×

বিশেষ সংখ্যা

মুক্তির অহংকার, অর্জনের পথপরিক্রমা

Icon

কামরুজ্জামান আরিফ

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ১০:১৭ এএম

মুক্তির অহংকার, অর্জনের পথপরিক্রমা

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার মাটি প্রথমবারের মতো প্রতিরোধের আগুনে উত্তাল হয়ে উঠেছিল। 

পঁচিশে মার্চের কালরাতে যারা নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তারাই বুঝতে পারেনি—শৃঙ্খলিত জাতি তখন মুক্তির প্রত্যয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিচ্ছে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞায়। সেই নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে আমরা পেয়েছি বিশ্বের মানচিত্রে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। একসময় যাকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে আখ্যায়িত করা হতো, সেই দেশ আজ বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রায় এক কোটি প্রবাসীর শ্রমে-ঘামে আসা পরিপুষ্ট রেমিটেন্স, নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ আর খাদ্যে সয়ংসম্পূর্নতা ইত্যাদি মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আজ বাংলাদেশ একটি ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে স্বীকৃত।

কিন্তু স্বাধীনতা শুধু ভৌগোলিক সীমানা অর্জনের নাম নয়। প্রকৃত স্বাধীনতা হলো মানুষের মুখের হাসি, তার অর্থনৈতিক সচ্ছলতা, ন্যায়বিচার ও সাম্যের অধিকার। একটি দেশের প্রকৃত স্বাধীনতার মাপকাঠি হলো সেখানে গণতন্ত্রের চর্চা কতটা সুসংহত, মানবাধিকার কতটা নিশ্চিত এবং বৈষম্য কতটা নির্মূল করা হয়েছে। 

আজ যখন আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পেরিয়ে পঞ্চান্নোত্তর বছরে পদার্পণ করেছি, তখন আমাদের আত্মপর্যালোচনা করা জরুরি। আমরা কি সত্যিই সেই ‘সোনার বাংলা’ গড়তে পেরেছি, যার স্বপ্ন দেখেছিলেন লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগ?

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বলতে বোঝায় শোষণমুক্ত সমাজ, অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বৈষম্যহীন অধিকার। আজও যদি কোথাও বৈষম্য থেকে যায়, যদি দুর্নীতি গণতন্ত্রকে দুর্বল করে, যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে কোনো অপশক্তি মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে—তাহলে বুঝতে হবে আমাদের সেই চেতনাকে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দায়িত্ব এখনও অসমাপ্ত থেকে যায়।

তরুণ প্রজন্মের কাছে এই দিবসটির তাৎপর্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যারা রক্ত দিয়েছে, যারা মায়ের কোল খালি করে দিয়ে এই দেশ এনেছে, তাদের ত্যাগের ইতিহাস শুধু পাঠ্যবইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। ইতিহাস বিকৃতি ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে, বিজয়ের পেছনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে। তাদের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে—একটি উন্নত, বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ হিসেবে।

‘জাতীয় দিবস’ বলতে কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি আমাদের অস্তিত্বের উৎসব। এটি আমাদের শিকড়ের সন্ধান। ২০২৬ সালে এসে আমাদের তাই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়, আমরা একটি যুদ্ধবিজয়ী জাতি। কিন্তু সেই বিজয় তখনই চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে, যখন আমরা সকল বিভেদ-বৈষম্য ভুলে একসঙ্গে কাজ করব। আজ আমরা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁদের আত্মত্যাগ যেন কখনো ব্যর্থ না হয়, সে প্রত্যয় নিয়ে স্বাধীনতার ৫৫তম বছরটি হোক আমাদের নবায়নের অঙ্গীকার।

লেখক: হেড অব অনলাইন এন্ড ডিজিটাল, ভোরের কাগজ

টাইমলাইন: মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভারত থেকে আসামিদের আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হাদি হত্যা ভারত থেকে আসামিদের আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে নিহত ১৩

ভারতে বাস-লরির সংঘর্ষে নিহত ১৩

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালো ঢাবি

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালো ঢাবি

দেশেরে বাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম

দেশেরে বাজারে ফের কমলো স্বর্ণের দাম

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App