হেগেরা চাকমা হত্যার প্রতিবাদ
ইউপিডিএফের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধের ঘোষণা
নন্দন দেবনাথ, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা হত্যার প্রতিবাদে রাঙ্গামাটিতে সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছে ইউপিডিএফ। আজ শনিবার দুপুরে সাজেকের উজো বাজারে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ইউপিডিএফের নেতাকর্মীরা এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার সকাল ১০টায় দীঘিনালায় ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যার প্রতিবাদে সাজেকের উজোবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল-পরবর্তী সমাবেশ থেকে এই সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউপিডিএফ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই তাৎক্ষণিক বিক্ষোভের আয়োজন করে।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে ইউপিডিএফ সংগঠক কালো বরণ চাকমার সভাপতিত্বে ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য বীর চাকমার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন পিসিপির বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার অর্থ সম্পাদক সুজয় চাকমা ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব বাবুধন চাকমা।
বাবুধন চাকমা বলেন, সাধারণ জনগণ বারবার সংঘাত বন্ধের দাবি জানালেও জাতীয় সুবিধাবাদী একটি মহল সংঘাত বন্ধ করতে চাচ্ছে না। তারা সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় থেকে রাষ্ট্রীয় জুম্ম ধ্বংসের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আমরা অচিরেই এ সংঘাত বন্ধ করে জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানাই।
জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার্থে যারা প্রাণ দেয় তারাই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান উল্লেখ করে ইউপিডিএফের সংগঠক কালো বরণ চাকমা বলেন, হত্যা, গুম, অপহরণ করে পার্বত্য চট্টগ্রামে জনগণের ন্যায্য আন্দোলন দমন করা যাবে না। যারা সেনাবাহিনীর গোলামী করে স্বজাত ভাই হত্যা করছে তারা দালাল। এ দালালদের বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে।
এদিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। শনিবার (৯ মে ২০২৬) সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইউপিডিএফের খাগড়াছড়ি জেলা ইউনিটের সংগঠক অংগ্য মারমা এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, দীঘিনালার কবাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জোড়াব্রীজ এলাকার শুকনোছড়া গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমা ওরফে তরুণ (৪৯)সহ দুইজন একটি বাড়িতে রাতযাপন করেন। সেখান থেকে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে সাংগঠনিক কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নিহত হেগেরা চাকমা (তরুণ) রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের রেতকাবা গ্রামের রঙ্গমনি চাকমার ছেলে বলে জানান অংগ্য মারমা। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, এ হত্যাকাণ্ডে জেকশন চাকমা ও আশীষ ত্রিপুরাসহ ১১ জন অংশ নেন এবং বর্ণ চাকমা নামে একজন তাদের নেতৃত্বে ছিলেন।
বিবৃতিতে অংগ্য মারমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে সন্ত্রাসীদের দিয়ে খুনের মহোৎসব চালানো হচ্ছে। এর আগে গত ৮ এপ্রিল খাগড়াছড়ির আকবাড়ি এলাকায় নিউটন চাকমা নামে আরেক ইউপিডিএফ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি অবিলম্বে হেগেরা চাকমা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি এবং সন্ত্রাসী বাহিনী ভেঙে দেওয়ার দাবি জানান।
উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি সাজেকের শুকনাছড়া এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় হেগেরা চাকমাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন এবং মারা যান। স্থানীয়দের দাবি, নিহত হেগেরা চাকমা ইউপিডিএফ (প্রসিত গ্রুপ)-এর ‘কালেক্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন।
