×

সম্পাদকীয় ও মুক্তচিন্তা

বিশ্ব মা দিবস

মায়ের মতো আপন কেহ নেই

Icon

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মায়ের মতো আপন কেহ নেই
মা একটি সুমিষ্ট শব্দ এবং পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ডাক। মানুষ মা ডাকে খুঁজে পায় সীমাহীন শান্তি। এই শব্দের গভীরতা যে কত, তা সবাই জানেন। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমরা মাকে স্মরণ করি। মা সম্পর্কে বিশ্বের মনীষীরা বিভিন্ন উক্তি করেছেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। বাস্তব জীবনে মা আমাদের প্রতি যে ত্যাগ স্বীকার করেন, তা অন্য কেউ করেন না। তাই মায়ের আসন সবার উপরে। প্রত্যেকটি ধর্মে মাকে সর্বোচ্চ আসনে উন্নীত করা হয়েছে। ইসলামে ‘মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত’ বলে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এই মা যেমন আমাদের জীবনের সুখ-দুঃখের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, তেমনি তাদের সুখে-দুঃখে ও পাশে থাকাও আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এ বছর ১২ মে বিশ্ব মা দিবস। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার এ দিবসটি পালন করা হয়। যদিও মায়ের ভালোবাসা কোনো নির্ধারিত দিনক্ষণের ওপর নির্ভর করে না। মা যেখানেই থাকুক মায়ের ভালোবাসা সন্তানের হৃদয়ে থাকবে নিরন্তর সবসময়। জানা যায়, ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দের ৮ মে আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মার্কিন কংগ্রেসে মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। পরে ১৯৬২ সালে দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এরপর থেকে দিবসটি বিশ্বব্যাপী মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হয়ে আসছে। মায়ের ভালোবাসা যেমন কোনো দিনক্ষণ দিয়ে হয় না; তেমনি মায়ের ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ শর্তহীন। পৃথিবীর শুরু থেকে আজ অবদি মাকে নিয়ে রচিত হয়েছে সুন্দর সুন্দর অসংখ্য ছন্দ, কবিতা, গান, ছড়া, উপন্যাস আরো কত কি! ‘মা’ নামের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আলাদা শক্তি, স্নেহ ও ভালোবাসা। একজন মা মানেই একটি প্রতিষ্ঠান। মা একটি পৃথিবী এবং তার থেকেও অধিকতর কিছু। একজন মাকে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে চালিয়ে নিতে হয় সংসার নামক জাহাজটিকে। বাবাকে বলা হয় সংসারের বটবৃক্ষ আর মাকে বলা হয় চালক বা অক্সিজেন। আয়-উপার্জনের মূল চালিকা শক্তি বাবার হাত ধরে এলেও চালকের দায়িত্ব মা-কেই পালন করতে হয়। অন্তরের সোহাগ এবং চোখের শাসন দুয়ে মিলে সন্তানকে সঠিক পথ নির্দেশনা দিয়ে চালিত করার ক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকা অপরিসীম। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন বলেছিলেন, ‘আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হলেন আমার মা। মায়ের কাছে আমি চিরঋণী। আমার জীবনের সব অর্জন তারই কাছ থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর শারীরিক শিক্ষার ফল।’ আমাদের নবী করিম (সা.) নিজে মায়ের মর্যাদার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং উম্মতকে মায়ের মর্যাদা রক্ষার ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালনের জন্য আদেশ দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে বুখারি এবং মুসলিম শরিফে এভাবে বর্ণিত আছে, ‘এক ব্যক্তি নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলেন মানুষের মধ্যে আমার পক্ষ থেকে ভালো সাহচর্যের যোগ্য কে? নবীজি (সা.) বলেন, তোমার মা। ব্যক্তিটি বলল তারপরে কে? নবী (সা.) বললেন এরপরও তোমার মা, ব্যক্তিটি আবার জিজ্ঞেস করলেন এরপর কে, নবী (সা.) বললেন এরপরও তোমার মা। মায়ের থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর শারীরিক শিক্ষা নিয়েই তো চলতে হয় পুরো জীবন। তাই শুধু যে মা দিবসে মায়ের প্রতি ভালোবাসা দেখাতে হবে, এমনটা নয়। মায়ের প্রতি ভালোবাসা সর্বক্ষণে, সর্ব মুহূর্তে উজাড় করে দিতে হবে। কারণ মা যেমন তার জীবনকে আমাদের জীবনের উন্নতির জন্য উজাড় করে দিয়েছেন, তেমনভাবে আমাদেরও তাই করতে হবে। মা দিবসে সব মায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আসলে মায়ের বিকল্প অন্য কিছুতে হয় না, এ জগতে মায়ের মতো আপন কেহ নেই এবং সত্যিকারের খাঁটি ভালোবাসা মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া যায়। মো. জল্লিুর রহমান : ব্যাংকার ও লেখক, গেন্ডারিয়া, ঢাকা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App