লালমনিরহাট
চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে বিজিবির কঠোর নজরদারি
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা লালমনিরহাটে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং গবাদিপশুসহ সব ধরনের চোরাচালান বন্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আজ শনিবার (৯ মে) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা জানানো হয়। সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এমন তৎপরতা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে এবং বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বিস্তীর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের টহল কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে দুর্গম চরাঞ্চল এবং যেসব পথ দিয়ে চোরাচালানের ঝুঁকি বেশি, সেসব স্থানে দিনরাত ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র পাহারা বসানো হয়েছে।
সংযুক্ত চিত্রে দেখা যাচ্ছে, বিজিবি সদস্যরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমান্তের দুর্গম ভুট্টাক্ষেতের সরু পথ দিয়ে টহল পরিচালনা করছেন। তাদের এই অতন্দ্র প্রহরা সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ যাতায়াত ও অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজিবি জানিয়েছে, অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধে কঠোরতা পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যাতে কোনো চিহ্নিত অপরাধী বা অবৈধ কোনো গোষ্ঠী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে একদল অসাধু চক্র সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু পাচারের চেষ্টা চালায়। এই অপতৎপরতা রুখতে এবং দেশের খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শুধু কঠোর নজরদারিই নয়, সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষকে আইন মানতে এবং অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বিজিবির পক্ষ থেকে বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সীমান্তবর্তী হাট-বাজার ও গ্রামগুলোতে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সীমান্তে সন্দেহভাজন কাউকে দেখা গেলে বা কোনো চোরাচালানচক্রের খবর পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করার জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমামের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবি সবসময় আপসহীন ছিল এবং থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “আমরা শুধু টহলই বাড়াইনি, বরং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং স্থানীয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝটিকা অভিযান জোরদার করেছি। মাদক, মানবপাচার কিংবা পুশ-ইনের মতো যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে আমাদের সদস্যরা সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় নিয়োজিত আছেন।”
এদিকে আসন্ন ঈদুল আজহা উৎসবের আগে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিজিবির এই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
