×

জাতীয়

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ঝুঁকি কংগ্রেসওম্যানকে জানাল ঐক্য পরিষদ

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২৯ পিএম

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ঝুঁকি কংগ্রেসওম্যানকে জানাল ঐক্য পরিষদ

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র হাইজ অফ রেপ্রেজেন্টেটিভের বাংলাদেশ ককাস সদস্য কংগ্রেসওম্যান গ্রেইস মেং-কে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনকালে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানিয়েছে সেখানকার হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এর জবাবে গ্রেইস মেং বলেন, সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করা প্রতিটি সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টিকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচনা করে। নির্বাচনকালে তো বটেই, সংখ্যালঘু নির্যাতন সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে তিনি মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশে ককাসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। গত শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের ফ্রেস মিডোজে ঘণ্টাব্যাপী আয়োজিত সভায় এসব কথা আলোচিত হয়। পরে সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ড. দিলীপ নাথের বাড়িতে আয়োজিত ওই সভায় অধ্যাপক নবেন্দু দত্ত, রূপকুমার ভৌমিক, ডক্টর দিলীপ নাথ, ভজন সরকার, ভবতোষ মিত্র, প্রণবেন্দু চক্রবর্তি, সুশীল সিনহা ও ডক্টর দ্বিজেন ভট্টাচার্য মার্কিন কংগ্রেসওম্যানের কাছে বাংলাদেশে নিরন্তরভাবে চলা সংখ্যালঘু নির্যাতনে ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। তারা এও বলেন, এই নির্যাতন কারা করছে, তাদের উদ্দেশ্য কী, এই সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধ করতে এপর্যন্ত কোনো সরকারের কী ভূমিকা ছিল সেসব বিষয়েও কংগ্রেসওম্যানকে বলেন। সংখ্যালঘু নির্যাতনের নানা দলিলপত্র গ্রেইস মেংয়ের হাতে তুলে দিয়ে তারা আসন্ন ভোটে বাংলাদেশে থাকা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এছাড়াও ১৯৭১-এর গণহত্যার পটভূমি, ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুর্ভোগের অনুপুঙ্খ কাহিনী, দেশের প্রথম সংবিধানে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও রাজনীতিতে ধর্মীয় উগ্রপন্থী-মৌলবাদীদের পুনর্বাসন এবং সাংবিধানিকভাবে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম করে জন্মগতভাবে ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশকে কার্যত ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করা, অত্যাচারের মুখে দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ায় দেশের মোট জনসংখ্যায় হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের প্রতিনিধিত্বের হার ও সংখ্যা অবিশ্বাস্য পরিমাণে কমে যাওয়ার কারণ এবং তার ফলে বাংলদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব বিলুপ্ত হতে আর যে মাত্র তিরিশ বছর লাগবে তাও একটি পরিসংখ্যান-নির্ভর ভবিষ্যদ্বাণী কংগ্রেসওম্যানকে জানানো হয়। বক্তারা কংগ্রেস ওম্যানকে বলেন, তাদের মতে প্রধানত দুই কারণে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব বিপন্ন হচ্ছে। প্রথমটি হচ্ছে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র রাজনৈতিক আঁতাত ও মোর্চা গঠন; আর দ্বিতীয়টি হল সংখ্যালঘু নির্যাতক ঐসব ধর্মীয় উগ্রপন্থী ও মৌলবাদীদের তোষণ করার জন্য তাদের কখনো বিচারের আওতায় না আনা। বক্তারা বলেন, বিএনপি সংবিধান লঙ্ঘন পূর্বক একাত্তরের গণহত্যায় প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণকারী জামায়াতে ইসলামীর মত যুদ্ধাপরাধী ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট বেঁধেছে এবং এক কালের ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগ তার প্রগতিশীল চরিত্র বিসর্জন দিয়ে ধর্ম-নিরপেক্ষ গণতন্ত্র এবং সংখ্যালঘু নাগরিকদের সম-নাগরিক অধিকার ও অস্তিত্বের বিনিময়ে হেফাজত-এ-ইসলাম সহ কয়েকটি মৌলবাদী দলের সঙ্গে অশুভ আঁতাত করেছে। ‘প্রগতিশীল দল’ বলে দাবিদার আওয়ামী লীগ যদিও বিএনপি-এর মত নিজেরা কখনো সংখ্যালঘু নির্যাতন করেনি, তারা সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস বন্ধ করার কোনো টেকসই ব্যবস্থাও গ্রহণ করেনি; সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী ধর্মীয় মৌলবাদীদের তোষণ করতে দু’চারটে বহুল প্রচারিত ঘটনা ছাড়া তারা কোনো সংখ্যালঘু নির্যাতকের বিচার করেনি। সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করা, এবং তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণে বিএনপি বা জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো তফাৎ নেই। ২০০১ -২০০৬ সালের ঘটনা টেনে এনে তারা বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট যে বর্বর অত্যাচার চালিয়েছিল সে’সব ঘটনার তদন্তের ভিত্তিতে তৈরি রিপোর্ট, যাতে শনাক্তকৃত কয়েক হাজার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী অপরাধীর মধ্যে সরাসরি বিচারযোগ্য ২ হাজার ৬০০ অপরাধীর নাম রয়েছে, যা ২০১১ সালে জজ্ সাহাবুদ্দীন কমিশন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেছিল, তাদেরও কারো বিচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এখনো করেনি, যা সন্ত্রাসীদের সহিংসতার মাধ্যমে দেশ থেকে সংখ্যালঘু বিতাড়নে উৎসাহ যোগাচ্ছে বলেও তারা দাবি করেন। বক্তারা বলেন, প্রগতিশীল দল বলে দাবিদার ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের এই দুঃখজনক ভূমিকার ফলে, ২০১২ সালে রামুতে পঁচিশ হাজারের অধিক মৌলবাদীর বৌদ্ধদের ওপর বর্বর আক্রমণের পর থেকে একের পর এক অসংখ্য অত্যাচারের ঘটনা ঘটেছে, যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার চাইলেই ঠেকাতে পারত। বক্তারা একের পর এক সকলে আসন্ন নির্বাচনকালে সংখ্যালঘু নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলে, কংগ্রেসওম্যান এর কারণ জানতে চান। তখন বক্তারা ২০০১ সালের নির্বাচনের অব্যবহিত পর এক রাতে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর সদস্যরা যে চরফ্যাশনে এক রাতে একটি স্পটে ২০০ হিন্দু মেয়েকে ধর্ষণ করে নির্বাচনী বিজয়োল্লাস করেছিল, সেই সময় ধর্ষিতা নারীর ৯৮ শতাংশ যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছিল এবং তৎপরবর্তি সময়ে দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করে, লুটপাট করে, দেবদেবীর মূর্তি ও উপাসনালয় গুড়িয়ে দিয়ে, পাশবিক অত্যাচার ও হত্যা করে তাদের পূর্ব পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে শূন্য হাতে দেশত্যাগে বাধ্য করেছিল সে’সবের বর্ণনা করে তার সপক্ষে দলিলপত্র কংগ্রেসওম্যানের হাতে তুলে দেন। নেতৃবৃন্দ কংগ্রেসওম্যানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, অগ্রীম ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ওই ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই পারে, কারণ বাংলাদেশকে সংখ্যালঘু শূন্য করে দ্রুত দেশটাকে আরেকটি আফগানিস্তান বা পাকিস্তানে পরিণত করা যাদের ঘোষিত লক্ষ্য তারা সুযোগ পেলেই সেটা করবে। এটা করতে তারা বিন্দু মাত্র দ্বিধা করবে না, কারণ সন্ত্রাসীরা জানে যে কোন রাজনৈতিক দলই অতীতে যেমন এই অপরাধের জন্য তাদের বিচার করেনি তেমনি ভবিষ্যতেও করবে না। ব্যাপারটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে সেটা অনারেবল কংগ্রেসওম্যানকে বোঝানোর জন্য একজন বক্তা ওনাকে তৎকালীন সময়ের কয়েকটি মিডিয়া রিপোর্ট পড়ে শোনান। নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রক্রিয়া চিরতরে বন্ধ করার লক্ষ্যে অনেক আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে (এর কপি কংগ্রেসওম্যানকে হস্তান্তর করা হয়) একটি ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ পাশ করবেন প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে জেতার পরই যদি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন’ পাশ করত তা’হলে ২০২১ সালের শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় কুমিল্লার নানুয়ার দিঘীর পাড় থেকে শুর করে ২২টি জেলা জুড়ে যে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নারকীয় তাণ্ডব হয়ে গেল সেটা হ’ত না, আজ দেশের সংখ্যালঘু নাগরিকদেরকে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও উৎকণ্ঠায় থাকতে হত না। কংগ্রেসওম্যান গ্রেইস মেং বলেন, তিনি আন্তরিকভাবে চান যে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে একটি ফ্রী অ্যান্ড ফেয়ার নির্বাচন হোক যাতে সংখ্যালঘু নাগরিকসহ দেশের সব নাগরিক নিরাপদে অংশ গ্রহণ করতে পারে। তিনি আরো বলেন, সংখ্যালঘু নাগরিকদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করা প্রতিটি সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়টিকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে বিবেচনা করে। নির্বাচনকালে তো বটেই, সংখ্যালঘু নির্যাতন সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে তিনি মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশে ককাসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলেও আশ্বাস দেন। পরে কংগ্রেসওম্যান গ্রেইস মেং বাংলাদেশ সফরে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলে সভায় উপস্থিত সবাই তাকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও দেশের প্রগতিশীল শক্তিকে সাহায্য করতে অনুরোধ জানান যাতে বাংলাদেশে ১৯৭২ সালের সংবিধান, অর্থাৎ ধর্ম-নিরপেক্ষ গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

পরিচয় বিভ্রান্তিতে যুবক আটক

পরিচয় বিভ্রান্তিতে যুবক আটক

ফেসবুকে ডাক দিয়ে নিজেই ধোলাই খেলেন জুবায়ের

ফেসবুকে ডাক দিয়ে নিজেই ধোলাই খেলেন জুবায়ের

দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী

দেশে ফিরলেন আটকে পড়া ৩৩ উমরাহ যাত্রী

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যৌথ কমিটিতে বিরোধী দলের ৫ এমপির নাম প্রস্তাব

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যৌথ কমিটিতে বিরোধী দলের ৫ এমপির নাম প্রস্তাব

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App