নিখোঁজের ৪ দিন পর কৃষক উদ্ধার
মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর গাবতলী হাটে গরু বিক্রি করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে মুজাম বিশ্বাস (৭০) ও সুরুজ আলী (৩০) নামের দুই ব্যক্তি নিখোঁজ হয়েছেন। এ ঘটনার চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুজাম বিশ্বাস উদ্ধার করেছে স্বজনরা।
শুক্রবার (২৯ মে) দিবাগত রাত ১টায় জিরানী বাজার এলাকার নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে খুঁজে পান স্বজনরা। পরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
শনিবার (৩০ মে) সকালে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনো তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছেন না এবং অনেককেই ঠিকমতো চিনতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে একটি ষাঁড় গরু বিক্রির উদ্দেশ্যে মেয়ের জামাই সুরুজ আলীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে যান বৃদ্ধ কৃষক মুজাম বিশ্বাস। পরে গরুটি তারা ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। তবে নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিক্রির সেই টাকা রাতেই অন্য একজনের মাধ্যমে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন তারা।
গরু বিক্রি শেষে রাত ১টার দিকে একটি লোকাল বাসে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন শ্বশুর-জামাই। ধারণা করা হচ্ছে, পথিমধ্যে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা কৌশলে তাদের চেতনানাশক কিছু খাইয়ে অচেতন করে ফেলে।
পরদিন বুধবার দুপুরে গাজীপুর এলাকা থেকে সুরুজ আলীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকলেও, ঘটনার পর থেকে এখনও কোনো সন্ধান মেলেনি বৃদ্ধ কৃষক মুজাম বিশ্বাসের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সুরুজ আলীর কাছে থাকা টাকা-পয়সা ও মূল্যবান মালামাল লুটে নিয়েছে। ঘটনার পর থেকে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও মুজাম বিশ্বাসের কোনো হদিস না পাওয়ায় চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় কাটছে স্বজনদের।
নিখোঁজের খবরে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবার। যে ঈদকে ঘিরে বাড়িতে ছিল আনন্দের প্রস্তুতি, সেই ঈদই এখন তাঁদের কাছে রূপ নিয়েছে এক দুঃস্বপ্নে। নিখোঁজ মুজাম বিশ্বাসকে দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি সহায়তা দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
স্বজনরা জানান, নিখোঁজের ঘটনা নিয়ে দৈনিক ভোরের কাগজের লাইভসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনলাইন ভার্ষনে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে আশুলিয়ার নাসির উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুজাম বিশ্বাসের ছবি ও পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে পরিচিতজনদের নজরে আসে বিষয়টি। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে শনাক্ত করেন।
জানা গেছে, এক মানবিক ভ্যানচালক আশুলিয়ার একটি সড়কের পাশে মুজাম বিশ্বাসকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। শুক্রবার দুপুরে তার জ্ঞান ফিরলেও কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা যায়। এছাড়া তার ডান পায়ে আঘাত রয়েছে, যার কারণে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াতেও কষ্ট হচ্ছে।
মুজাম বিশ্বাসের ছেলে মোয়াজ্জেম আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবার নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা সিংগাইর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি। কয়েকদিন ধরে আমাদের পরিবারে ঈদের কোনো আনন্দ ছিল না। বাবাকে ফিরে পাওয়ার আনন্দ আমাদের কাছে ঈদের আনন্দের চেয়েও বড়। তবে তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা ও দেখভাল চলছে।’
এ বিষয়ে সিংগাইর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্ধার সংক্রান্ত আরেকটি জিডি গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’
