পাভেল মাহমুদের কবিতাগুচ্ছ
পাভেল মাহমুদ
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
পাভেল মাহমুদের কবিতাগুচ্ছ
যতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকি মনে হয় বেঁচে আছি
যতক্ষণ ঘুমিয়ে থাকি মনে হয় বেঁচে আছি,
আমাকে জাগিও না। কঠোর শীতের মধ্যে
জমে যাওয়া হাত পা- ঢুকিয়ে রাখি আগুনে..
আমাকে জাগিও না।
জাগলেইতো কুৎসিত আলোর সাথে দেখা
অনেক জঞ্জাল চারপাশ জুড়ে;
তুমি হয়তো ভাবছো- যেভাবেই হোক
বেঁচে থাকাটাই জরুরি
কিন্তু আমি তা ভাবছি না
তুমিও অন্ধকারকে ভালোবাসো
আর পাখির ডাক শুনে গভীর থেকে গভীরে
ঘুমিয়ে পড়ো।
আমি বেঁচে আছি ঘুমিয়ে থেকে-
আমাকে জাগিও না..
টোকা
ধূসর সকালে এলোমেলো লক্ষ ধুলার কনা
আবেগে উড়ছে, কাঁপছে লতাপাতা
হাওয়ায় হাওয়ায় উচ্ছ্বাস-
এক নতুন দিনের
ধূসর বালুচর, নীলাকাশ, বৃদ্ধ নদীর বয়ে চলা-
পাতা ঝরা বিকাল, শিশির, মৃত সবুজের সমারোহ
লেপ্টে আছে বুকে-
হাতের ওপর লাফায় হরিণের মতো চকিত দুপুর
চোখের ভেতর কয়েক শতাব্দীর ঘুম
ছোট ছোট হৃদয়ে বিষের সাঁতার-
প্রধান সড়কে নেমেছে আজ অধিকারের মিছিল
রক্ত মাখানো পাটাতনে বসে গোলাপের সুবাস
দূর বনে বুনো ষাড়ের মৃতদেহের গন্ধও ওড়ে-
আমাদের মগজে খেলে যায় রাতের স্বপ্ন
করাতের কাঠ চেড়াইয়ের শব্দ টোকা দেয় মননে
হাতছানি অস্পষ্ট আলোর
অনন্য বিকেল পৃথিবীর নাভিমূলে ঢুকে গেছে
এক একটি সময় যেন আর্তনাদ করছে
জরাজীর্ণ ভবনগুলোতে,
গরাদের গায়ে গায়ে বাতাসের হা-হুতাশ
দূর কোথাও বনে মৃদু ওঙ্কার ধ্বনি ভেসে আসে
তীব্র জলের স্রোতে খড়ের জীবন এলোমেলো-
পথের পর পথ হেঁটে দেখেছি, এক রক্তাক্ত
সূর্য ঢেকে গেছে মেঘের আড়ালে
আঙলের ফাঁক গলিয়ে সেসব বিকেল উঁকি মারে-
আহত পাখির হৃদয় দূরে কোথাও আশ্রয় নেয়
পাতার ছায়ায়-
অসমাপ্ত কবিতা রাতের মধ্য-প্রহরে এলিয়ে দেয়
নিজেকে, কোনো গানের অন্তর্নিহিত ভাষার কাছে
সমর্পিত হতে চায়-
অনন্য রাতগুলো লড়াই করে চলে লোকালয়ে
আমাদের যাপনে-মননে,
হাতছানি অস্পষ্ট আলোর
ডেকে যায় কেউ- ঘায়েলের দিন হবে কবে শেষ?
চুম্বুকানুভূতি
নিজের ভেতর ডুব দিয়ে দেখি
ভয়, অনুকম্পা, ক্রন্দন ঢেউ তোলে
স্বজনের প্রতি চুম্বুকানুভূতি ধিকিধিকি
জলন্ত ছাইয়ের মতো বহমান-
রক্তের গভীরে, আরো গভীরে- হাড়ে হাড়ে
ছড়িয়ে পড়ে অনুভূতিগুলো-
আহা ক্রন্দন, আহা বেদনার সাত রং
কান পেতে শুনি- মিনার থেকে মিনারে
গভীর সংবেদনশীলতার ডাক-
আমরা পাতা-ঝরা পথে চলে যাই-
পদচ্ছাপ রেখে যাই ধুলোমাখা পথে
তেলাওয়াতের সুরে সুরে গভীর মর্মভেদে
হু হু বাতাস, এই হিম-মণ্ডলে ঘুরপাক খেয়ে
ছুটে চলে-
যদিও নিজের ভেতর দেখি এক অবিন্যস্ত পটভূমি
একে একে পাপড়ি মেলে- গন্ধহীন,
রিনরিনে রক্ত সঞ্চালনে ঘুমিয়ে পড়তে চাই কোনো মধ্যরাতে
মগজের ভেতর আবছায়া সামিয়ানা
উগ্রতা বেড়ে গেছে রক্তে আমাদের
হলুদ পাতার আড়ালে সাপের হিসহিস শব্দ;
মগজের ভেতর আবছায়া সামিয়ানা ঢেকে দেয়
আমাদের পরম্পরা..
আজ ভীষণ একটা খেলা শান্তভাবে চারপাশে
মুহূর্তের মধ্যে রঙ বদলে যায় একে একে!
বাতাসে বসন্তের ছোঁয়া তবু গা জ্বলে
চোখ জ্বলে, আজ না দেখা বিষাক্ত পদার্থের ছড়াছড়ি-
আমি নদীর জলে হাত দেইনি অনেক দিন
দেখিনি ভোরের আলোয় চারপাশ
আমি ঘুমন্ত ড্রাকুলা, নাগরিক হয়ে থাকি..
