ভাবমূর্তি রক্ষায় কঠোর বিএনপি
রুমানা জামান
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
তারেক রহমান
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরে ‘সুসময়’ এলেও স্বস্তিতে নেই বিএনপি। দেশব্যাপী দলীয় নেতাকর্মীরা জড়িয়ে পড়ছেন নানা ধরনের শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে। এতে রীতিমতো বিব্রত দলটির হাইকমান্ড। ফলে বাধ্য হয়েই ভাবমূর্তি রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতিতে যাচ্ছে বিএনপি। অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। অভিযোগের মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেয়া হয় বহিষ্কার ও কারণ দর্শানোর নোটিস। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন; যত বড় নেতাই হোক, অপকর্ম করলে কোনো ছাড় নেই। তাকে শাস্তি পেতেই হবে।
সূত্র জানায়, দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক বিভাগীয় মতবিনিময় সভাগুলোয় প্রধান অতিথির (ভার্র্চুয়াল) বক্তব্যে অরাজকাতার বিরুদ্ধে বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, কেউ বিএনপির নাম ব্যবহার করে কোনো অপকর্ম করতে চাইলে তাকে ধরে আইনের হাতে তুলে দিন। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলছেন, বিএনপিতে কোনো দুষ্কৃতকারীর ঠাঁই হবে না। দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু দুষ্কৃতকারী দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় লিপ্ত। এদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে।
সম্প্রতি এস আলমকে নিয়ে দলের কয়েকজন নেতার কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারদলীয় নেতাদের সঙ্গে বিএনপি নেতাদের যোগসাজশের কারণে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
সূত্র জানায়, শিল্প গ্রুপ এস আলমের গাড়িতে চড়ে কক্সবাজারে নিজ নির্বাচনী এলাকায় সংবর্ধনা নিতে যাওয়ার বিষয়ে সালাহউদ্দিনকে নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তা নিয়ে বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তার এই কাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মনে করছে দলের উচ্চমহল। গত রবিবার রাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ডেকে সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে স্কাইপিতে কথা বলে তারেক রহমান তার অসন্তুষ্টির কথা জানান।
পরে এস আলমের গাড়িতে চড়ে নিজ এলাকা কক্সবাজারে সংবর্ধনা নেয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। এস আলমের ১৪টি গাড়ি সরিয়ে দেয়ার সহযোগিতার অভিযোগে এক দিন আগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে তিন নেতার পদ স্থগিত করা হয়।
গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এমনকি সতর্কবার্তা হিসেবে ভিন্ন দুটি ঘটনায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবীর খোকনের কাছে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে।
অ্যাকশন টিম গঠনের সিদ্ধান্ত : নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির অন্তত তিনজন সিনিয়র নেতা এই প্রতিবেদককে জানান, দলের শৃঙ্খলা ফেরাতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এতটাই কঠোর হয়েছেন- কে কত বড় নেতা বা তার কতটা ঘনিষ্ঠ, সে বিষয়টি তিনি একেবারেই আমলে নিচ্ছেন না। তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সালাহউদ্দিন আহমেদকে নোটিস দিয়ে তিনি এ কঠোর বার্তা দিয়েছেন। নেতারা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় করণীয় সম্পর্কে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।
পরে স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়- নেতাকর্মীদের অপকর্ম ঠেকাতে দেশব্যাপী থানায় থানায় অ্যাকশন টিম গঠন করা হবে। থানা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এ টিমের নেতৃত্ব দেবেন। কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব, চাঁদাবাজিসহ যে কোনো ধরনের অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্মীকে ডেকে ব্যাপারটি সুরহা করার চেষ্টা করবেন। এতে কাজ না হলে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয়ভাবে ওই কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ভোরের কাগজকে বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি- অনেক জায়গায়ই বিএনপির নামে কেউ কেউ প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে দলের ‘স্ট্যান্ড অত্যন্ত ক্লিয়ার’। এরই মধ্যে অনেকের বিরুদ্ধে দল থেকে কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এমনকি বহিষ্কারও করা হয়েছে। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি বলেন, কোনো সন্ত্রাস ও দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। কেউ যদি দলের নাম ভাঙিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চায়; বা কোনো চাঁদাবাজিতে নামে- আমরা আরো কঠোর হব। শুধু বহিষ্কারই নয়, তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হবে। এরই মধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। সে যত বড় পদেই থাকুক না কেনো; কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এ কঠোর বার্তা নেতাকর্মীদের পৌঁছে দিয়েছি। এ্যানী বলেন, বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে অ্যাকশন টিমওয়ার্কের মাধ্যমে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করা হবে। শিগগির প্রতিরোধ কমিটিও গঠন করা হবে।
১ মাসে দুইশ নেতাকর্মী বহিষ্কার : ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর গত ৩০ দিনে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ২ শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া কারণ দর্শানো নোটিস (শোকজ) ও পদ স্থগিত করা হয়েছে শতাধিক নেতাকর্মীর। এ তালিকায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরাও রয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। দলের অন্যতম নেতা চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে পদাবনত করে উপদেষ্টা থেকে নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে। ফরিদপুরের নগরকান্দায় আধিপত্য বিস্তারে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত হওয়ার পর বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের পদ স্থগিত করা হয়েছে।
বিএনপির দপ্তর সূত্র জানায়, গত তিন সপ্তাহে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২ শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যুবদলের প্রায় ৮০, ছাত্রদলের ২০, বিএনপির ৬০ ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অন্য সংগঠনের আরো বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন। এছাড়া সাত জেলায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানো নোটিস দেয়া হয়েছে। ছাড় দেয়া হচ্ছে না কেন্দ্রীয় নেতাদেরও। বিএনপির বরিশাল বিভাগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে। শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশিমকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. এনামুল হক এনাম ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এস এম মামুন মিয়ার প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই অভিযোগে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, একটি মহল ছাত্র-জনতার বিজয়কে নস্যাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। গত দেড় দশকে সবচেয়ে বেশি নিপীড়নের শিকার বিএনপির বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে কথা বলে পুরো দলকেই বিতর্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে দলের পক্ষ থেকে নজর রাখা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বারবার সর্তক করা হচ্ছে। এরপরও যারা দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন, তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনিদিষ্ট প্রমাণ সংগ্রহ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দাবি- অপকর্মে জড়িতরা বেশির ভাগই ‘অনুপ্রবেশকারী’। দলের কোনো পদ-পদবিতে নেই। ছিলেন না কোনো কর্মসূচিতে। আন্দোলন-সংগ্রামেও দেখা যায়নি বিগত দিনে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তারাই এখন বিএনপির ‘নেতাকর্মী’ সেজে গেছেন। দাপট দেখাতে শুরু করেছেন নিজ নিজ এলাকায়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিভিন্ন দখল, চাঁদাবাজি আর অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে। তাছাড়া আওয়ামী লীগের অনেক কর্মী এখন বিএনপিতে মিশে নানা অপকর্ম করে বিএনপিকে বিব্রত করার চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতারা।
পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন : দলীয় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ‘অনুপ্রবেশকারী’ কথিত নেতাকর্মীদের ঠেকাতে পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এ কমিটি রাজধানীসহ বেশ কয়েকটি জেলায় দখল করা বাড়ি, দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতারা দখলমুক্ত করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দিয়েছেন- এমন ঘটনাও অনেক রয়েছে। শুধু হাইব্রিড নেতাকর্মী নয়, দলের কোনো নেতাকর্মীও অপকর্মে সম্পৃক্ত হলে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদিকে অপকর্মকারীদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেয়াসহ শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নানা নির্দেশনা নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিএনপি নেতারা।
এ ব্যাপারে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এরই মধ্যে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিএনপির ওয়ার্ড থেকে জাতীয় পর্যায় এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ওয়ার্ড থেকে কেন্দ্রীয় কমিটি পর্যন্ত কোনো স্তরেই কমিটিতে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী বা অরাজনৈতিক ব্যক্তিকে যোগদান করানো যাবে না।
নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা বিএনপির : দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অপরাধমূলক কাজে নাম আসা নেতাকর্মীদের বহিষ্কার, শোকজের পর এবার মামলা দেয়া শুরু করেছে বিএনপি। কাজ পাইয়ে দেয়ার সুপারিশ করার অভিযোগে বহিষ্কারের পর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ফখরুদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ভালুকা থানায় করা মামলায় আরো অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভালুকায় ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরিতে বাধা সৃষ্টি করায় দল থেকে বহিষ্কারের পর এই মামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। গত সোমবার রাতে বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক সুবিধা আদায়ের অভিযোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপির পক্ষ থেকে ভালুকা থানায় লিখিত এজাহার করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় বিএনপির পক্ষে দলের যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স ভালুকা থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এর আগে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক, ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও প্রাথমিক সদস্যসহ দলের সব পদ থেকে গত রবিবার বাচ্চুকে বহিষ্কার করে বিএনপি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কতিপয় ব্যক্তি বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কাজে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানসহ দলীয় নেতৃত্ব এ বিষয়ে সবাইকে বারবার সতর্ক করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারীদের বিরুদ্ধে এখন শুধু সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নেতাকর্মীদের ১৫ বছরের আত্মত্যাগ এবং কমিটমেন্ট কতিপয় ব্যক্তির অপকর্মের জন্য প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে না। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছেন।
