বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি শিপিংয়ে আগ্রহী ব্রাজিল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। তবে দুই দেশের সম্ভাবনার তুলনায় বর্তমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখনো অনেক সীমিত বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা। বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরাসরি শিপিং ব্যবস্থা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন উভয়পক্ষ।
ব্রাজিলের স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানী ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি, কৃষিপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করে। অন্যদিকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাটজাত পণ্য ও সিরামিক রপ্তানিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার শুভেচ্ছা বাংলাদেশের জনগণ ও নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেন সেলসো আমোরিম। তিনি বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান কণ্ঠস্বর হিসেবে অভিহিত করেন।
আরো পড়ুন : ৪ মাসে ১ হাজার ১৪২ হত্যা, বেড়েছে অন্য অপরাধও
উভয় পক্ষ চলতি বছরের ব্রাজিলের সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিতব্য ফরেন অফিস কনসালটেশনস (এফওসি) নিয়েও আলোচনা করেন। সেখানে কৃষি, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ক্রীড়া, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও উদ্ভাবন খাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-ব্রাজিল সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হবে সমতা, মর্যাদা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং যৌথ সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী। দেশের কূটনীতি হবে আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন, সক্রিয় ও জাতীয় স্বার্থভিত্তিক। পাশাপাশি বর্তমান সরকার দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক শান্তি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও সমন্বিত উন্নয়নের স্বার্থে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
সেলসো আমোরিম বলেন, বাংলাদেশ ও ব্রাজিল উভয়ই গ্লোবাল সাউথের প্রভাবশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বহুমেরুকেন্দ্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর, জনস্বাস্থ্য, শিল্প উদ্ভাবন এবং প্রতিরক্ষা গবেষণায় দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
