হাসপাতালের লিফটের পড়ে ছিল নারীর রক্তাক্ত লাশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কক্সবাজারে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের লিফটের নিচে চার দিন ধরে পড়ে থাকা এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় এ লাশের সন্ধান মিললে হাসপাতাল এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
নিহত নারী, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ ডেইলপাড়া এলাকার কাতার প্রবাসী নুরুল ইসলামের স্ত্রী কহিনুর আক্তার (৩২)।
নিহতের স্বজনরা জানায়,গত বুধবার (৩ মার্চ) নিজের ৭ বছর বয়সী মেয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন কহিনুর বেগম। মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ওইদিন বিকেল থেকেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন তিনি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তার কোনো হদিস না মেলায় নিখোঁজ কহিনুরের সন্ধান চেয়ে সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
নিহতের স্বামীর ভাইয়ের ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমার চাচিকে চারদিন ধরে পাওয়া যাচ্ছিল না। নানাভাবে তাকে আমরা খুঁজছিলাম। র্যাব-পুলিশকে জানানো হয়েছিল। আজকে হাসপাতালের সিসিটিভির ফুটেজ চেক করলে নিখোঁজের দিন তাকে চারতলার লিফটে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এরপর তিনি আর বের হননি। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই লিফট চেক করলে, সেখানে ওই নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। লিফটে দুর্ঘটনা কিংবা অন্যকারণে তার মৃত্যু হলো কিনা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।’
এদিকে এ ঘটনায় সরকারি হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেবাগ্রহীতারা বলছেন, চারদিন ধরে একটা মানুষের মরদেহ লিফটের নিচে পড়েছিল আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানল না? এ ঘটনা চরম অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্ব অবহেলার শামিল।
চিকিৎসা নিতে আসা রামুর বাসিন্দা তৈয়ব হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার দায় হাসপাতালকে নিতে হবে। লিফটের ত্রুটি যাচাই ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়মিত করলে এমন ঘটনার অবতারণা হতো না। সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
তবে এই বিষয়ে জানতে চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মং টিংঞোকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে বিস্তারিত বলা যাবে। আইন অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
