×

মুক্তচিন্তা

৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস, স্মৃতি ও বর্তমানের প্রশ্ন

Icon

রাসেল আহমদ

প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস, স্মৃতি ও বর্তমানের প্রশ্ন

ছবি: কাগজ প্রতিবেদক

ইতিহাসে কিছু ভাষণ আছে, যা কেবল বক্তৃতা নয়,একটি জাতির ভাগ্য নির্ধারণ করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ছিল তেমনই এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। লাখো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন, সেটি শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না; বরং একটি জাতির সংগ্রামের রূপরেখা, আত্মমর্যাদার ঘোষণা এবং স্বাধীনতার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বাঙালির জন্য এক চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা।

বিশ্বের ইতিহাসে বহু বিখ্যাত ভাষণ রয়েছে, আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গ ভাষণ, Winston Churchill– উইনস্টন চার্চিল -এর যুদ্ধকালীন বক্তৃতা, পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু–এর "Tryst with Destiny", কিংবা মার্টিন ল্যুথার কিং–এর "I Have a Dream"। 

কিন্তু বাঙালির জন্য ৭ মার্চের ভাষণ কেবল একটি ঐতিহাসিক বক্তৃতা নয়, এটি ছিল একটি জাতির রাজনৈতিক জাগরণের মুহূর্ত। যেখানে স্বাধীনতার স্বপ্ন স্পষ্ট রাজনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে রূপ নেয়।

উত্তাল মার্চের পটভূমি

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সেই গণরায় মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। গণপরিষদের অধিবেশন বারবার স্থগিত করা, ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা এবং সামরিক শাসনের ছায়া, সব মিলিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই সময় বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ধীরে ধীরে স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করে। ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে গ্রামবাংলার অলিগলি সবখানে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে নতুন এক স্লোগান- বাংলাদেশ। মানুষ অপেক্ষা করছিল একজন নেতার ঘোষণার জন্য, যিনি জাতির সামনে পথ দেখাবেন।

এই প্রেক্ষাপটেই ৭ মার্চের জনসভা ছিল একটি নির্ধারক মুহূর্ত। বঙ্গবন্ধু সেই ভাষণে সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা দেননি, কিন্তু তিনি জাতিকে এমন এক সংগ্রামের পথে আহ্বান করেছিলেন, যার পরিণতি ছিল স্বাধীনতা। "এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম" এই উচ্চারণই ছিল সেই রাজনৈতিক সংকেত।

অসহযোগ থেকে কার্যত বিকল্প রাষ্ট্র

৭ মার্চের ভাষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধু প্রশাসন, আদালত, রাজস্ব ব্যবস্থা, যোগাযোগ, প্রায় সব ক্ষেত্রেই জনগণকে পাকিস্তানি সরকারের নির্দেশ অমান্য করার আহ্বান জানান।

এর ফলে পূর্ব পাকিস্তানে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়। পাকিস্তানি রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে, আর বাস্তবে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশই কার্যকর হতে শুরু করে। অনেক ইতিহাসবিদ এই সময়কে "ডি-ফ্যাক্টো স্বায়ত্তশাসন" বা কার্যত স্বাধীনতার পূর্বপর্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্ন

৭ মার্চের ভাষণকে কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার আহ্বান হিসেবে দেখলে তার পূর্ণ অর্থ বোঝা যায় না। এই ভাষণের মধ্যে অর্থনৈতিক মুক্তির প্রশ্নও গভীরভাবে উপস্থিত ছিল।

পাকিস্তান রাষ্ট্রের কাঠামোর মধ্যে পূর্ব পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হয়েছিল। শিল্প, বাণিজ্য, সামরিক ব্যয়, সব ক্ষেত্রেই পশ্চিম পাকিস্তান অগ্রাধিকার পেয়েছে, আর পূর্ব বাংলার সম্পদ ক্রমাগত সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছে।

এই বাস্তবতা থেকেই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনে অর্থনৈতিক স্বাধিকার একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচি ছিল সেই অর্থনৈতিক মুক্তির রূপরেখা। ৭ মার্চের ভাষণ সেই ধারাবাহিকতারই রাজনৈতিক প্রকাশ। যেখানে তিনি বলেন, বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাঁচতে চায়, তার অধিকার চায়।

অর্থাৎ, এই ভাষণ শুধু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের আহ্বান ছিল না, এটি ছিল শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠারও অঙ্গীকার।

পাকিস্তানি দৃষ্টিতে ৭ মার্চ

৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব বোঝার জন্য পাকিস্তানি সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়ার দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তা সিদ্দিক সালিক তার স্মৃতিকথায় লিখেছিলেন, ভাষণটি সরাসরি স্বাধীনতার ঘোষণা না হলেও এটি পরিষ্কারভাবে দেখিয়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ কোন পথে এগোতে চায়। অন্যদিকে পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তাদের অনেকেই পরে স্বীকার করেছেন যে ওই ভাষণের পর পূর্ব পাকিস্তানে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব কার্যত ভেঙে পড়ে।

এই উপলব্ধিই শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি সামরিক পরিকল্পনায় প্রতিফলিত হয়। ২৫ মার্চ রাতে "অপারেশন সার্চলাইট" শুরু হওয়ার আগে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের প্রধান লক্ষ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করা। এতে স্পষ্ট হয়, তারা বুঝেছিল,পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে একজন নেতাই দাঁড়িয়ে আছেন।

ইতিহাস ও ‘সামষ্টিক স্মৃতি’

ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি মানুষের স্মৃতি ও সংস্কৃতির মধ্যেও বেঁচে থাকে। ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী Maurice Halbwachs এই ধারণাকে ‘Collective Memory’ বা সামষ্টিক স্মৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন।

৭ মার্চের ভাষণ সেই ধরনের একটি স্মৃতি। এটি কেবল একটি আর্কাইভে সংরক্ষিত দলিল নয়; এটি বাঙালির রাজনৈতিক পরিচয়ের অংশ। সেই কারণেই আজও এই ভাষণ শুনলে মানুষ আবেগাপ্লুত হয়।

বিশ্বব্যাপী এই ভাষণের গুরুত্বও স্বীকৃত হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক গবেষণা ও ঐতিহাসিক আলোচনায় এটি উপনিবেশবাদ ও রাজনৈতিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে একটি জাতির সংগ্রামের অন্যতম অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানের বিতর্ক

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাকে একটি প্রত্যাশার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক আশঙ্কার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। আশঙ্কাটা হলো সুদীর্ঘ ইতিহাস সত্ত্বেও আমাদের 'জাতি-গঠন' প্রক্রিয়া এখনও অসমপূর্ণ রয়েছে। 

স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যার মাধ্যমে যে বিভক্তির সূচনা হয়েছিল, ইতিহাস বিকৃতির কারণে তা আজও বিদ্যমান। এই অনৈক্যের সুযোগেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেছে। আমরা আশা করেছিলাম, তারেক রহমান ইতিহাসের প্রতি সৎ থেকে এই বিভক্তি দূর করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করবেন। 

আমাদের এই চাওয়াটাকে অনেকের কাছে অতি চাওয়া বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এটা তো সত্য যে, ইতিহাস আড়াল করার রাজনীতি জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট করে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেয়। আজকের বাংলাদেশে সেই আশঙ্কাজনক চিত্রই দৃশ্যমান।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই ঐতিহাসিক ভাষণকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হামলা কিংবা গ্রেপ্তারের মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এই ঘটনাগুলো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করে, একটি স্বাধীন দেশে স্বাধীনতার আন্দোলনের অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণার উৎস কি রাজনৈতিক বিরোধের কারণে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠতে পারে?


একাত্তরের মার্চের ইতিহাস বলতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের কথাও উহ্য রাখা হয়েছে। ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা নিবেদনেও বাধা দেওয়া হয়েছে, ঐতিহাসিক ওই বাড়িটিতে ফুল দিতে যাওয়া যেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড তুল্য, সেখানে ফুল দিতে যাওয়া মানুষজনকে সন্ত্রাসী বিরোধী আইনে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সচেতনভাবে আড়াল করা হচ্ছে স্বাধীনতার মূল প্রেরণা ৭ই মার্চের ভাষণকে। 

ইতিহাসের এই বিচ্যুতি, রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও উসকে দিচ্ছে। শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজিয়ে গ্রেপ্তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি শেখ তাসনিম আফরোজ ইমিসহ তিনজনকে সন্ত্রাস বিরোধ আইনের মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এসব করে একটি জাতির ‘সামষ্টিক স্মৃতি’ ভুলিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক মতভেদ গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ। বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত কিংবা রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিমালা নিয়ে সমালোচনা অবশ্যই হতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের একটি প্রতিষ্ঠিত সত্যকে অস্বীকার করা বা তাকে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অস্ত্রে পরিণত করা জাতির জন্য কখনোই কল্যাণকর নয়।

ইতিহাস পুনর্লিখনের সীমা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর পিতা প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি, মুক্তিযুদ্ধের একজন সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান জিয়াউর রহমান ১৯৭৪ সালে 'সাপ্তাহিক বিচিত্রা'য়  'একটি জাতির জন্ম' নামে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ জাতিকে চূড়ান্ত সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিল এবং তিনিসহ তার সহকর্মীরা স্বাধীনতাযুদ্ধের গ্রিন সিগন্যাল পান। তার মতে, এই ভাষণের মধ্য দিয়েই বাঙালিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা সংগঠিত রূপ পায় এবং জাতি মুক্তিযুদ্ধের পথে অগ্রসর হওয়ার মানসিক প্রস্তুতি অর্জন করে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি প্রায় ৫০টি ভাষায় অনূদিত হয়েছে। এখনো এই ভাষণ শুনে আবেগতাড়িত হয় যেকোনো বয়সের নারী-পুরুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দীর্ঘদিন এই ভাষণ জাতির সামনে তুলে ধরা হয়নি। সামরিক এবং অগণতান্ত্রিক সরকারগুলোর রোষানলেও পড়েছিল এই ভাষণ। 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে দীর্ঘদিন সরকারি প্রচারমাধ্যমে এই ভাষণ নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। 

বিশ্বের বহু দেশেই ক্ষমতার রাজনীতি ইতিহাসকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু প্রামাণ্য দলিল, প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং গণমানুষের স্মৃতিকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলা কখনো সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই সত্য প্রযোজ্য। 

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব এবং ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব এত বিস্তৃতভাবে দলিলবদ্ধ যে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

ষাটের দশকের স্বাধিকার আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত যে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস, তার কেন্দ্রে ছিল এই ভাষণ। এটি ছিল একটি জাতির আত্মবিশ্বাসের ঘোষণা- যে ঘোষণা থেকে জন্ম নিয়েছিল স্বাধীনতার যুদ্ধ।

বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি ও রাষ্ট্রীয় স্মৃতির দায় 

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে UNESCO ২০১৭ সালে Memory of the World Register-এ অন্তর্ভুক্ত করে বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদা দিয়েছে। এটি কেবল একটি জাতীয় স্মৃতি নয়, বরং সারা বিশ্বের মানবজাতির রাজনৈতিক সংগ্রামের এক অমূল্য দলিল। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে ৭ মার্চের ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকে অতিক্রম করে বিশ্ব রাজনৈতিক ইতিহাসেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করেছে। 

এমন একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ঐতিহাসিক দলিলকে রাষ্ট্রীয় স্মরণ থেকে ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়া বা জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়, এটি আমাদের ঐতিহাসিক চেতনা, সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতা এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। 

কারণ যখন বিশ্ব সম্প্রদায় একটি ঘটনাকে মানবজাতির স্মৃতির অংশ হিসেবে সংরক্ষণ করে, তখন সেই ঘটনার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রেরও নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। অন্যথায় প্রশ্ন উঠতেই পারে, যে ইতিহাসকে বিশ্ব সম্মান জানায়, সেই ইতিহাসের প্রতি কি আমরা নিজেরাই যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল?

ভবিষ্যতের শিক্ষা

৭ মার্চের ভাষণের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্ব। একটি জাতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন সে তার ইতিহাসের সঙ্গে সৎ থাকতে পারে।

বাংলাদেশ আজ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী অতিক্রম করেছে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা।এই সব ক্ষেত্রেই আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

এই বাস্তবতায় ৭ মার্চের ভাষণ কেবল অতীতের স্মৃতি নয়, এটি ভবিষ্যতের পথনির্দেশও বটে। কারণ এই ভাষণের মধ্যেই ছিল গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, অসাম্প্রদায়িকতা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার স্পষ্ট অঙ্গীকার।

ইতিহাসের সেই কণ্ঠকে স্তব্ধ করা যায় না। যদি কখনো কোনো মঞ্চে সেই ভাষণ বাজতে না দেওয়া হয়, তবুও তা মানুষের মনে প্রতিধ্বনিত হবে। কারণ একটি জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস কোনো সাময়িক রাজনীতির সীমারেখায় বন্দি থাকে না।

৭ মার্চ তাই কেবল একটি দিন নয়। এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক।এটি একটি ভাষণ, যা বাঙালিকে সংগ্রামের সাহস দিয়েছে, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছে এবং আজও মনে করিয়ে দেয়। ইতিহাসের সত্য শেষ পর্যন্ত নিজেই কথা বলে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ইরানি নেতাদের নির্মূল করার অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েল

ইরানি নেতাদের নির্মূল করার অভিযান চালিয়ে যাবে ইসরায়েল

আইজিপির বাড়িতে চুরি, সন্দেহভাজন একজন আটক

আইজিপির বাড়িতে চুরি, সন্দেহভাজন একজন আটক

শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট পরিদর্শন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

শিমুলিয়া টুরিস্ট ঘাট পরিদর্শন করলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী

মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, পরিচালক আটক

মাদ্রাসাছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, পরিচালক আটক

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App