ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে তার মেয়ের বিস্ফোরক মন্তব্য
স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ফুটবল ঈশ্বর ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ চার বছর পর নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তার মেয়ে জিয়ানিন্না ম্যারাডোনা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, তার বাবার মৃত্যুকে ঘিরে একটি বিশেষ ‘পরিকল্পনা’ ছিল, যা একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
৩৬ বছর বয়সী জিয়ানিন্নার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ১৯৮৬ বিশ্বকাপের নায়ক ম্যারাডোনার মৃত্যুর জন্য দায়ী সাতজন চিকিৎসাকর্মীর বিচার চলমান। তার অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ম্যারাডোনার সাবেক আইনজীবী মাতিয়াস মোরলা।
সাক্ষাৎকারে জিয়ানিন্না দাবি করেন, মোরলা ম্যারাডোনার জীবন ও তার ব্র্যান্ডের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে চেয়েছিলেন। এমনকি বাবার সই জাল করার ক্ষমতাও তার হাতে ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ম্যারাডোনাকে কোনো মনোরোগ ক্লিনিকে ভর্তি না করে বাড়িতে রাখার পেছনেও গভীর উদ্দেশ্য ছিল। ক্লিনিকে ভর্তি হলে মোরলার নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা খর্ব হওয়ার ভয় ছিল বলে মনে করেন জিয়ানিন্না।
পরিবারের অভিযোগ, ম্যারাডোনার ঘনিষ্ঠ বৃত্তের লোকজন তার স্বাস্থ্যের চেয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থ ও অর্থের দিকেই বেশি মনোযোগী ছিল।
২০২০ সালের নভেম্বরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান ম্যারাডোনা। এরপর থেকেই তার চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ওঠে। যেখানে একজন নিউরোসার্জন, একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন নার্সসহ মোট সাতজনকে অভিযুক্ত করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হলে তাদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বিশেষজ্ঞ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যারাডোনাকে যথাযথ চিকিৎসা সরঞ্জাম ছাড়াই একটি ভাড়া বাড়িতে রাখা হয়েছিল এবং মৃত্যুর আগে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায় একা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন।
কিন্তু অভিযুক্ত চিকিৎসাকর্মীরা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেছেন যে, ম্যারাডোনা স্বাভাবিক কারণেই মারা গেছেন। অন্যদিকে, জালিয়াতির অভিযোগে মাতিয়াস মোরলা ও তার সাবেক সহকারী ম্যাসিমিলিয়ানো পোমারগোর বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জিয়ানিন্নার মতে, বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর চিকিৎসকরা নিজেদের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন। বর্তমানে সান ইসিদোরোর আদালতে এই চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। শেষ পর্যন্ত রায় কোন পথে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
