যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৬ গোপন লকার ভাড়া করেছিলেন এপস্টেইন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন তাঁর ফ্লোরিডার বাড়ি থেকে কম্পিউটার ও ছবি সরিয়ে নিতে ব্যক্তিগত গোয়েন্দা ভাড়া করেছিলেন বলে অনুসন্ধানী এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তদন্তে বাধা দিতে এবং সম্ভাব্য প্রমাণ গায়েব করতেই তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে সংবাদমাদ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পত্রিকাটির হাতে আসা নথিপত্রে দেখা গেছে, তদন্ত কর্মকর্তাদের তাঁর বাড়ি থেকে অপরাধসংক্রান্ত প্রমাণ সংগ্রহ ঠেকাতে ব্যক্তিগত গোয়েন্দা নিয়োগ করেছিলেন এপস্টিন। তাঁদের দায়িত্ব ছিল তাঁর বাড়ি থেকে নথি ও অন্যান্য প্রমাণ সরিয়ে ফেলা।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, এপস্টেইন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছয়টি গোপন লকার ভাড়া করেছিলেন। তাঁর বিভিন্ন আবাসন থেকে সংগৃহীত সামগ্রী সেখানে সংরক্ষণ করা হতো। এসব লকারে রাখা জিনিসের মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত তাঁর ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেইমস থেকে আনা কম্পিউটারও ছিল।
লকারগুলোর অন্তত একটি ২০০৩ সালে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। সে সময় এপস্টিন ফ্লোরিডার অভিজাত এলাকা মার এ লাগোর আশপাশে বসবাস করতেন এবং প্রভাবশালী ও ধনীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল।
আরো পড়ুন : এপস্টেইন ফাইলে নাম, ভাঙছে গায়িকার সংসার
ক্রেডিট কার্ডের রসিদে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল পর্যন্ত ওই লকারের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছে। ওই বছর নিউইয়র্কের কারাগারে তাঁর কক্ষ থেকে এপস্টিনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানানো হয়, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত টেলিগ্রাফের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এপস্টেইন কর্মচারীদের বাড়িতে টিস্যু বক্সের ভেতর গোপন ক্যামেরা সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নতুন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, লকারগুলোতে এমন নথি থাকতে পারে, যেগুলো এখনো মার্কিন কর্তৃপক্ষের হাতে যায়নি। যদি তা–ই হয়ে থাকে, তবে সেখানে এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগীদের সংশ্লিষ্ট অপ্রকাশিত উপকরণ থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
জানুয়ারিতে এপস্টিন সম্পর্কিত প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ (ডিওজে)। তবে অনেকে মনে করেন, এখনও বহু নথি প্রকাশিত হয়নি। দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহ ছিল, এপস্টিন তাঁর সহযোগী ও অতিথিদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করতেন। যদিও প্রকাশ্যে এসেছে তুলনামূলকভাবে অল্প কিছু উপকরণ। অভিযোগ রয়েছে, মামলার তদন্তে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের রক্ষা করা হচ্ছে, যদিও কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে। টেলিগ্রাফের এই প্রতিবেদন নতুন করে সেই বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
প্রকাশিত ই–মেইল ও আর্থিক নথির ভিত্তিতে ইঙ্গিত মিলেছে, লকারগুলোতে গোপন ও সংবেদনশীল সামগ্রী রাখা হয়ে থাকতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সে এপস্টেইনের পাঁচটি বড় বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। ২০১৯ সালে গ্রেপ্তারের পর সেসব স্থাপনায় তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির ছবিতে দেখা গেছে, অনেক স্টোরেজ ও বেজমেন্ট খালি পড়ে ছিল। তবু কেন তিনি বাইরে আলাদা লকার ভাড়া করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।
এর আগে এফবিআই জানিয়েছিল, এপস্টেইন আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও সংগ্রহ করতেন, এমন প্রমাণ তারা পায়নি। তবে টেলিগ্রাফের হাতে আসা নথিতে দেখা যায়, এপস্টেইন তাঁর কম্পিউটার অন্য একটি লকারে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০০০–এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তাঁর বাড়িতে পুলিশের তল্লাশি চলার আগে তিনি সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন।
এছাড়া তিনি নিউইয়র্কে একটি গোপন লকার খোলার নির্দেশ দেন। এসব কাজে নিয়োজিত গোয়েন্দারা ১০ হাজার ডলারের বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন। ফ্লোরিডায় তাঁর হয়ে কাজ করা কয়েকজন ব্যক্তিগত গোয়েন্দার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তাঁদের দাবি, এপস্টেইনের জন্য তাঁদের কাজ ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয়। এপস্টিনের এসব গোপন লকারে কখনো তল্লাশি চালানো হয়েছে কি না, এ প্রশ্নে এফবিআইও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
