ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ আয়োজন
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে দ্বিগুণ উচ্ছ্বসিত শ্যামল মাওলা
মোঃ আনসুর রহমান জিহাদ
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ১১:১০ পিএম
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে দ্বিগুণ উচ্ছ্বসিত শ্যামল মাওলা
আসন্ন ঈদে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা বনলতা এক্সপ্রেস সিনেমা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে বাড়ছে আগ্রহ। ব্যতিক্রমধর্মী গল্প ও তারকাবহুল উপস্থিতির কারণে সিনেমাটি ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে।
২০২৬ সালের এই চলচ্চিত্র বনলতা এক্সপ্রেস পরিচালনা করেছেন তানিম নূর। একটি ট্রেন জার্নিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই গল্পে উঠে এসেছে মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সংকট মোকাবিলার নানা দিক।
সিনেমাটিতে রয়েছে একটি শক্তিশালী তারকাবহুল কাস্ট। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম (রাশিদ উদ্দিন), চঞ্চল চৌধুরী, সাবিলা নূর (চিত্রা), শরীফুল রাজ (ড. আশহাব), আজমেরী হক বাঁধন, জাকিয়া বারী মম (আফিয়া), শ্যামল মাওলা, ইনতেখাব দিনার এবং শামীমা নাজনীন। এছাড়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে থাকছেন গায়িকা মাশা ইসলাম।
শ্যামল মাওলা জানান, এই সিনেমার গল্প নেওয়া হয়েছে হুমায়ূন আহমেদ-এর ভাবনা থেকে। একটি ট্রেন যাত্রার মধ্য দিয়ে মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসার আদান-প্রদান এবং একসঙ্গে থাকলে কিভাবে সংকট থেকে বেরিয়ে আসা যায়—এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে এতে। তার মতে, এই সিনেমা বাঙালিদের আবারও মনে করিয়ে দেবে মানবিক সম্পর্কের গুরুত্ব।
তিনি বলেন, দর্শক এই সিনেমা থেকে দেশের সমাজ, সংস্কৃতি, মানুষের সম্পর্ক ও ভালোবাসা নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারবে এবং ভালো কিছু উপলব্ধি করতে পারবে।
শুটিং অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাধারণত শুটিং সেটে মিস ম্যানেজমেন্টের কারণে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যায়, যা খুবই স্বাভাবিক। তবে এই সিনেমার ক্ষেত্রে তেমন কোনো বড় সমস্যা হয়নি।
‘ম্যানেজমেন্ট খুবই ভালো ছিল এবং এতগুলো শিল্পীকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করাটা ছিল দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা’— বলেছেন তিনি।
সিনেমাটি করতে গিয়ে একটি মজার অভিজ্ঞতার কথাও শেয়ার করেন শ্যামল মাওলা। শুটিংয়ের জন্য একটি পুরো ট্রেন ভাড়া করা হয়েছিল, যেখানে একসময় তিনি একাই ছিলেন। ‘তখন আমার মনে হয়েছিল, আমি যেন এত বড় একটা ট্রেনের মালিক’—হাসতে হাসতে বলেন তিনি।
তিনি আরও জানান, সাধারণত প্রতিদিন শুটিং শেষে কোনো না কোনো সিনেমা দেখে তারপর ঘুমাতে যান তিনি। কিন্তু বনলতা এক্সপ্রেস–এর শুটিংয়ের সময় কাজের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে সেই সময়টুকুও পাননি। বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে শুরুতে কিছুটা ভয় কাজ করলেও, সেটিই তাকে আরও মনোযোগী করেছে। ‘আমি আমার কাজে বিন্দুমাত্র গাফিলতি করতে চাই না’—বলেছেন তিনি।
এবারের ঈদ তার জন্য আরও বিশেষ। কারণ, এই ঈদে তার সঙ্গে রয়েছে তার মেয়ে। পরিবার এবং নতুন সিনেমা—দুই মিলিয়ে তার আনন্দ যেন দ্বিগুণ হয়ে গেছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সিনেমাটি সপরিবারে বসে উপভোগ করার মতো—যেখানে সব বয়সের দর্শকই নিজেদের মতো করে গল্পের সঙ্গে সংযোগ খুঁজে পাবেন।
সব মিলিয়ে, বনলতা এক্সপ্রেস শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং শ্যামল মাওলা-এর জন্য এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতার গল্প। এখন দেখার পালা, ঈদের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিতে পারে এই সিনেমা।
