সিলেট টেস্ট
লিটনের সঙ্গে যে কারণে তর্কে জড়ালেন রিজওয়ান
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১০:২১ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনটি কেবল ব্যাট-বলের রোমাঞ্চেই ঠাসা ছিল না, মাঠের উত্তাপ ও মনস্তাত্ত্বিক লড়াইও ছুঁয়ে গেছে চরম সীমানা। বিশেষ করে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে আঘা সালমান ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের প্রতিরোধ ভাঙতে যখন মরিয়া বাংলাদেশ, তখন উইকেটের পেছনে থাকা লিটন দাসের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন রিজওয়ান। দিন শেষে দুই দলের এই কথার লড়াই এবং স্লেজিংয়ের নেপথ্য কারণ জানা গেছে।
পুরো টেস্ট ম্যাচ জুড়েই লিটন দাস উইকেটের পেছন থেকে সতীর্থদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলছিলেন। বোলার ও ফিল্ডারদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন তিনি। কিন্তু আজ পাকিস্তানের ইনিংসের একপর্যায়ে রিজওয়ানকে দেখেই নিজের ভাষা বদলাতে বাধ্য হন লিটন। মূল উদ্দেশ্য ছিল-ক্রিজে থিতু হওয়া রিজওয়ানকে স্লেজিং করে মানসিকভাবে কিছুটা খেপিয়ে দেওয়া।
সালমানকে সঙ্গে নিয়ে রিজওয়ান যখন বাংলাদেশের ডাগআউটে দুশ্চিন্তা ছড়াচ্ছিলেন, ঠিক তখনই প্রায় প্রতি বলের আগে বোলারদের থামিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। কখনো সাইট স্ক্রিনের সমস্যা, কখনো বা অন্য অজুহাতে বারবার খেলা থামিয়ে প্রতিপক্ষকে বিরক্ত করা রিজওয়ানের জন্য নতুন কোনো বিষয় নয়। শেষ পর্যন্ত লিটন আর নিজের মেজাজ ধরে রাখতে পারেননি। তীব্র বিরক্তি নিয়ে রিজওয়ানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলে ওঠেন,'বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছ কেন?' রিজওয়ানও তাৎক্ষণিক লিটনকে পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন,'এটা কি তোমার কাজ!'
দুই উইকেটকিপারের এই কথার লড়াই তীব্র আকার ধারণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে আসতে হয় মাঠের আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকারকে। আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে ওই দফায় বাদানুবাদ থামলেও পুরোটা সময়জুড়েই রিজওয়ানকে লক্ষ্য করে মনস্তাত্ত্বিক আক্রমণ চালিয়ে গেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। উইকেটের পেছন থেকে লিটনকে বলতে শোনা যায়,'ভালো অভিনয় করছে!' আবার কখনো অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত খোঁচা মেরে সতীর্থদের বলেন,'অতিরিক্ত অভিনয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা!'
রিজওয়ানও দমে যাওয়ার পাত্র নন, সুযোগ পেলেই বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছিলেন। আর পাকিস্তানি ব্যাটারের এমন কাণ্ড দেখে গ্যালারির দর্শকরাও তাকে অনবরত দুয়ো দিতে থাকেন।
কোচদের চোখে মাঠের স্লেজিং চতুর্থ দিনের খেলা শেষে দুই দলের এই তপ্ত লড়াই নিয়ে মুখোমুখি হতে হয়েছিল দুই শিবিরের কোচদেরও। বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট মাঠের এই ঘটনাকে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। নিজের অস্ট্রেলিয়ান মানসিকতার রেশ টেনে টেইট বলেন,'জানি না ওদের মধ্যে আসলে কী কথা হয়েছে, তবে আমি পুরো বিষয়টাই বেশ উপভোগ করেছি। আমি তো অস্ট্রেলিয়ান! এতেই হয়তো বুঝতে পারছেন আমি কেন এসব পছন্দ করি।'
অবশ্য মাঠে ক্রিকেটীয় ভদ্রতার সীমা ছাড়ানোর পক্ষে নন এই সাবেক স্পিডস্টার। টেইট যোগ করেন,'আমি সীমা ছাড়াতে বলব না। তবে ম্যাচে কিছুটা আক্রমণাত্মক ভাব তো থাকতেই হবে। এটা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ, আমার মনে হয় সমর্থকেরা এবং আমরা সবাইও খেলাটাতে কিছুটা আবেগ দেখতেই ভালোবাসি।'
অন্যদিকে পাকিস্তান দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিকও বিষয়টিকে স্বাভাবিক ম্যাচ পরিস্থিতি হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন,'আমি জানি না আসলে ওদের মধ্যে কী হয়েছে। তবে টেস্ট ক্রিকেটে এমন ঘটনা অহরহই ঘটে থাকে। আমার মনে হয় না সিরিয়াস কিছু হয়েছে।'
উল্লেখ্য, সিলেট টেস্টে ৪৩৭ রানের অসম্ভব লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এখনও একপ্রান্ত আগলে অপরাজিত আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১৩৪ বলে ৭৫ রান করা রিজওয়ানই এখন পাকিস্তানের শেষ ভরসা। সালমান আগার সঙ্গে তার ১৩৪ রানের ভয়ংকর জুটিটি তাইজুল ভাঙলেও, আগামীকাল পঞ্চম ও শেষ দিনে ৩ উইকেট হাতে রেখে ১২১ রান করতে হলে রিজওয়ানকে অতিমানবীয় কিছুই করতে হবে। আর বাংলাদেশ চাইবে সকাল সকাল রিজওয়ানের উইকেটসহ বাকি ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করতে।
