×

বিশেষ সংখ্যা

ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ আয়োজন

শুভ নাকি অশুভ?

Icon

নিয়াজ জামান সজীব

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:২৯ পিএম

শুভ নাকি অশুভ?

শুভ নাকি অশুভ?

প্রচলিত একটা গল্প দিয়ে শুরু করি। একদিন রাজা যাচ্ছিলেন শিকারে। পথে হোজ্জা সাহেবের সাথে তার দেখা। তিনি মনে করতেন হোজ্জা সাহেব তার জন্য অশুভ। তাই তিনি পাইক-পেয়াদাদের হুকুম দিলেন হোজ্জা সাহেবকে তার পথ থেকে সরিয়ে দিতে। রাজা বলেছেন মানে ধরে আনতে বললে বেঁধে আনার জন্য প্রস্তুত তার লোকজন। আর তাই রাজার পাইক-পেয়াদারা হোজ্জাকে বেদম মার দিয়ে পথ থেকে সরিয়ে দিলো। শিকারে গিয়ে রাজা অনেক খুশি হলো। কারণ খুব ভালো শিকার করতে পেরেছেন রাজা। তাই তিনি রাজ্যসভায় ফিরে এসে হোজ্জাকে ডেকে দুঃখ প্রকাশ করলেন। বললেন, আমি ভেবেছিলাম হোজ্জা তুমি আমার জন্য অশুভ। কিন্তু এবার তো তোমার মুখ দেখার পরও ভালো শিকার করতে পেরেছি। তার মানে তুমি আমার জন্য শুভ। সব শুনে হোজ্জা বললেন, রাজা মশাই কে যে কার জন্য শুভ, আর কে অশুভ কিভাবে বলি? আপনার মুখ দেখার পরে তো সেদিন বেদম মার খেতে হলো। এ জগতে কে শুভ আর কে অশুভ বোঝা বড় দায়। 

অনেকে সকালে উঠে বলে আজ দিনটা যে কার মুখ দেখে শুরু হলো! দিনের সবকিছু ভালো গেলে রাতে তাকে মনে হয় শুভ। না গেলেই বিপত্তি । আসলেই কি কেউ কারো জন্য অশুভ হতে পারে? বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নির্দিষ্ট কোনো মানুষ কারো জন্য জন্মগতভাবে অশুভ হতে পাওে এমন ধারণার ভিত্তি পাওয়া যায় না। ব্যক্তির নেতিবাচক আচরণ দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা অনেকসময় দূরত্ব তৈরী করে। সম্পর্ক ও পরিস্থিতির কারণেই অশুভ বা শুভ ধারণার পরিস্ফূটন ঘটে। 

বড় প্রেম শুধু কাছে টানে না গাছেও তোলে। কেউ যদি প্রতিনিয়ত অবহেলা বা মানসিক আঘাত দেয়, তবে সে আপনার জন্য অশুভ বা ক্ষতিকর হিসেবে অনুভূত হয়। পরিচিত কেউ ভালোবাসার টানে দূরদেশে গেলে মনে হয় সে বুঝি শুভ কোন কাজে গেলো। ওই বন্ধুও ভাবে বিদায় বেলায় বিমানে ওঠার আগে যার মুখ দেখেছিলাম। সেই বুঝি তার জন্য শুভ। ব্যক্তিক্রম হলেই অশুভ ছায়া হঠাৎ দুলে ওঠে। এ এক দূরত্ব ঘোচানো নামের খেলা। শুভ ও অশুভ থেকে দূরত্ব কখনো কমে আবার কখনো বেড়ে যায়। কম-বেশী পাওয়া না পাওয়া নিয়েই জীবন। আর এই জীবনের দুটি ধারা শুভ ও অশুভ। তবে কারো নাম শুভ হলেও অশুভ শব্দটি ডাকনাম হিসেবে কোন অভিভাবক রাখতে রাজি নন। 

নিজের নেতিবাচক চিন্তা সাময়িক শান্তি দিলেও দীর্ঘ সময় পরে তা উল্টো ফল বয়ে আনে। 

এ বিশ্বে ‘ডিশোসিয়েটিভ ডিসঅর্ডার’ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা কম নয়। আর তাই অনেকেই নিজের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে পারিপার্শ্বিক কাজ এবং নিজের সত্তার মধ্যকার যোগসূত্র হারিয়ে ফেলেন। তখনই ঘটে বিপত্তি। অনেক সময় সত্যকেও অশুভ মনে হয়। 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদেরকে বলতেন, ‘প্রকৃতপক্ষে নিঃস্ব হচ্ছে সে, যে কিয়ামতের দিন অনেক নামায,রোযা ও যাকাতের নেকী নিয়ে আসবে, কিন্তু দুনিয়াতে কাউকে গালি ও মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, সম্পদ দখল করেছে। এমনকি কাউকে হত্যা বা আহত করেছে। তাই কাউকে অশুভ বলে কষ্ট দেয়ার পরিণাম ভালো হয় না।’

পুঁথিগত বিদ্যা অনুযায়ী, শুভ ও অশুভ হলো দর্শন ও ধর্মে বিশ্বাসযোগ্য কল্যাণ এবং অকল্যাণের দ্বৈতবাদী ধারণা। শুভ সাধারণত মঙ্গল, সৌভাগ্য বা উন্নতির প্রতীক; আর অশুভ হলো অমঙ্গল বা কুলক্ষণ। 

লাকি সেভেন ও আনলাকি থারটিন। শৈশবের শোনা সবচেয়ে পরিচিত দুটি বিষয়। শনি ও মঙ্গলবার অশুভ। আমার নিজেরই জন্ম মঙ্গলবারে। মাঝে মাঝে প্রতিবন্ধকতাগুলা সামনে আসলে মনে হয় আহ মঙ্গলবার। এই দিনে জন্ম বলেই এমন সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

শুভ সকাল কেউ বললে মনে হয় দিনটা বুঝি ভালো যাবে। অশুভ সকালও তো কেউ বলে না। অশুভ সন্ধ্যাও কেউ বলে না। জ্যোতিষশাস্ত্রে শুভ-অশুভ এক ধরণের বিভ্রমের নাম। কোন স্বপ্ন শুভ আবার কোন স্বপ্ন অশুভ। মস্তিষ্কের অবচেতন স্তরের কোনো ঘটনা স্বপ্ন হয়ে ঘুমের মধ্যে ধরা দেয়। ঘুমের সময় রেন্ডম আই মুভমেন্টই স্বপ্নের কারণ বলেও মনে করা হয়। আর তাই চাহনীর মধ্যেও শুভ-অশুভ ব্যাপারটি থেকে যায়। হরিণ চোখের ইশারায় কারো শুভ বুদ্ধির উদয় হয়। অনকেরই আবার অমুভ জিনিসের উদয় হয়। বুদ্ধিরও তাই শুভ-অশুভ থাকে।  শুভ বুদ্ধি মানুষকে ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করে। অশুভ কাজ অশুভ বুদ্ধি থেকেই হয়।

বিভিন্ন লোকবিশ্বাস ও বাস্তুশাস্ত্র মতে, শুভ লক্ষণ সৌভাগ্য, ধনসম্পদ এবং সুসময়ের আগমনের সংকেত দেয়। সাদা গরুর ডাক, শঙ্খ বা ঘণ্টার আওয়াজ শোনা বা নতুন বধূ দেখা শুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়। আরবরা কোন কাজের আগে পাখি উড়িয়ে তার শুভাশুভ লক্ষণ নির্ণয় করে থাকে। পাখি ডান দিকে গেলে শুভ আর বামে গেলে অশুভ মনে করা হয়। এখনো বহু মানুষ পরীক্ষার হলে যাওয়ার সময় ডিম খেয়ে যাওয়াকে অমুভ মনে করে।

গ্রামগঞ্জে এখনো অনেকে প্যাঁচাকে অশুভ মনে করে। কোনো বাড়ির উঠানে প্যাঁচার আওয়াজ শোনা অনেকে আতঙ্কিত হয়।

তবে বিশ্ব মোড়লরা নিজেদের ইচ্ছামতো শুভ-অশুভদের তালিকা করে। সেই তালিকা অনুযায়ী দখল-বেদখলের খেলা খেলে। বাকি সবই গিনিপিগ। যে যার মতো পরীক্ষা করে। সেই পরীক্ষায় কারো কপালে শুভঙ্করের ফাঁকিও জোটে।

লেখক: সাংবাদিক

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভোরের কাগজের ঈদ আয়োজন

ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ ভোরের কাগজের ঈদ আয়োজন

সেই ঈদ কি এখনো আসে...

ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ আয়োজন : সম্পাদকীয় সেই ঈদ কি এখনো আসে...

রক্ত-অশ্রু-বেদনায় ভরা বাঙালির সেই ঈদ

ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ আয়োজন রক্ত-অশ্রু-বেদনায় ভরা বাঙালির সেই ঈদ

শুভ নাকি অশুভ?

ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ আয়োজন শুভ নাকি অশুভ?

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App