১৫০ বছরের ইতিহাস, অথচ মাথার ওপর নেই ছাদ
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ মে ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় দেড়শ বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী একটি মসজিদে মুসল্লিদের ইবাদত চলছে এখন খোলা আকাশের নিচে। উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে অবস্থিত এই মসজিদটি স্থানীয়দের কাছে ‘খায়গো বাড়ির মসজিদ’ নামে পরিচিত। দেড়শ বছরের ইতিহাস থাকলেও বর্তমানে কোনো ছাদ না থাকায় রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়েই নামাজ আদায় করতে হচ্ছে গ্রামবাসী ও মুসল্লিদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫০ বছর আগে জনৈক বাবুখাঁ নামের এক ব্যক্তি প্রথমে খড় ও বাঁশ দিয়ে মসজিদটি নির্মাণ করেন। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তনের ছোঁয়ায় এটি কাঠ, গোলপাতা এবং পরবর্তীতে টিন ও ইটের দেয়ালে রূপ পায়। তবে, দীর্ঘদিনের পুরোনো জরাজীর্ণ দেয়ালের পলেস্তারা ধসে ও ফাটল দেখা দেওয়ায় মুসল্লিদের নিরাপত্তার কথা ভেবে কমিটি পুরোনো কাঠামোটি ভেঙে ফেলে।
পুরোনো মসজিদের ইট ও সামান্য কিছু অর্থ নিয়ে দেড় বছর আগে একটি নতুন একতলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু অর্থাভাবে গত ছয় মাস ধরে সেই কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে মসজিদটি কেবল পিলারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে, নেই কোনো ছাদ কিংবা দেয়াল।
স্থায়ী ভবন না থাকায় বাধ্য হয়ে মুসল্লিরা এখন খোলা আকাশের নিচেই ওয়াক্তিয়া ও জুমার নামাজ আদায় করছেন। তবে অসহনীয় রোদ কিংবা হুটহাট বৃষ্টি নামলে নামাজ পড়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সম্পন্ন করতে সমাজের বিত্তবান ও সরকারি সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন।
মসজিদের নিয়মিত মুসল্লী দেলোয়ার মোল্লা বলেন, আমাদের মসজিদে ভরপুর মুসল্লি থাকে। কিন্তু বর্তমানে মসজিদটির ছাদ না থাকায় অনেক মুসল্লী কমে গেছে। ঝড়, বৃষ্টি ও রোদে নামাজ পড়তে অনেক কষ্ট হয়।
মসজিদের ইমাম ও খতিব অলিউল্লা জানান, মসজিদের চতুর্পাশে এক থেকে দেড়শ পরিবার রয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা এই মসজিদে নামাজ পড়েন। কিন্তু বর্তমানে ছাঁদ না থাকায় ঝড় বৃষ্টিতে তারা নামাজ পড়তে পারেন না। এজন্য দিন দিন মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা কমে যাচ্ছে।
মসজিদের সহ-সভাপতি হামিদ মিয়া বলেন, মাত্র ৫০ হাজার টাকা দিয়ে মসজিদের কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু এখন মসজিদের ফান্ডে কোনো টাকা নেই। আশেপাশের সকল পরিবারই গরীব তাদের দেয়া অর্থের মাধ্যমে তারা পিলার পর্যন্ত উঠিয়েছেন। মসজিদের সামান্য যে সম্পদ আছে, তাতে বছরে যে অর্থ আসে তা দিয়ে ইমাম মোয়াজ্জিনের বেতন দেয়াই কষ্টকর হয়। বর্তমানে মসজিদ পৌনে তিন লক্ষ টাকা ঋণে রয়েছে। তাই সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তিদের সহযোগিতা ছাড়া মসজিদের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন মিয়া বলেন, মসজিদে যে পর্যন্ত কাজ হয়েছে তাতে তারা সাত থেকে আট লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। বর্তমানে মসজিদ ঋণে রয়েছে। ফান্ডে আপাতত কোনো টাকা নেই। অতিদ্রুত ছাঁদটি দিতে না পারলে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা শূন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দেশ ও প্রবাসের সকলকের সহযোগিতা তিনি কামনা করছেন।
বিষয়টি কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদের নজরে আনলে তিনি সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
