×

ভিডিও

কী হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ?

Icon

আবুল হাসান

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫০ পিএম

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের রক্তক্ষয়ী অধ্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশ আজ এক নতুন সন্ধিক্ষণে। কয়েকদিন পরেই দীর্ঘ ফ্যাসিবাদের পতনের পর গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হতে যাচ্ছে নতুন সরকার। কিন্তু এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ডামাডোলের মাঝে একটি বড় প্রশ্ন এখন জনমনে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ঘুরপাক খাচ্ছে—কী হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ?

২০১০ সালে যে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছিল একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর তার কাঁধে চেপেছে নতুন ঐতিহাসিক দায়িত্ব। জুলাই গণহত্যার বিচার, বিগত দেড় দশকের গুম এবং সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—সুপিরিয়র কমান্ড হিসেবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ প্রভাবশালীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো।

এই মুহূর্তে ট্রাইব্যুনালের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো 'সুপিরিয়র কমান্ড' হিসেবে শেখ হাসিনার বিচার। জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি বর্ষণ, হেলিকপ্টার থেকে আক্রমণ এবং গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রসিকিউশন টিমের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক অগ্নিপরীক্ষা।

ইতোমধ্যেই শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালদের বিরুদ্ধে মামলার রায় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে। জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চানখাঁরপুল বা আশুলিয়ার সেই বীভৎস ঘটনাগুলো—সবখানেই আঙুল উঠছে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দিকে। 

এই বিচারের শুরুটা কেবল একজন ব্যক্তির বিচার নয়, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার এক নজিরবিহীন যাত্রা। ক্ষমতার হাত বদল হলেও এই বিচারের নিরপেক্ষতা ও গতি ধরে রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় আইনি ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

ট্রাইব্যুনাল বর্তমানে শুধু শেখ হাসিনা নন, বরং আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত দেড় দশকের গুম এবং জুলাই বিপ্লবের হত্যাকাণ্ডে সাবেক ও বর্তমান ২৫ সেনা কর্মকর্তাসহ ৩২ জনের বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চলছে।

তবে শঙ্কার জায়গাটি অন্যখানে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলে বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায়ই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রসিকিউশন টিম যে গতিতে এই হাই-প্রোফাইল মামলাগুলো এগিয়ে নিচ্ছেন, নতুন সরকার কি সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে? নাকি ঢেলে সাজানোর নামে পুরো বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘসূত্রিতার জালে আটকে দেওয়া হবে?

ব্যারিস্টার শাইখ মাহদীর মতো প্রসিকিউটররা আশাবাদী যে, জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা রাজনৈতিক দলগুলো ন্যায়বিচারের প্রশ্নে আপস করবে না। কিন্তু বিশ্লেষক মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামানের মতে, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো প্রায়ই প্রশাসন ও বাহিনীকে দায়মুক্তি দেওয়ার নজির স্থাপন করেছে।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করতে পারলে শেখ হাসিনার মতো বিশ্বখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিচার প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। বিশেষ করে সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও গণমাধ্যমের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ কেবল আইনি কাঠামোর ওপর নয়, বরং নতুন সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে শেখ হাসিনার বিচারের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের যে বার্তা আসার কথা, তা যেন কোনো রাজনৈতিক দর কষাকষির শিকার না হয়।

ব্যক্তি পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু বিচারের আদর্শ যেন অবিচল থাকে। জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো—একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। সময়ের ব্যবধানে দেখা যাবে, নতুন বাংলাদেশের নতুন শাসকরা এই ঐতিহাসিক পরীক্ষায় কতটা উত্তীর্ণ হন।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

‘বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার’

চালককে বেঁধে ১৪ হাজার লিটার তেল লুট

চালককে বেঁধে ১৪ হাজার লিটার তেল লুট

দর্শকদের ‘মেসি-মেসি’ চিৎকার থামিয়ে দিলেন রোনালদো

দর্শকদের ‘মেসি-মেসি’ চিৎকার থামিয়ে দিলেন রোনালদো

জানমালের নিরাপত্তা চাইলেন হান্নান মাসউদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন থানায় যেতে

জানমালের নিরাপত্তা চাইলেন হান্নান মাসউদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন থানায় যেতে

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App