×

অপরাধ

৪ মাসে ১ হাজার ১৪২ হত্যা, বেড়েছে অন্য অপরাধও

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০২:০১ পিএম

৪ মাসে ১ হাজার ১৪২ হত্যা, বেড়েছে অন্য অপরাধও

ছবি : সংগৃহীত

সারাদেশে খুন, অপহরণ, ডাকাতি, ছিনতাই, চুরি এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র চার মাসে এক হাজার ১৪২ জন হত্যার শিকার হয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এ সময় এ সংক্রান্ত মোট ১৩ হাজার ২২১টি মামলা দায়ের হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, জোরপূর্বক অর্থ আদায়, আর্থিক সংকটজনিত সামাজিক অস্থিরতা, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপের ঘাটতির কারণেই অপরাধের প্রবণতা বাড়ছে। নিহতদের স্বজনদের দাবি, অধিকাংশ পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জন হত্যার বিচার পায়নি। অনেক ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

গত ২৮ এপ্রিল রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে হত্যা করা হয়। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।

তবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের একটি ছকের মধ্যে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, টিটন হত্যা মামলা তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত প্রকাশ করা যাচ্ছে না। আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, খুনিদের মোটরসাইকেলে রায়েরবাজার পর্যন্ত যাওয়ার তথ্য শনাক্ত করা গেছে এবং একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে তদন্ত এগোচ্ছে।

আরো পড়ুন : রাজধানীর মিরপুরে বিশেষ অভিযান, গ্রেপ্তার ১৭৫

এদিকে শুক্রবার বরিশাল নগরে বাবু শিকদার নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ১৩ মে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে পুকুরপাড় থেকে মা ও মেয়ের পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ৮ মে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে সংঘবদ্ধ ও নতুন ধরনের অপরাধ মোকাবেলায় সক্ষমতা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।

রাজধানীতে একের পর এক হত্যা, ছিনতাই, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি বাড়ানোর পাশাপাশি নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ হামলার শিকার হচ্ছে। তাই নাগরিক সমাজের প্রতি অনুরোধ, পুলিশকে সহযোগিতা করুন এবং পাশে থাকুন।

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম চার মাসে হত্যা, অপহরণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, ডাকাতি-দস্যুতা এবং চুরি-ছিনতাই- এই পাঁচ ধরনের অপরাধে মোট ১৩ হাজার ২২১টি মামলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে তিন হাজার ৩০৫টি এবং প্রতিদিন প্রায় ১১০টি মামলা দায়ের হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই চার মাসে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ১৪২টি। দস্যুতার ঘটনায় ৫৯১টি, ডাকাতির ঘটনায় ১৮৪টি এবং চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনায় চার হাজার ৯৯টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের ঘটনায় ৩৪৭টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচ হাজার ৯৯৮টি মামলা দায়ের হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সারা দেশে মোট এক লাখ ৮১ হাজার ৭৩৭টি মামলা হয়েছিল। সে হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে মামলা হয়েছিল ১৫ হাজার ১৪৫টি।

টাঙ্গাইলের মাওলানা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। তাঁর মতে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে যেভাবে পুনর্গঠন ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন ছিল, রাষ্ট্রীয়ভাবে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে অপরাধীরা আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিংয়ে আগ্রহী ব্রাজিল

বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিংয়ে আগ্রহী ব্রাজিল

কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কুমিল্লা বিভাগ করার প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী

কাল আসবে কারিনার মরদেহ, দাফন সোমবার

কাল আসবে কারিনার মরদেহ, দাফন সোমবার

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: সন্দেহভাজনের তথ্য চেয়ে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা

জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: সন্দেহভাজনের তথ্য চেয়ে পুলিশের পুরস্কার ঘোষণা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App