বেশি। 
•দারিদ্র্যের হার ১৮.৭ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৫.৬ শতাংশে নেমে এসেছে। 
•বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন সক্ষমতা ৬ গুন বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াটে। 
•সরকারি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৭১ হাজারে এবং সরকারি ডাক্তারের সংখ্যা ৩ গুন বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ হাজার ১৭৩ জনে উন্নীত হয়েছে। 
•কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে ১৪ হাজার ৩১১টি। 
•সাক্ষরতার হার  ৪৫ শতাংশ থেকে ৭৬.৮ শতাংশে, প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ  ৫৪ শতাংশ থেকে ৯৮.২৫ শতাংশে এবং কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ০.৮ শতাংশ থেকে ১৭.৮৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। 
•মহাসড়কের পরিমাণ প্রায় ৩ গুন বৃদ্ধি পেয়ে ৩২ হাজার ৬৭৮ কিলোমিটারে এবং গ্রামীণ সড়ক প্রায় ৭৬ গুন বেড়ে ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৪৬ কিলোমিটারে উন্নীত হয়েছে।
•নির্মিত হয়েছে পদ্মা ব্রিজ, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল ইত্যাদি মত গর্ব করার অবকাঠামো।  
•মোট রেলপথ ২ হাজার ৩৫৬ কিলোমিটার থেকে দেড় গুন বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩ হাজার ৪৮৬ কিলোমিটার। 
•ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা  মোট জনগোষ্ঠীর ০.২৩ শতাংশ হতে বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮.৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। 

মাননীয় স্পিকার
৩. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ ২৯তম সাধারণ পরিষদে বলেছিলেন – “আমরা এমন একটি বিশ্বের দিকে তাকিয়ে আছি, মানবতা যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিস্ময়কর অগ্রগতির যুগে দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। পৃথিবীর সকল সম্পদ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে, এমন কল্যাণের দ্বার উন্মোচিত হবে যেখানে প্রতিটি মানুষের সুখী ও সম্মানজনক জীবনের ন্যূনতম নিশ্চয়তা থাকবে।” জাতির পিতার এ দর্শন হৃদয়ে ধারণ করে স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমরা এখন থেকেই সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে হাত দিয়েছি।  

মাননীয় স্পিকার
৪. “স্মার্ট বাংলাদেশ: উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান” এ দর্শনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালে পঞ্চম বারের মত মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। আমাদের সরকারের বিগত মেয়াদসমূহে ডিজিটাল বাংলাদেশের যে শক্ত ভিত রচিত হয়েছে তার উপর নির্ভর করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্মার্ট, সমৃদ্ধ একটি দেশ  গড়া এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। 

মাননীয় স্পিকার
আমাদের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা মোট ১১টি বিষয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে - দ্রব্যমূল্য সকলের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া; কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা; আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা; লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি; দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো; ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা; সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সকলকে যুক্ত করা ইত্যাদি। আগামী অর্থবছরের জন্য বাজেট প্রণয়নের সময় আমরা এ বিষয়গুলো বিশেষ বিবেচনায় নিয়েছি।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ এবং মধ্যমেয়াদি নীতি-কৌশল
মাননীয় স্পিকার
১. এই অধ্যায়ে আমি বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য চ্যালেঞ্জসমূহ এবং তা মোকাবিলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের প্রথম বছরের বাজেটে গৃহীতব্য নীতিকৌশলসমূহ তুলে ধরার চেষ্টা করব। (১) বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ

মাননীয় স্পিকার
২. ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়তে থাকে এবং বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়ে। মূল্যস্ফীতি রোধে উন্নত দেশে সুদের হার বাড়তে থাকলে টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের উপর চাপ তৈরি হয় এবং একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে থাকে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময় হারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ডেপ্রিসিয়েশন হওয়ায় আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত এক বছরের বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি গড়ে ৯ শতাংশের উপরে রয়েছে।      

রাজস্ব আহরণের প্রবৃদ্ধি
৩. আমাদের কর-জিডিপি অনুপাতও অপেক্ষাকৃত কম। এ অনুপাত ৮ শতাংশের নিচে রয়েছে। মধ্যমেয়াদে সরকারের ব্যয় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ পূরণ করার জন্য কর-জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা জরুরি।  

পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি ও মানব সম্পদ উন্নয়ন
৪. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ফলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবট এবং অন্যান্য যন্ত্র-নির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় যে যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা আমরা দেখতে পাচ্ছি তা বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগকে আগামীতে সংকুচিত করতে পারে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনের উপযোগি পরিবেশ এখন থেকেই তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। 

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ

৫. আগামী ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের পর দেশে প্রস্তুতকৃত পণ্য বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে সকল সুবিধা পেয়ে থাকে তা ক্রমান্বয়ে হ্রাস হবে। পাশাপাশি দেশে প্রস্তুতকৃত যে সকল পণ্য আমদানি শুল্কের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষণ সুবিধা পেয়ে আসছে আগামীতে তারাও মুক্ত প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হবে। পরিবর্তিত এ বাস্তবতায় স্থানীয় শিল্পকে নিজেদের দক্ষতা ও কৌশল দিয়েই বহির্বিশ্বের সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে হবে। (২) এবারের বাজেটের খাতভিত্তিক পরিকল্পনা এবং মধ্যমেয়াদি নীতি-কৌশল

মাননীয় স্পিকার 
৬. মূল্যস্ফীতির হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং রাজস্বনীতিতেও সহায়ক নীতিকৌশল অবলম্বন করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে ফ্যামিলি কার্ড, ওএমএস ইত্যাদি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আমাদের গৃহীত এসব নীতিকৌশলের ফলে আশা করছি আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশে নেমে আসবে। একইসাথে কর রাজস্বের পরিমাণ জিডিপি’র ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ এবং কর আদায় ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার অটোমেশন এবং হিউম্যান ইন্টারফেস কমানো ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

৭. ২০০৯-১০ অর্থবছর হতে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৭ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির এ গতি ধরে রাখার লক্ষ্যে কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন উৎসাহিত করতে যৌক্তিক সকল সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পসমূহের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং রপ্তানি ও প্রবাস আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। আশা করছি আমাদের গৃহীত এসকল নীতিকৌশলের ফলে আগামী অর্থবছরে ৬.৭৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে এবং মধ্যমেয়াদে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭.২৫ শতাংশে পৌঁছাবে। 

৮. মিয়ানমার এবং ভারতের সাথে আমাদের সমুদ্র সীমা আন্তর্জাতিক আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ার প্রেক্ষিতে মৎস্য, সমুদ্র তলদেশের খনিজ সম্পদ ইত্যাদি আহরণসহ Blue Economy বা সুনীল অর্থনীতির সকল সম্ভাবনার সদ্‌ব্যবহারের উপর এবারের বাজেটে বিশেষভাবে জোর দিয়েছি।           

মাননীয় স্পিকার
এ পর্যায়ে আমি চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট মহান জাতীয় সংসদে পেশ করছি। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের পূর্বে আমি অর্থনীতিবিদ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ সমাজের সকল স্তরের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেছি এবং তাঁদের মূল্যবান মতামত বাজেটে যথাসম্ভব প্রতিফলনের চেষ্টা করেছি।   
২০২৩-২৪ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট
মাননীয় স্পিকার
১.চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণী পরিশিষ্ট ‘ক’: সারণি- ৩ হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

২.২০২৩-২৪ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা মূল বাজেট হতে ২২ হাজার কোটি টাকা হ্রাস করে ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার কোটি টাকা রাখার প্রস্তাব করছি। 

৩. চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছিল মোট ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। এ বছরের মার্চ পর্যন্ত ব্যয়ের অগ্রগতি বিবেচনায় ৭ লক্ষ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকার সংশোধিত বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার ২ লক্ষ ৪৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করছি।

৪.সংশোধিত বাজেটে ২ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪১৮ কোটি টাকার ঘাটতি প্রস্তাব করছি, যা জিডিপি’র ৪.৭ শতাংশ। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৫৬ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস হতে এবং ৭৯ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার প্রস্তাব করছি।

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট
মাননীয় স্পিকার
১. এ পর্যায়ে আমি আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট কাঠামোর ওপর আলোকপাত করব। 

২. আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৫ লক্ষ ৪১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব  আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ৯.৭ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস হতে ৬১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করছি। 

৩. আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেটের আকার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ লক্ষ ৯৭ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপি’র ১৪.২ শতাংশ। পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৫ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ২ লক্ষ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। 

৪. আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সামাজিক অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো এবং সাধারণ সেবা খাত, এ তিনটি অংশে বিভক্ত আমাদের সামগ্রিক ব্যয়ের কাঠামো পরিশিষ্ট ‘ক’ এর সারণি ৬-এ উপস্থাপন করা হয়েছে। 

৫. ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপি’র 4.6 শতাংশ। এ হার গত বাজেটে ছিল ৫.২ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ঘাটতির মধ্যে ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস হতে এবং ৯৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস হতে নির্বাহ করার জন্য প্রস্তাব পেশ করছি।

খাতভিত্তিক অগ্রাধিকার, কর্মপরিকল্পনা ও সম্পদ সঞ্চালন
(১) শিক্ষা খাতে উদ্যোগ ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন
মাননীয় স্পিকার
১. ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সফল করতে হলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষায় উপযুক্তভাবে গড়ে তুলতে হবে। এ প্রেক্ষাপটে বিজ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতাবর্ধক ও সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি এবং কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণকে আমাদের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে অন্যতম বিশেষ অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা
২. শিক্ষার মান নিশ্চিতকরণে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৫৭৯ জন শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে এবং সহকারী শিক্ষকের ২৬ হাজার ৩৬৬টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। শিক্ষার প্রধান উপকরণ বই যাতে শিক্ষার্থীরা বছরের শুরুতেই পায় সে লক্ষ্যে ২০১০ সাল থেকে প্রতিবছর প্রাথমিক স্তরের শিশুদের ১ জানুয়ারি ‘বই উৎসব’ এর মাধ্যমে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান করা হচ্ছে। 

৩. প্রাথমিক শিক্ষার স্তরে শিশুদের ঝরে পড়া রোধ করতে শতভাগ শিক্ষার্থীকে ইএফটি’র মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। সরকারের সুচিন্তিত নীতির ফলে প্রাথমিক শিক্ষায় নিট ভর্তির হার ২০০৯ সালের ৯০.৮ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২২ সালে ৯৭.৫৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। 

৪. স্কুলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য হুইল চেয়ার, ক্রাচ, শ্রবণযন্ত্র ইত্যাদি ক্রয় ও বিতরণ করা হচ্ছে এবং তাদের শ্রেণীকক্ষে প্রবেশের সুবিধার্থে প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহে র‍্যাম্প নির্মাণ করা হচ্ছে।

৫. শিশুদের প্রযুক্তি ব্যবহারের সাথে অভ্যস্ত করে তুলতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১ লক্ষের অধিক ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর, ইন্টারনেটসহ সাউন্ড-সিস্টেম সরবরাহ করে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম চালু করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি উপজেলায় একটি করে বিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক ডিজিটাল ক্লাসরুম ও ভাষা ল্যাব স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। 

মাননীয় স্পিকার
১. আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় ৩৮ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩৪ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। 

২. মাধ্যমিক পর্যায়ে ভর্তির হার ৭১.৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ হতে বিজ্ঞান ভিত্তিক যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করা হয়েছে। এজন্যে প্রয়োজনীয় মানবসম্পদ সৃজনের লক্ষ্যে দেশের ১৬০টির অধিক বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে যাচ্ছে।
৩. মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান সরঞ্জামাদি এবং ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। 

৪. প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় পরিচালিত সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির মাধ্যমে গত ৩ বছরে মোট ১ কোটি ৫৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৯৯ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছর পর্যন্ত স্নাতক পর্যায়ের মোট ১৫ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫৬২ জন দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীকে অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, স্নাতক পর্যায়ে যে সকল শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করা হয় তার প্রায় ৬০ শতাংশ নারী। 

৫. আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষায় ৪৪ হাজার ১০৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা চলমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৪২ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা।

কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা

১. সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিগত কয়েক বছরে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১০ সালে কারিগরি শিক্ষায় ভর্তির হার ছিল মাত্র ১ শতাংশ যা ২০২২ সালে ১৮.১৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। 

২. ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩টি নতুন মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করা হয়েছে এবং ৪৯৫টি মাদ্রাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। 

৩. কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এর জন্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ১০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ
১. সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এমডিজি লক্ষ্য অর্জনে অসাধারণ সফলতা দেখিয়েছে। মাতৃমৃত্যুর হার ২০০৭ সালে ছিল প্রতি লক্ষে ৩৫১ যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে ১৩৬ হয়েছে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুমৃত্যুর হার ২০০৭ সালে ছিল প্রতি হাজারে ৬০, যা বর্তমানে হ্রাস পেয়ে ৩৩-তে নেমে এসেছে। প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল ২০০৭ সালে ছিল ৬৬.৬, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ৭২.৩ এ উন্নীত হয়েছে। বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। এক বছর বয়সের নীচের শিশুর পূর্ণ টিকা প্রাপ্তির হার ৭৫ শতাংশ থেকে ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। 

২. স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ২০০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। পাশাপাশি চিকিৎসাবিজ্ঞানের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণার গুরুত্ব বিবেচনায় ‘সমন্বিত স্বাস্থ্য-বিজ্ঞান গবেষণা ও উন্নয়ন তহবিল’-এ ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের প্রস্তাব করছি।  

৩. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাস্থ্য সেবা খাতকে গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রবর্তন করেন। এ সকল কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে গ্রামীণ জনগণকে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং ২৭ ধরনের ঔষধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। 

৪. সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং নীতিসহায়তার ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বমানের ঔষধ উৎপাদনে সক্ষম। দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৯৮ ভাগ ঔষধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে।

৫. পরিবার কল্যাণ সেবা সহজীকরণসহ মা ও শিশুর  স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে দক্ষ ধাত্রী ও মিডওয়াইফ এর মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব সেবা দেয়া হচ্ছে। 

৬. এছাড়া, আধুনিক ও মানসম্পন্ন স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অধিক সংখ্যক মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, চিকিৎসা শিক্ষায় সকল স্নাতকোত্তর ডিগ্রিকে এক প্লাটফরমের আওতায় নিয়ে আসা, পরীক্ষা পদ্ধতির আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

মাননীয় স্পিকার

স্বাস্থ্য সেবা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণের অব্যাহত অগ্রগতি বজায় রাখার নিমিত্ত আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪১ হাজার ৪০৭  কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৩৮ হাজার ৫১ কোটি টাকা।
কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন বৈদেশিক কর্মসংস্থান

১. প্রবাসী কর্মীদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে প্রবাস আয়ের পরিমাণ ছিল ১০.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার যা ২০২২-২৩ অর্থবছরে দ্বিগুণ হয়ে ২১.৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। 

২. বিদেশ ফেরত কর্মীদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের অনুকূলে সরকার ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রদান করেছে। 

নারীবান্ধব কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি
কর্মক্ষেত্রে আহত হওয়ার ঝুঁকি হতে সুরক্ষার জন্য ‘এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি ইন্স্যুরেন্স’ স্কীম পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে।

শোভন কর্মপরিবেশ
শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তৈরি পোষাক সেক্টরে ১ হাজার ৫৫০টি কারখানার কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

দক্ষতা উন্নয়ন
উচ্চতর কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নসহ শিল্প খাতে কর্মরত ব্যবস্থাপকদের দক্ষতা, গবেষণা ও উন্নয়ন তাড়িত উদ্ভাবন এবং সবুজ দক্ষতা বৃদ্ধিতে Skills for Industry Competitiveness and Innovation Program (SICIP) প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য  ও প্রাণিসম্পদ
কৃষি খাত
১. জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছেন, “খাদ্যের জন্য অন্যের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। আমাদের নিজেদের প্রয়োজনীয় খাদ্য আমাদেরই উৎপাদন করতে হবে। কৃষকদের বাঁচাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, তা না হলে বাংলাকে বাঁচাতে পারবেন না।” জাতির পিতার এ দর্শনকে ধারণ করে তাঁর সুযোগ্য উত্তরাধিকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের কৃষি খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। বিভিন্ন প্রকার ফসলের উন্নত এবং জলবায়ুসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন, উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ, সুলভ মূল্যে সার ও বীজসহ কৃষি উপকরণ সরবরাহ, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

২. কৃষি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রয়েছে এবং তা অদূর ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। সারে ভর্তুকি প্রদানের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে যান্ত্রিকীকরণ উৎসাহিত করা হচ্ছে।  

৩. সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে ধান, ভুট্টা, আলু, সবজি ও ফলসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা

সবার জন্য খাদ্য নিশ্চিত করা এবং নিম্ন আয়ের মানুষকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প আয়ের ৫০ লাখ পরিবারকে বছরে কর্মাভাবকালীন ৫ মাস প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এছাড়া নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সমগ্র বাংলাদেশে নিম্ন আয়ের প্রায় ১ কোটি পরিবারের নিকট টিসিবি’র ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে চাল, ডাল, তেল ইত্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে। 

১. খাদ্যের অপচয় রোধে ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য গুদামের ধারণ ক্ষমতা ২১.৮৬ লাখ মে.টনে উন্নীত করা হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরে তা ২৯ লাখ মে.টনে উন্নীত করা হবে।

২. সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ উৎপাদনে ৩য় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষকৃত মাছ উৎপাদনে ৫ম স্থানে রয়েছে। ইলিশ উৎপাদনকারী দেশসমূহের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১ম। জেলেদের সুরক্ষায় তাদের কর্মহীন সময়ে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। 

৩. দেশের ক্রমবর্ধমান প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগির টেকসই জাত উন্নয়ন, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদন দ্বিগুণ করার কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

৪. ‘শেখ হাসিনার উপহার, প্রাণীর পাশেই ডাক্তার’-এই নীতি সামনে রেখে প্রাণিচিকিৎসা সেবা খামারির দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য ৩৬০টি উপজেলায় মোবাইল ভেটেনারি ক্লিনিক চালু করা হয়েছে।

মাননীয় স্পিকার

১. কৃষি খাতসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩৮ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা।

২. “শেখ হাসিনার মূলনীতি, গ্রাম শহরের উন্নতি”- এই প্রত্যয়ে আমাদের সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধাদির অন্যতম অনুষঙ্গ হিসেবে গ্রাম ও শহরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, সংস্কার ও সংরক্ষণ করছে। দেশব্যাপী যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, সুপেয় পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করা, ভূ-উপরিস্থ পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহার বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ইত্যাদির মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে। 

৩. ঢাকাবাসীর দৈনিক প্রায় ২৬৫ কোটি লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে ঢাকা ওয়াসা দৈনিক প্রায় ২৭৫ কোটি লিটার সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়া, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী ওয়াসাও নগরবাসীর জন্য সুপেয় পানি সরবরাহ করছে।

৪. গ্রাম-শহরের ব্যবধান হ্রাস করে দেশের সকল জনগণের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ কর্মসূচিসহ নানাবিধ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

৫. সরকার গ্রামনির্ভর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগবান করার নিমিত্ত ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি, আয়বর্ধক কর্মসূচি, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত মহিলাদের ও বেকার যুবকদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও গাভীর জাত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণে ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে আবর্তক ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। 

মাননীয় স্পিকার

স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন বাবদ আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪৬ হাজার ৫৫২  কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বাবদ বরাদ্দ ছিল ৪৮ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।

মাননীয় স্পিকার
১. বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ইতোমধ্যে শতভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০০৯ সালে ছিল মাত্র ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট, যা ৩০ হাজার ২৭৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াটে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।  পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

২. ২০৪১ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৪০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস হতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ও ব্যবহার বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। 

৩. ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে আমাদের গ্যাসের উৎপাদন ছিল দৈনিক ১ হাজার ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি দৈনিক প্রায় ১০০০-১০৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আমদানীকৃত এলএনজি জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হচ্ছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি হতে জানুয়ারি ২০২৪ সময় পর্যন্ত প্রায় ১৪ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে। দেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে অনশোর এলাকায় তেল/গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের জন্য ৪৮টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

৪. সামুদ্রিক খনিজ ও অন্যান্য সম্পদের আহরণ এবং এর সুষ্ঠু ব্যবহারের গুরুত্ব বিবেচনায় সুনীল অর্থনীতি খাতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

৫. Bangladesh Offshore Model Production Sharing Contract 2023 প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় অগভীর সমুদ্রের ০৯টি ব্লক ও গভীর সমু্দ্রের ১৫টি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য ‘বাংলাদেশ অফশোর বিডিং রাউন্ড-২০২৪’ শুরু করা হয়েছে।

৬. দেশের জ্বালানি তেলের চাহিদা পূরণ করার লক্ষ্যে ইস্টার্ন রিফাইনারী লিমিটেড-এর পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লক্ষ মে. টন হতে বৃদ্ধি করে ৪৫ লক্ষ মেট্রিক টনে উন্নীত করার জন্য ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে।

মাননীয় স্পিকার
৭. বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ খাতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা।
যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন
মাননীয় স্পিকার

১. আধুনিক ও টেকসই মহাসড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহাসড়কে ১ হাজার ৪৩৯টি সেতু নির্মাণ/পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৮৫১.৬২ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ২০৪১ সাল নাগাদ ১২টি এক্সপ্রেসওয়ে এবং দশটি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।  

২. ঢাকা মহানগরী ও তৎসংলগ্ন পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে ৬টি মেট্রোরেলের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতোমধ্যে MRT Line-6 উত্তরা হতে মতিঝিল পর্যন্ত চালু করা হয়েছে, যা দ্রুতগামী, দূষণমুক্ত, সময়সাশ্রয়ী, অত্যাধুনিক নগর পরিবহণ হিসেবে নারী-পুরুষ সকলের কাছে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়েছে। 

৩. পদ্মা সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চল বিশেষ করে উত্তর-মধ্যাঞ্চলের সংযোগ সৃষ্টি হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে  ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনের লক্ষ্যে একাধিক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল দ্রুততম সময়ে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম চলছে এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এর রানওয়ে ও টেক্সিওয়ে উন্নত ও দীর্ঘ করা হয়েছে। 

৪. খুলনা হতে মোংলা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত ৬৪.৭৫ কি.মি. ব্রডগেজ রেলওয়ে লাইন নির্মাণ শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে।

৫. ঢাকা হতে কক্সবাজার নতুন রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় উক্ত সেকশনটি ট্রান্সএশিয়ান রেলওয়ে এবং উপ-আঞ্চলিক করিডোরের একটি বড় অংশ হিসেবে কাজ করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

৬. দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রায় সীমিত আকারে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে ১০.৫ মিটার ড্রাফট বিশিষ্ট ৪০-৫০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন জাহাজ এ বন্দরে চলাচল করছে। এছাড়া, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

মাননীয় স্পিকার

৭. দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা ইত্যাদির গুরুত্ব বিবেচনায় যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন বাবদ আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদানের প্রস্তাব করছি। বর্তমান ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ খাতে ৮৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল।

সামাজিক নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য নিরসন
মাননীয় স্পিকার
১. সামাজিক নিরাপত্তার সুফল কার্যকরভাবে উপকারভোগীদের নিকট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সর্বমোট ১১৫টি সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের ৩৪টি ক্যাশভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে ১৯টি কর্মসূচির অর্থ ইলেকট্রনিক উপায়ে গভর্নমেন্ট টু পার্সন (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগীর ব্যাংক হিসাব/ মোবাইল ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে। 

প্রতিবন্ধী সুরক্ষা কার্যক্রম
২. প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় আগামী অর্থবছরে ভাতাপ্রাপ্তের সংখ্যা ২৯ লক্ষ থেকে বৃদ্ধি করে ৩২ লক্ষ ৩৪ হাজার জনে উন্নীত করা হবে। এছাড়া, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের উপবৃত্তির হার বিদ্যমান ৯৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০৫০ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। 

মা ও শিশু সহায়তা কার্যক্রম
৩. মা ও শিশু সহায়তা কার্যক্রমের আওতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ১5 লক্ষ ৪ হাজার 800 জন হতে ১৬ লক্ষ ৫৫ হাজার ২৮০ জনে উন্নীতকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

বয়স্ক, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতাদের সুরক্ষা 
৪. আগামী অর্থবছরে বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লক্ষ বৃদ্ধি করে ৬০ লক্ষ ১ হাজার জনে উন্নীত করা হবে এবং এ বাবদ ৪ হাজার ৩৫১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া, ভাতাপ্রাপ্ত বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মহিলার সংখ্যা বিদ্যমান ২৫ লক্ষ ৭৫ হাজার জন থেকে বৃদ্ধি করে ২৭ লক্ষ ৭৫ হাজার জনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 
  
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন
৫. বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় সকল শ্রেণির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ভাতা ২০২১-২২ অর্থবছরে ন্যূনতম ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া তাঁদের আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিনামূল্যে ৩০ হাজার বীর নিবাস নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১১ হাজার ৫৭টি বীর নিবাস নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। 

মাননীয় স্পিকার
৬. সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লক্ষ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করছি যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা ছিল। 
শিল্প, বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পায়ন
মাননীয় স্পিকার
১. টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে শিল্প পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বেসরকারি খাতকে গতিশীল করতে উৎপাদন প্রযুক্তি এবং পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, নতুন পণ্য উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি এবং বেসরকারি খাতের শিল্প উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছি।

২. ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কারখানা এবং ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা চালু করা হয়েছে।

৩. কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে সরকার সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, পুনঃঅর্থায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ও বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করছে। দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় ও রপ্তানিমুখী ঔষধ শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদনের লক্ষ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় ২০০ একর জমিতে Active Pharmaceutical Ingredients (API) শিল্প পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। 

মাননীয় স্পিকার
৪. আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শিল্প মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ৫১০ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করছি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ২৪ কোটি টাকা।

মাননীয় স্পিকার
৫. দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের লক্ষ্যে আমরা এ পর্যন্ত মোট ৪৪টি দেশের সাথে বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন করেছি। বিভিন্ন দেশের সাথে এ সকল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির পাশাপাশি আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমেও রপ্তানি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছি। রপ্তানি পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণে স্থানীয় শিল্পের সুষম বিকাশ, বিনিয়োগ উৎসাহিতকরণ, পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩  প্রণয়ন করেছি এবং রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ এর খসড়া চূড়ান্ত করেছি। এছাড়া, ই-কমার্স/ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাকল্পে ডিজিটাল বিজনেস আইডেনটিটি (DBID) প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে। 

নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুর কল্যাণ নারীর ক্ষমতায়ন
মাননীয় স্পিকার
১. মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারীর ক্ষমতায়ন ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যেসকল পরিকল্পনা ও নীতি-কৌশল গ্রহণ করেছেন তার সফল বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশে জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। Global Gender Gap Report 2023 অনুযায়ী বিশ্বে জেন্ডার বৈষম্য সূচকে ১৪৬টি দেশের মধ্যে ৫৯তম অবস্থান অর্জন করেছে। 

২. বেকার ও উদ্যোগী মহিলাদের আত্ম-কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।

৩. দুস্থ ও অসহায় মহিলাদের জন্য ক্ষুদ্রঋণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ এবং নগদ অনুদান প্রদান করা হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন, দুর্যোগ এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা: জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণ
মাননীয় স্পিকার
১. জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলায় Bangladesh Climate Change Strategy and Action Plan (BCCSAP), Bangladesh Climate Fiscal Framework Mujib Climate Prosperity Plan, Bangladesh Delta Plan ইত্যাদি প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া, সম্প্রতি জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় গৃহীত প্রকল্পের সুষ্ঠু সমন্বয়ের লক্ষ্যে Bangladesh Climate and Development Platform গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন সংক্রান্ত কৌশল অর্থাৎ ডিসাস্টার রিস্ক ফাইন্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি প্রণয়ন করা হচ্ছে। 

২. জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের গভীরতা ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে অভিযোজনের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রভাব হ্রাস সংক্রান্ত কার্যক্রমকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করছি।

পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা

৩. পানি সম্পদের দক্ষ ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙ্গন রোধ, নদী ড্রেজিং, সেচ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও ভূমি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়া বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ বিভিন্ন নদী ও জলাশয় সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের কাজ জোরদার করা হয়েছে।

বিজ্ঞান, গবেষণা, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি
মাননীয় স্পিকার
১. ২০৪১ সালের মধ্যে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ২২১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকার বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। 

টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট
২. ইন্টারনেটের মূল্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস করার ফলে ওয়েবভিত্তিক কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ প্রসারিত হয়েছে। ২০০৮ সালে প্রতি এমবিপিএস ফিক্সড ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ এর সর্বনিম্ন মূল্য ছিল ২৭ হাজার টাকা, বর্তমানে মাত্র ৬০ টাকা। স্বল্পমূল্যে উচ্চ গতির ইন্টারনেট ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে। 

৩. আইসিটি খাতে রপ্তানির পরিমাণ আগামী ৫ বছরের মধ্যে ৫ বিলিয়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হবে।  

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রস্তুতি
৪. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, রোবোটিক্স, সেমিকনডাক্টর, স্পেস ও জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তিসহ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি-ভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। 

৫. ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তির মহাসড়ক হিসেবে দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট ও ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করণের কাজ চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে ৫জি’র উপযোগীকরণে বিটিসিএল এর অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক উন্নতকরণ ও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

মাননীয় স্পিকার
আশ্রয়ণ: ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য আবাসন 
১. ১৯৯৭ সাল হতে এ পর্যন্ত আশ্রয়ণ ও গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৫ লক্ষ ৭৮ হাজার ৩১২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ভূমিহীন, গৃহহীন, ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগ ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের শেখ হাসিনা মডেল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

(১৪) যুব, ক্রীড়া, ধর্ম ও সংস্কৃতি

মাননীয় স্পিকার 
২. দেশের উন্নয়নে যুব সমাজকে আরও গভীরভাবে সম্পৃক্ত করতে গত দেড় দশকে ৩৭ লক্ষ ৪৬ হাজার যুবককে বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং ১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৬৮ লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া দেশজ সংস্কৃতির লালন, ধর্মীয় মূল্যবোধের সঠিক বিকাশ এবং ক্রীড়ার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
সুশাসন প্রতিষ্ঠা

মাননীয় স্পিকার
১. সরকারি সেবা ও তথ্য নাগরিকদের নিকট সহজলভ্যকরণ এবং সরকারি কার্যক্রমে নাগরিকদের অংশীদারিত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগকে আরও কার্যকর করার জন্য National Integrity Strategy এবং Civil Registration and Vital Statistics ইত্যাদি সংক্রান্ত কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। 

২.দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ
বিভিন্ন সেক্টরে ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জনগণের ভোগান্তি হ্রাসের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।    

৩. সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা
আঠারো বছর বয়সের বেশি জনগোষ্ঠীকে একটি টেকসই ও সুসংগঠিত সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গত ১৭ আগস্ট ২০২৩ তারিখ সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। বর্তমানে এ কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। 

৪. পেনশন সুবিধা পান এমন সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আমরা সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসবো। স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের ইতোমধ্যে এ ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করা হয়েছে। 1লা জুলাই ২০২৫ হতে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্যও আমরা এ ব্যবস্থা চালু করব।

বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ উন্নয়ন

মাননীয় স্পিকার
৫. দেশি বিনিয়োগ ও এফডিআই বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের সরকার বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে। সে লক্ষ্যে বেসরকারি খাত উন্নয়নসহ বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজতর করার উদ্দেশ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনলাইনভিত্তিক ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। উক্ত ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে 38টি প্রতিষ্ঠানের 115টি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। 

অর্থনৈতিক অঞ্চল
৬. ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৯টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। চট্টগ্রামের মীরসরাই, সীতাকুণ্ড এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার প্রায় ৩৩ হাজার একর জমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর স্থাপন করা হচ্ছে। 

৭. কেন্দ্রীয় সমন্বিত আর্থিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (iBAS++)

কেন্দ্রীয় সমন্বিত আর্থিক তথ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি (iBAS++) এর মাধ্যমে বর্তমানে বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, হিসাবরক্ষণ, অনলাইনে বিল সাবমিশন, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে পরিশোধ, ইত্যাদি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। দেশীয় চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে উক্ত ডিজিটাল প্লাটফর্মের পরিধি ও সক্ষমতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হচ্ছে। 

৮. পেনশনারদের কল্যাণ
সকল অবসরভোগী সরকারি কর্মচারী ইএফটির মাধ্যমে মাসের শুরুতেই পেনশন পাচ্ছেন। পেনশনারদের জন্য পাইলট ভিত্তিতে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে জীবিতাবস্থা যাচাইকরণ (life verification) চালু করা হয়েছে। 

মাননীয় স্পিকার
৯. বর্তমানে  সকল বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ-চালান পদ্ধতির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সকল শাখায় এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ব্যবহার করে যে কোন স্থান হতে অনলাইনে তাৎক্ষণিক বা রিয়েল টাইম ভিত্তিতে রাজস্ব/ফি জমা করা যাচ্ছে। 

ভ্যাট আদায় প্রক্রিয়ার অটোমেশন
১০. জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের খুচরা পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (VAT) আদায়ের জন্য Electronic Fiscal Device Management System (EFDMS) উন্নয়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। 

আধুনিক ও ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা
১. ভূমির মালিকানা পরিবর্তন, খাজনা প্রদান ইত্যাদি সেবা ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। বর্তমানে পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে যেকোন সময় ভূমির মালিকগণ অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে কিউআর কোড সমৃদ্ধ দাখিলা পাচ্ছেন। ভার্চুয়াল রেকর্ডরুম ব্যবহার করে এখন বিনামূল্যে সকল নাগরিক যেকোন সময় যেকোন স্থান থেকে জমির রেকর্ডের তথ্য দেখতে পাচ্ছেন।

আর্থিক খাতের সংস্কার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি 
২. আর্থিক খাতকে আরও গভীরভাবে দেশের তৃণমূলের সাথে সম্পৃক্ত করতে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও আধুনিক পেমেন্ট সিস্টেম এর প্রসার ঘটানো হচ্ছে।

৩. আর্থিক ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করার জন্য ফাইন্যান্সিয়াল প্রজেকশন মডেল (এফপিএম) বাস্তবায়ন করা হয়েছে।  

৪. ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘ব্যাংক কোম্পানী (সংশোধন) আইন ২০২৩’ মহান জাতীয় সংসদে অনুমোদিত হয়েছে। ‘ব্যাংক আমানত বীমা আইন-২০০০’ সংশোধনপূর্বক ‘আমানত সুরক্ষা আইন-২০২৩’ প্রণীত হয়েছে।

৫. জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় গৃহীত কার্যক্রম দেশীয় আর্থিক খাত থেকে অর্থায়নের লক্ষ্যে গ্রিন বণ্ড সংক্রান্ত নীতিমালা হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

৬. ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা চালু
আর্থিক খাতে 'স্মার্ট বাংলাদেশ' এর ভিত মজবুত করার লক্ষ্যে গত ২৫ অক্টোবর ২০২৩ তারিখে ২টি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুকূলে লেটার অব ইনটেন্ট প্রদান করা হয়েছে। পরবর্তীতে ডিজিটাল ব্যাংকের সংখ্যা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

মূল্য সংযোজন কর
মাননীয় স্পিকার
১. আপনি জানেন, মূল্য সংযোজন কর একটি পরোক্ষ ও বিজ্ঞানসম্মত আধুনিক কর ব্যবস্থা। জাতীয় রাজস্ব আদায়ের বড় অংশই মূল্য সংযোজন কর হতে আহরিত হয়ে থাকে। আমি মূল্য সংযোজন কর খাতে নিম্নরূপ প্রস্তাবসমূহ মহান জাতীয় সংসদের সদয় বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করছি।
২. মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ ও মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা, ২০১৬ এর প্রায়োগিক ও পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিম্নোক্ত প্রস্তাবসমূহ পেশ করছি:

(ক) যে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক টার্নওভার ১০ (দশ) কোটি টাকার অধিক সে সকল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উৎসে মূসক কর্তনকারী সত্ত্বা হিসেবে নির্ধারণের লক্ষ্যে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের প্রস্তাব করছি;
(খ) ব্যবসা বাণিজ্য সহজীকরণে আপীলাত ট্রাইব্যুনাল ও আপীল কমিশনারেটে আপীল দায়েরের ক্ষেত্রে তর্কিত আদেশে উল্লিখিত দাবীকৃত করের, জরিমানা ব্যতীত, ২০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ অর্থ পরিশোধের বিধান করার লক্ষ্যে আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের প্রস্তাব করছি;
(গ) মূসক পরামর্শক হিসেবে কস্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্টেন্টগণকে অন্তর্ভূক্তিকরণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট বিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়নের প্রস্তাব করছি; 
(ঘ) এছাড়াও প্রায়োগিক ও আইনী জটিলতা নিরসনকল্পে আইনের কতিপয় বিধানে সংশোধনী আনয়নের প্রস্তাব করছি;

3. Excises and Salt Act, 1944 এর আওতায় বর্তমানে বিমান টিকেট ও ব্যাংক হিসাবের উপর আবগারি শুল্ক আরোপিত রয়েছে। বিমান টিকেট এর উপর আরোপিত আবগারি শুল্ক অপরিবর্তিত রেখে ব্যাংক হিসাবের স্ল্যাবসমূহ এবং আবগারি শুল্কের পরিমাণ যৌক্তিকীকরণসহ অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট এর আওতাধীন আমানতকারী বা বৈদেশিক ঋণদাতাগণের হিসাবের উপর আরোপনীয় আবগারি শুল্ক অব্যাহতি প্রদান করার প্রস্তাব করছি।

4.২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি ও কর পরিপালন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমি মহান জাতীয় সংসদে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা পেশ করছি:

(ক) সকল ধরণের আইসক্রিমের উপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার ৫ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি;
(খ) কার্বনেটেড বেভারেজ এর উপর বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক হার ২৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি এবং কার্বনেডেট বেভারেজ এর জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপাদান অপেক্ষা ভিন্নতর মাত্রার উপাদান সম্বলিত পানীয়ের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক হার ৩৫ শতাংশের পরিবর্তে ৪০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি;
(গ) সিগারেট মানব স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি পণ্য। এ জাতীয় ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমানো ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইনের দ্বিতীয় তফসিলে উল্লিখিত সম্পূরক শুল্কের হার ৬৫ শতাংশের পরিবর্তে ৬৬ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি;
(ঘ) মোবাইল ফোনের সিম/রিম কার্ড ব্যবহারের মাধ্যমে প্রদত্ত সেবার বিপরীতে বিদ্যমান সম্পূরক শুল্ক ১৫ শতাংশের পরিবর্তে ২০ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি; এছাড়াও প্রতিটি ‍SIM কার্ড/e-SIM সরবরাহের বিপরীতে বিদ্যমান মূসকের পরিমাণ 200 টাকার পরিবর্তে ৩০০ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি; 
(ঙ) রাজস্ব আদায় ও করপরিপালন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমসত্ব (ম্যাংগো বার), ম্যাংগো জুস, আনারসের জুস, পেয়ারার জুস, তেতুলের জুস, ১ থেকে ৫০ ওয়াট এর অধিক ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী বাল্ব, টিউব লাইট (১৮ ওয়াট ও ৩৬ ওয়াট) এর স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসকের হার ৫ শতাংশ এর পরিবর্তে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি;
(চ) সিগারেট/বিড়ি পেপার এর স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে মূসকের হার ৭.৫ শতাংশের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি;
(ছ) নিলামকৃত পণ্যের ক্রেতা এবং এ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও থিম পার্ক সেবা এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূসক হার ৭.৫ শতাংশের পরিবর্তে 15 শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি;
(জ) যান্ত্রিক লন্ড্রি, নিলামকারী সংস্থা, সিকিউরিটি সার্ভিস ও লটারীর টিকিট বিক্রয়কারী সেবা এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান মূসক হার ১০ শতাংশের পরিবর্তে 15 শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি;
(জ) ইট, ব্রিকস চিপস ও মিকাড ব্যাটস এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট করের পরিমাণ ক্ষেত্রভেদে ১০ থেকে ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করছি; এবং
(ঝ) ট্যুর অপারেটর সেবার উপর বিদ্যমান মূসক অব্যাহতি সুবিধা প্রত্যাহার করার প্রস্তাব করছি।

৫.রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় শিল্প বিকাশের চলমান গতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে আমি মহান জাতীয় সংসদে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা পেশ করছি:

(ক) এয়ারকন্ডিশনার উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ০ (শূন্য) শতাংশের পরিবর্তে ৭.৫ শতাংশ মূসক আরোপসহ রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ ০১ বছর বর্ধিতকরণের প্রস্তাব করছি; এবং
(খ) রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার উৎপাদনের ক্ষেত্রে স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ৫ শতাংশের পরিবর্তে ৭.৫ শতাংশ মূসক আরোপসহ রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ ০১ বছর বর্ধিতকরণের প্রস্তাব করছি।

৬.দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং দেশীয় শিল্প বিকাশের চলমান গতিশীলতা বাজায় রাখার স্বার্থে মোবাইল টেলিফোন সেট বা সেলুলার ফোন, পলিপ্রোপাইলিন স্ট্যাপল ফাইবার, LPG Cylinder ও LABSA এবং SLES উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা ০১ বছর বর্ধিতকরণের প্রস্তাব করছি এবং অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর ক্ষেত্রে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা ০৩ বছর বর্ধিতকরণের প্রস্তাব করছি; এবং

৭. তথ্য-প্রযুক্তি ও কম্পিউটার শিল্পের বিকাশের লক্ষ্যে প্রদত্ত রেয়াতী সুবিধা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে, উপকরণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে ক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মূল্য সংযোজন কর হইতে অব্যাহতি প্রদানের  বিষয়টি অন্তর্ভুক্তি করণের প্রস্তাব করছি।

৮. নারী ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় স্যানিটারী ন্যাপকিন ও ডায়াপারের স্থানীয়ভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে উৎপাদনে ব্যবহৃত কতিপয় কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে প্রদত্ত রেয়াতি সুবিধার মেয়াদ ৩০ জুন, ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বর্ধিকরণের প্রস্তাব করছি।
৯.তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার কমানো এবং রাজস্ব আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাক ও তামাকজাত পণ্যের ক্ষেত্রে নিম্নরূপ প্রস্তাব করছি:

(ক) সিগারেটের নিম্নস্তরের দশ শলাকার মূল্যস্তর ৫০ টাকা ও তদুর্ধ্ব এবং সম্পূরক শুল্ক ৬০ শতাংশ ধার্যের প্রস্তাব করছি। এছাড়া মধ্যম স্তরের দশ শলাকার মূল্যস্তর ৭০ টাকা ও তদুর্ধ্ব, উচ্চ স্তরের দশ শলাকার মূল্যস্তর ১২০ টাকা ও তদুর্ধ্ব, অতি-উচ্চ স্তরের দশ শলাকার মূল্যস্তর ১৬০ টাকা ও তদুর্ধ্ব এবং এই তিনটি স্তরের সম্পূরক শুল্ক ৬৫.৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি;

(খ) প্রতি দশ গ্রাম জর্দার সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৪৮ টাকা এবং প্রতি দশ গ্রাম গুলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করার প্রস্তাব করছি।

১০. স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের কোন-বিকল্প নেই। আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, বর্তমানে মূসক নিবন্ধন ও রিটার্ন দাখিল অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে রেভিনিউ শেয়ারিং পদ্ধতিতে আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে Electronic Fiscal Device (EFD)/Sales Data Controller (SDC) স্থাপন শুরু হয়েছে। E-payment ও A-Challan এর মাধ্যমে রাজস্ব জমা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক VAT Expenditure Analysis সম্পন্ন করা হয়েছে, যা বাজেট প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে। ২০২২ সালে VAT Expenditure তথা মূসক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে ১,২৯,৫৭০ কোটি টাকার। মূসক অব্যাহতি যৌক্তিকীকরণসহ LDC হতে Graduation এবং কর জিডিপি অনুপাত কাঙ্গিত মাত্রায় উন্নীতকরণের লক্ষ্যে, সক্ষমতা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন খাতের অব্যাহিত সুবিধা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। উপর্যুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে মূসক খাতে কাঙ্খিত রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব; যা উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মর্মে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

আয়কর
মাননীয় স্পিকার
১. আয়কর একটি দেশের অর্থনীতির অভ্যন্তরীণ চালিকা শক্তি যা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়কর সাধারণত প্রগতিশীল ভিত্তিতে আরোপ করা হয়, যার লক্ষ্য হল করভার ন্যায়সঙ্গতভাবে বন্টন করা যেন উচ্চ আয়ের ব্যক্তি নিম্ন আয়ের ব্যক্তির তুলনায় তাদের আয়ের বৃহত্তর অংশ আয়কর হিসাবে পরিশোধ করে। আয়ের পুনর্বন্টনের মাধ্যমে সমতা ও সামাজিক ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাকল্পে এ বছর গৃহীত করনীতিসমূহ নিম্নরূপ, যথা:-

• ভূতাপেক্ষ (retrospective) করহারে পরিবর্তে ভবিষ্যাপেক্ষ (prospective) করহার প্রদান করে আধুনিক করব্যবস্থায় প্রবেশ;
• সকল করদাতার জন্য স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা;
• প্রত্যক্ষ করব্যয় যৌক্তিকীকরণ;
• ন্যূনতম করের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ;
• নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদিসহ অন্যান্যক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তন ও সংগ্রহের হার যৌক্তিকীকরণ;
• করভিত্তি ও করনেট সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন;
• কর ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন;
• কর পরিপালন বৃদ্ধিকল্পে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনয়ন

মাননীয় স্পিকার
২. স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিম্নবর্ণিত আইটি সেবাসমূহসহ অন্যান্য কতিপয় খাতে ১ জুলাই ২০২৪ হতে ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত অর্জিত আয়কে করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যথা:-

• এআই বেজড্ সলিউশন ডেভেলপমেন্ট
•  সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট 
•  ব্লকচেইন বেজড্ সলিউশন ডেভেলপমেন্ট 
•  রোবোটিক্স প্রসেস আউটসোর্সিং
•  সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস
•  সাইবার সিকিউরিটি সার্ভিস
•  ডিজিটাল ডেটা এনালাইটিক্স ও ডেটা সাইয়েন্স
•  মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস, ইত্যাদি

মাননীয় স্পিকার
২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা ও ফার্মের জন্য নিম্নরূপ করহার প্রস্তাব করা হয়েছে, যথা:-

2.                ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য কোম্পানি ও অনান্য করদাতাদের জন্য নিম্নরূপ করহার প্রস্তাব করা হয়েছে, যথা:-



২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ করবর্ষের জন্য অন্যান্য করহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।


মাননীয় স্পিকার

১. আপনি অবগত আছেন, প্রতিবছর আমরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে বিপুল করছাড় প্রদান করি। এই মহান সংসদের মাধ্যমে আমরা এ দেশের জনগণকে ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের প্রাক্কলিত ও ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষের জন্য প্রক্ষেপিত করছাড়ের পরিমাণ জানাতে চাই। ২০২১-২০২২ অর্থবর্ষের জন্য প্রাক্কলিত প্রত্যক্ষ করব্যয় ১,১৫,৬১৬ কোটি টাকা যা উক্ত বছরের জিডিপির ২.৯১%। ২০২৪-২০২৫ অর্থবর্ষের জন্য প্রক্ষেপিত প্রত্যক্ষ করব্যয় ১,৬২,৮৮৫ কোটি টাকা যা এই বছরের জন্য প্রাক্কলিত জিডিপির ২.৯১%। 

আমদানি পর্যায়ের শুল্ক
মাননীয় স্পিকার
নতুন কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর এর  বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা:

২.ইংরেজি ভাষায় প্রণীত Customs Act, 1969 এর স্থলে বাংলায় কাস্টমস আইন, ২০২৩ প্রণয়ন করা হয়েছে।
৩.আগামী ০৬ জুন, ২০২৪ খ্রি. তারিখ হতে কাস্টমস আইন, ২০২৩ কার্যকর করা হবে যা ইতিমধ্যে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয়েছে।

শুল্কহার পরিবর্তন সম্পর্কিত

৪.চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদ্যমান ৬ স্তর বিশিষ্ট আমদানি শুল্ক হার, ১২ স্তর  বিশিষ্ট সম্পূরক শুল্ক হার এবং আবশ্যিকভাবে বিদ্যমান ৩% রেগুলেটরি ডিউটি হার অব্যাহত রাখা হয়েছে।  

৫.এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রী, প্রধান প্রধান খাদ্যদ্রব্য, সার, বীজ, জীবন রক্ষাকারী ঔষধ এবং আরো কতিপয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ ও ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণ

৬.ট্যারিফ যৌক্তিকীকরণের অংশ হিসেবে বিগত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় –

•১০ টি হেডিং সংশ্লিষ্ট পণ্যের ন্যূনতম মূল্য প্রত্যাহার করা হয়েছে; 
•৫ টি হেডিং সংশ্লিষ্ট পণ্যের ন্যূনতম মূল্য যৌক্তিকীকরণ করা হয়েছে; এবং
•৩ টি হেডিং সংশ্লিষ্ট পণ্যের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৭. রেগুলেটরি ডিউটি ও সম্পূরক শুল্ক পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করার অংশ হিসেবে –

•১৯ টি পণ্যের সাপ্লিমেনটরি ডিউটি প্রত্যাহার এবং ১৭২ টি পণ্যের সাপ্লিমেনটরি ডিউটি হ্রাস করা হয়েছে; এবং
•৯১ টি পণ্যের রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

৮. এছাড়া, পূর্বের ধারাবাহিকতায় এবারের বাজেটেও মোট ১০ টি পণ্যের বিদ্যমান ট্যারিফ Bound tariff এর মধ্যে আনা হয়েছে।

কৃষিখাত
৯.কৃষিখাত কে অগ্রাধিকার খাত বিবেচনা করে

•কাজু বাদাম আমদানিতে  আমদানি শুল্ক ১৫% হতে হ্রাস করে ৫% ও এসেপটিক প্যাক আমদানিতে আমদানি শুল্ক (CD) ২৫% হতে হ্রাস করে ১০%নির্ধারণ করা হয়েছে।
•দেশে উৎপাদিত কাজু বাদামেরর বাজার বিকাশের উদ্দেশ্যে কাজু বাদাম আমদানিতে ১০% রেগুলেটরি ডিউটি (RD) আরোপ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাত
• কিডনী রোগীর ডায়ালাইসিস এ ব্যবহৃত অতীব প্রয়োজনীয় উপাদান কিডনী ডায়ালাইসিস ফিল্টার ও সার্কিট আমদানির জন্য নতুন H.S. Code সৃজন করে আমদানি শুল্ক (CD) ১০% হতে হ্রাস করে ১% করা হয়েছে।
• Spinal Needle কে সহজলভ্য করার জন্য উক্ত পণ্যটির জন্য নতুন H.S. Code সৃজন করে আমদানি শুল্ক (CD) ৫% নির্ধারণ করা হয়েছে। 
• এ্যাম্বুলেন্স আমদানিতে শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট H.S. Code এর বর্ণনা সংশোধন করা হয়েছে।
• ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ঔষধ সুলভে প্রাপ্তির জন্য ক্যান্সারের ঔষধ উৎপাদন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন এবং ঔষধের কাঁচামাল উৎপাদন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে কতিপয় উপকরণ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
• রেফারেল হাসপাতাল কর্তৃক রেয়াতি সুবিধায় উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান সুবিধা কিছুটা হ্রাস করা হয়েছে।

শিল্পখাত
১০.স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য যে সকল ক্ষেত্রে শুল্ক হার হ্রাস করা হয়েছে:

• পুনঃ মোড়কজাতকরণ শিল্পের বিকাশের জন্য গুড়া দুধ আমদানিতে প্রযোজ্য ২০% সম্পূরক শুল্ক (SD) প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে বাল্ক আকারে মিথানল আমদানির ক্ষেত্রেও আমদানি শুল্ক (CD) ১০% হতে হ্রাস করে ৫% ধার্য হয়েছে।
• টেক্সটাইল শিল্পের বহুল ব্যবহৃত উপকরন Polyester (Synthetic) Staple Fibre (PSF)  ও Pet chips উৎপাদনে ব্যব্যহৃত কাঁচামাল Mono-Ethylene Glycol (MEG) এবং Purified Terephthalic Acid (PTA) আমদানিতে আমদানি শুল্ক (CD) হ্রাস করে ১% ধার্য করা হয়েছে।
• কার্পেট উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল Polypropylene yarn আমদানিতে আমদানি শুল্ক (CD) ১০% হতে হ্রাস করে ৫% নির্ধারণ করা হয়েছে।
• ফেরো এলয় উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল ম্যাংগানিজ আমদানিতে আমদানি শুল্ক (CD) ১০% হতে হ্রাস করে ৫% ধার্য হয়েছে।

১১. স্থানীয় শিল্পের প্রতিরক্ষনের জন্য যে সকল ক্ষেত্রে শুল্ক হার বৃদ্ধি করা হয়েছে:

• LRPC Wire উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল Wire of iron or non-alloy steel আমদানিতে আমদানি শুল্ক (CD) ১০% হতে বৃদ্ধি করে ১৫% ধার্য করা হয়েছে।
• তাঁত শিল্পে ব্যবহারের জন্য রেয়াতি সুবিধায় উপকরণ আমদানি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে Glaubar Salt এর বর্ণনা Disodium Sulphate দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
• এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটর উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি সুবিধা প্রদান সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন হতে কম্প্রেসারকে প্রত্যাহার করে অন্যান্য উপকরণের আমদানি শুল্ক (CD) বৃদ্ধি করা হয়েছে।
• সুইচ সকেট উৎপাদনকারী শিল্পের ব্যবহৃত সুইচ, পার্টস ও প্লাগ আমদানিতে বিদ্যমান ন্যূনতম মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।
• স্থানীয় পর্যায়ে ইলেকট্রিক মোটর উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রদান করে একটি নতুন প্রজ্ঞাপন জারী করা হয়েছে।
• এছাড়া বর্তমানে ০২ (দুই) লক্ষ বিটিইউ এর অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ারকন্ডিশনার আমদানিতে ১% আমদানি শুল্ক প্রযোজ্য। উক্ত সীমা বৃদ্ধি করে ০৩ (তিন) লক্ষ বিটিইউ নির্ধারন করা যেতে পারে অর্থাৎ ০৩ (তিন) লক্ষ বিটিইউ এর অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন এয়ারকন্ডিশনার আমদানিতে ১% আমদানি শুল্ক ধার্য করা যেতে পারে।
• সকল স্তরে শুল্ক-কর প্রদানের সংস্কৃতি চালু করার জন্য মাননীয় সংসদ সদস্যগণ কর্তৃক গাড়ী আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক কর অব্যাহতির সুবিধা সংক্রান্ত বিধানটি পরিবর্তন করা যেতে পারে।
এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়কে এ সংক্রান্ত বিধান The Members of Parliament (Remuneration & Allowances) Order, 1973 তে প্রয়োজনীয় সংশোধনী অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

১. ব্যাগেজ বিধিমালা সংশোধন
ব্যাগেজ বিধিমালা যৌক্তিকীকরণের জন্য

• কাস্টমস শুল্ক ফাঁকির প্রবনতা রোধকল্পে স্বর্ণালংকার এর সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।
• ব্যবসার উদ্দেশ্যে আনীত ব্যাগেজ এর অপব্যবহার রোধে Unaccompanied Baggage শুল্ক-কর পরিশোধ সাপেক্ষে খালাস করার বিধান করা হয়েছে।
• শুল্ক-কর পরিশোধ সাপেক্ষে ০১ (এক) টি নতুন মোবাইল ফোন আমদানি করার বিধান এবং শুল্ক-কর পরিশোধ ব্যতিরেকে ব্যবহৃত সর্বোচ্চ ০২ (দুই) টি মোবাইল ফোন আনার বিধান করা হয়েছে।

২. কাস্টমস আইনের কতিপয় ধারা সংশোধন ও কতিপয় নতুন বিধান সংযোজন

• কাস্টমস কর্মকর্তা নিয়োগ বা ক্ষমতা অর্পণ সংক্রান্ত ধারা ৪ এবং ৬ এর সংশোধন।
• বকেয়ার হিসাব সহজ করার লক্ষ্যে ধারা ৩২ এর সংশোধন।
• গ্যারান্টির ধরণ এবং গ্যারান্টি প্রদানের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণ সংশ্লিষ্ট ধারা ৪১ এর সংশোধন।
• পণ্য ঘোষণার সংশোধন এর ক্ষেত্রে বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এর ধারা ৮৬ তে প্রয়োজনীয় সংশোধন।
• অখালাসকৃত পণ্য নিলাম সংশ্লিষ্ট ধারা সহজীকরণের উদ্দেশ্যে ধারা ৯৪ এর উপ-ধারা (২) এর সংশোধন।
• বিধিতে দণ্ড আরোপের বিধান রেখে ধারা ১৭১ এর সংশোধন।
• চলতি দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তাগণের ন্যায়নির্ণয়ন ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা ২০২ স্পষ্টীকরণ।
• আপিল দায়ের সংক্রান্ত বিধান সংশোধন।
• দেওয়ানি আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কিত বিধান সংযোজন।
• আদালতের নির্দেশনার ক্ষেত্রে দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপনের বিধান রেখে ধারা ২৬১ এর সংশোধন।
• বিশেষায়িত কার্যকর ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ধারা ২৬৪ এর পর নতুন ধারা ২৬৪ক সংযোজন।
• এ আইনের অধীন যে কোনো কার্যক্রম ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সম্পাদন করার আইনী বিধান সংযোজনের লক্ষ্যে ধারা ২৬৫ এর উপ-ধারা (১) এর সংশোধন।

৩. নতুন বিধিমালা প্রণয়ন

• ইলেক্ট্রনিক রেকর্ড এবং ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট বিধিমালা, ২০২৪
• কাস্টমস গ্যারান্টি বিধিমালা, ২০২৪
• পণ্য ঘোষণা, শুল্কায়ন ও পুনঃশুল্কায়ন বিধিমালা, ২০২৪
• এক্সপ্রেস পদ্ধতির আওতাভুক্ত পণ্যচালান দ্রুত খালাসকরণ (Expedited Shipment) বিধিমালা, ২০২৪
• আন্তর্জাতিক দরপত্রের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়ে জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে পণ্য তৈরির কাঁচামাল আমদানিতে প্রযোজ্য শুল্ক কর অব্যাহতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন
• বন্ডেড ওয়্যারহাউস ব্যবস্থাপনা

৪. কাস্টমস আইনের প্রথম তফসিলের সংশোধন

• ৭৮ টি H.S. Code এর বর্ণনা পরিবর্তন/সংশোধন করা হয়েছে।
• ৪ টি H.S. Code বিভাজন (Split) করা হয়েছে।
• ১২ টি H.S. Code একীভূত (Merge) করা হয়েছে।
• ১০ টি H.S. Code নতুন সৃষ্টি করা হয়েছে ।
• ১ টি H.S. Code বিলুপ্ত করা হয়েছে

মাননীয় স্পিকার
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাগ্রত অকুতোভয় বাংলার মানুষ আজ আমাদের অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার সাহসী যোদ্ধা। অপরিমেয় ত্যাগ ও আত্মদানে মহিমান্বিত এই পূন্যভূমি সকলের সম্মিলিত প্রয়াসে শত ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে অপরাজেয় প্রত্যয়ে বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখার দৃপ্ত অঙ্গীকারে সাজানো হয়েছে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট।   চলমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং অভ্যন্তরীণ সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে রাজস্ব খাতের যুগোপযোগী সংস্কার এবং সেই লক্ষ্যে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, কর নেট বৃদ্ধি, কর বহির্ভূত রাজস্ব আদায় এবং প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে যাতে পর্যাপ্ত সম্পদের যোগান নিশ্চিত করা যায়। বাজেট ঘাটতি  ধারণযোগ্য পর্যায়ে রেখে ঘাটতি নির্বাহে বৈদেশিক উৎসের উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস করা হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কৃচ্ছ্রসাধন কর্মসূচি সীমিত পরিসরে চালু রাখা হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ হতে নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষা প্রদান কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসৃজন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য , কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলাসহ সরকারের অগ্রাধিকার খাতসমূহে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিক্রমাকে প্রাধিকার দিয়েই এই অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

স্মার্ট বাংলাদেশের দর্শনকে দর্পণে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রতিটি খাতে আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী ভৌত, সামাজিক ও প্রযুক্তি অবকাঠামো বিনির্মাণের প্রতি জোর দেয়া হয়েছে যাতে স্মার্ট সমাজ, স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার এবং সর্বোপরি স্মার্ট অর্থনীতির সুফল দেশের সর্বশেষ প্রান্তে থাকা নাগরিকের কাছেও আমরা পৌঁছে দিতে পারি।

বাঙ্গালীর উন্নয়ন অগ্রযাত্রার স্বপ্নসারথি ও মুক্তির প্রতীক জাতির পিতার সাহস আর স্বপ্নের হাত ধরে তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটু একটু করে গড়ে তুলছেন স্বপ্নের সোনার বাংলা। যার দূরদর্শী দিকনির্দেশনায় প্রিয় স্বদেশ আজ দৃঢ় প্রত্যয়ে, লক্ষ্য স্থির করে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে এগিয়ে চলেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। নানা প্রতিকূল পরিবেশেও নিরবচ্ছিন্ন উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে বিশ্বদরবারে ঘাত সহিষ্ণু জাতি হিসাবে আমরা স্বীকৃত ও প্রশংসিত। জনমানুষের জননেত্রী, দেশরত্ন শেখ হাসিনার সাহসী ও গতিশীল উন্নয়ন কৌশলে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি জ্ঞানভিত্তিক, সুখী-সমৃদ্ধ, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন পূরণ করে আমরা এগিয়ে যাব অপার সম্ভাবনাময় আগামীর পথে ইনশাআল্লাহ্‌। 

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
জয়তু শেখ হাসিনা
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
---------------- ০ ----------------

টাইমলাইন: বাজেট ২০২৪-২৫

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App