×

বিনোদন

বাড়ি তার বাংলা

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০১৮, ০৪:৫৮ পিএম

বাড়ি তার বাংলা
অ্যাডগুরু, সরকারি কবি নাকি চারণকবি! রূপচাঁদ সেনকে যেই নামে ডাকা হোক না কেন তাতেই ফিট তিনি। প্রথমে কপিরাইটার, এরপর বিয়ের কিংবা বাচ্চার মুখে ভাতের অনুষ্ঠানের কার্ডের ভাষা চয়নকারী, এরপর রাজনৈতিক দলের সেøাগান লেখক, সবশেষ সরকারি দলের কবি। পেশা বদলালেও রূপচাঁদকে সবসময় বাংলা শব্দ নিয়ে খেলতে দেখা গেছে। বলছিলাম টালিগঞ্জের পরিচালক রঙ্গন চক্রবর্তীর ছবি ‘বাড়ি তার বাংলা’র প্রধান চরিত্রকে নিয়ে যাতে অভিনয় করেছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়। ছবিটি পশ্চিমবঙ্গে সেই ২০১৪ সালে মুক্তি পেলেও অনলাইনের কল্যাণে বাংলাদেশের মানুষের হাতে এসেছে এই কিছুদিন আগে। আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানায় ঠাসা বছর চল্লিশের রূপচাঁদ সেন (শাশ্বত) একটা অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে মনোবিদের শরণাপন্ন হয়। সমস্যাটা হলো, হঠাৎ একদিন রূপচাঁদ আবিষ্কার করে সে বাংলা ভাষায় আর কিছুই লিখতে পারছে না! সব রকম ডাক্তারি পরীক্ষার পর বের হয় তার সমস্যাটা শারীরিক নয়, এটা সম্পূর্ণভাবে মানসিক। সাইক্রিয়াট্রিস্টের (রাইমা সেন) নির্দেশে রূপচাঁদ নিজের মজাদার জীবন-বৃতান্ত বলতে শুরু করে। মায়ের আঁচলে বড় হওয়া রূপচাঁদ ছোটবেলা থেকে ইংরেজি আর বাংলা মিডিয়ামের হাত ঘুরে শেষমেশ একজন অ্যাডগুরুতে পরিণত হন। ছেলে ভালো ছড়া বলতে পারত দেখে তাকে ছোটবেলা ভর্তি করানো হয় ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলে। সেখানে বিলেতি গালাগাল শিখে তার ছেলে একাকার করে ফেলছিল বিধায় রূপচাঁদকে এবারে ভর্তি করা হয় বাংলা মিডিয়াম স্কুলে। স্কুলে ঢুকে বাংলা ভাষাকে সে এমনভাবে রপ্ত করে, তার মুখ থেকে যেন লাইনের পর লাইন কবিতা বেরোয় ফুলঝুড়ির মতো। বড় হয়ে প্রথমে নামি একটা বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটারের কাজ জোটায় সে। পণ্যের একের পর এক অসাধারণ সব কপিরাইট লিখে খুব অল্পদিনেই সে হয়ে যায় অ্যাডগুরু। তবে ইন্ডাস্ট্রির খারাপ অবস্থার জন্য চাকরি হারায় সে। শোকে-দুঃখে পরপারবাসী হন রূপচাঁদের মা। শব্দের জাদুকর রূপচাঁদের এরপরের পেশা হিসেবে জোটে বিয়ের-অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠানের কার্ডের ভাষা লেখকের। তবে ভাগ্যে যেন এরচেয়ে আরো অনেক বড় কিছুর অপেক্ষা করছিল তার জন্য। তার বাম দলের সমর্থক বাবা তাকে আমন্ত্রণ জানায় পরবর্তী নির্বাচনে তাদের দল মেরুন পার্টির হয়ে ডায়লগ, বক্তৃতা লেখার কাজে। কাজটা হাতে নিলে সাপে বর হয় মেরুন পার্টির। মেরুন পার্টির জন্য তিনি লেখেন শক্তিশালী সেøাগান ‘হয় মেরুন, নয় মরুন’! অপেক্ষকৃত দুর্বল হয় হয়েও নির্বাচনে জিতে যায় সেই সেøাগানের জোরেই। দল রূপচাঁদের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পেরে তাকে সরকারি কবি হিসেবে নিয়োগ দেয়। সরকারি দলের শৌচাগার প্রকল্পের জন্য তিনি লেখেন মজাদার সরকারি গান ‘মাদল বাজে ধিমি ধিমি, আর হবে না ফিতাকৃমি’ কিংবা সাক্ষরতা অভিযানে তার কলমে উঠে আসে ‘ওলো সই, ওলো সই...আমার ইচ্ছা করে তোদের মতো খাতায় করি সই’। ধীরে ধীরে শুরু হয় দ্ব›দ্ব, শাসক মেরুন পার্টি রূপ নেয় খুনোখুনি-মারামারির দলে। তাদের আর রূপচাঁদকে প্রয়োজন হয় না। তাই সে এবারে কাজে লেগে পড়ে মেরুন পার্টির বিরোধী দল হলুদ পার্টির হয়ে। ‘আজ বাংলার গায়ে হলুদ’, এই সেøাগান বিজ্ঞাপনের সবগুলো মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে এবারে তার নতুন দলকে জেতায়। ভোটের আগে মাংস পোলাও, ভোট ফুরোলেই উচ্ছেদে। তাইতো ভোট জেতার পরেরদিকে হলুদ পার্টির সঙ্রেগও বিবাদে জড়িয়ে এবারে সোজা কলমে লেখার ভাষা হারিয়ে ফেলে রূপচাঁদ। ছবির শেষদিকে রয়েছে রূপচাঁদের কলমের ভাষা খুঁজে পাওয়ার গল্প। বলে রাখা ভালো ছবিটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক ছবিটির সংলাপ যা এই রিভিউ লিখতে অনেকটাই বাধ্য করেছে। বাংলা ভাষা নিয়ে এমন অদ্ভুত রকমের খেলা সবশেষ সেই ভ‚তের ভবিষ্যৎ-এ দেখেছিলাম বলে মনে পড়ে। ছবির গান কিংবা কারিগরি দিক তথৈবচ হলেও ছবিজুড়ে রূপচাঁদের একের পর এক অসাধারণ হাস্যরসাত্মক সংলাপ আপনাকে পুরোটা সময় মাতিয়ে রাখতে যথেষ্ট। ছবি দেখতে দেখতে আপনার কখনো কখনো ভ্রম হতে পারে, আমি কি ছবি দেখছি না বিজ্ঞাপন দেখছি। তবে সেটি আপনাকে ছবি দেখার মজা থেকে বঞ্চিত করবে না। ছবিতে মেরুন এবং হলুদ পার্টি দিয়ে পরিচালক আদতে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে স্যাটায়ারের ভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করেছেন। পরিচালক রঙ্গনের আগে নির্মাণ করেছিলেন কোয়েল-যীশু জুটির ‘বর আসবে এখুনি’। তার পরের ছবি বাড়ি তার বাংলা নিঃসন্দেহে অনেক বেশি শিল্পসমৃদ্ধ। ব্যঙ্গ-রসাত্মক ছবিটি দেখে আর যাই হোক, আপনাকে কেউ শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ের ভক্ত হওয়া থেকে আটকাতে পারবে না। যারা খুব বেছে বেছে ওপার বাংলার ছবি দেখেন তার নির্দ্বিধায় দেখতে পারেন ছবিটি।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

গুলশানে সিসা বারে ডিএনসির অভিযান, ম্যানেজার আটক

গুলশানে সিসা বারে ডিএনসির অভিযান, ম্যানেজার আটক

প্রবাসে তরুণের মৃত্যু, ২০ দিন পর জানলো পরিবার

প্রবাসে তরুণের মৃত্যু, ২০ দিন পর জানলো পরিবার

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

সরকারের সমালোচনা করে ঢাবি ছাত্রদল নেতার পদত্যাগ

একই মণ্ডপে ৬৩ জোড়া দম্পতি

একই মণ্ডপে ৬৩ জোড়া দম্পতি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App