×

চট্টগ্রাম

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মুরাদনগরে ব্যস্ত কামারপল্লী

Icon

রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ মে ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মুরাদনগরে ব্যস্ত কামারপল্লী

ছবি: সংগৃহীত

ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসতেই কুমিল্লার মুরাদনগরের ঐতিহ্যবাহী কামারপট্টিগুলোতে আবারও শুরু হয়েছে আগুন-লোহার পুরোনো লড়াই। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার, মুরাদনগর বাজার, রামচন্দ্রপুর বাজার, কামাল্লা বাজার ও যাত্রাপুর বাজারের কামারশালাগুলো। কোরবানির পশু জবাইয়ের জন্য দা, চাপাতি, বঁটি, ছুরি, চাকু ও কুড়াল তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার শিল্পীরা। তবে ব্যস্ততা থাকলেও নেই আগের সেই বেচাকেনা। বাজার দখল করেছে বিভিন্ন কোম্পানির তৈরি কারখানাজাত পণ্য। ফলে শতবর্ষী এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখন টিকে থাকার সংগ্রামে।

মুরাদনগরের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার এখনও বংশপরম্পরায় কামার শিল্পের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের দাবি, অন্তত ৮০ থেকে ১০০ বছরের পুরোনো এই পেশা একসময় ছিল গ্রামের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কৃষিকাজ থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রায় সব লৌহজাত সরঞ্জাম তৈরি হতো এসব কামারশালায়। কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্য।

শুক্রবার (১৫ মে) সরেজমিনে কোম্পানীগঞ্জ বাজারের কামার পট্টিতে গিয়ে দেখা যায়, আগুনের লেলিহান শিখা আর হাপরের বাতাসে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কামারশালাগুলো। কয়লার আগুনে লোহা গরম করে হাতুড়ির আঘাতে তৈরি করা হচ্ছে ধারালো দা, চাপাতি ও বঁটি। দোকানের সামনে সারি করে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন আকারের কোরবানির সরঞ্জাম।

৮০ বছর বয়সী প্রবীণ কামার শিল্পী তপন কর্মকার বলেন, ঈদের সময়টাই আমাদের ব্যবসার মূল মৌসুম। দা, বঁটি ও চাপাতি ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। শুধু মুরাদনগর না, হোমনা, নবীনগর ও বাঞ্ছারামপুর থেকেও মানুষ অর্ডার দিতে আসে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আগে হাতে বানানো জিনিসের কদর বেশি ছিল। এখন মানুষ কম দামে কোম্পানির তৈরি জিনিস কিনে। কিন্তু আমাদের তৈরি জিনিসের মান এখনও অনেক ভালো।

কামারপট্টিতে কাজ করতে দেখা যায় নিতাই কর্মকার (৭৫), উজ্জ্বল কর্মকার (৩৬) ও মো. আরিফ (২২)-কে। আগুনে লোহা পুড়িয়ে নিখুঁতভাবে ধার তৈরি করতে করতে তারা জানান, আকার ও মানভেদে একটি চাপাতি তৈরি করতে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এছাড়া দা, বঁটি, ছুরি ও চাকুর দাম রাখা হয় ২০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে।

তরুণ কারিগর মো. আরিফ বলেন, পরিশ্রম অনেক, কিন্তু লাভ কম। কয়লা, লোহা আর শ্রমিক খরচ বাড়ছে। তারপরও আমরা বাব-দাদার পেশা ধরে রাখার চেষ্টা করছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের ৫৪টি হাটবাজারে এখন কোরবানিকে ঘিরে দা-ছুরির চাহিদা বাড়লেও অধিকাংশ ক্রেতা ঝুঁকছেন হার্ডওয়্যার ও ক্রোকারিজ দোকানে বিক্রি হওয়া কারখানাজাত পণ্যের দিকে। এতে কামারশিল্পীরা ক্রমেই আর্থিক সংকটে পড়ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, সহজ ঋণ সুবিধা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাবে দেশের প্রাচীন এই শিল্প দ্রুত বিলুপ্তির পথে। অথচ গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কামারশিল্প এখনও বহন করছে বাংলার শত বছরের ইতিহাস।

ঈদ সামনে রেখে কোম্পানীগঞ্জ, রামচন্দ্রপুর কামার পট্টিতে তাই এখনও শোনা যায় লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ। কিন্তু সেই শব্দের ভেতরেই যেন লুকিয়ে আছে এক হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের দীর্ঘশ্বাস।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

মদনে পাচারকালে ২০ টন সরকারি চাল জব্দ, আটক ২

মদনে পাচারকালে ২০ টন সরকারি চাল জব্দ, আটক ২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাকচাপায় দুই প্রবাসী নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রাকচাপায় দুই প্রবাসী নিহত

পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু

পড়ে থাকা বিদ্যুতের তারে স্পৃষ্ট হয়ে দুইজনের মৃত্যু

মমতার আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতার প্রমান চাইল বার কাউন্সিল

মমতার আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতার প্রমান চাইল বার কাউন্সিল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App