ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ আয়োজন
পলাশ খাঁনের কবিতা
পলাশ খাঁন
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
পলাশ খাঁনের কবিতা
আমি বাস্তবতাকে দেখেছি
জীবন পেরিয়ে দেখেছি কত, শিখেছি যে কতশত-
তবুও কালের গঙ্গায় ভেসেই চলছি এক আনাড়ির মত।
পথ ভাঙতেই হঠাৎ দেখা- কত কিসিমের বাস্তবতা,
কোনটা গুনি আর কোনটা ছাড়ি, ঝুলি ভরা যে অভিজ্ঞতা।
কদমে-কদমে, ধাক্কা-হোঁচটে বারবার তাকে চিনেছি
তিক্ত-মধুর স্বাদ পেয়েছি, যতবারই তাকে জেনেছি।
জানতে কি আর বাকি? আমি বাস্তবতাকে দেখেছি!
নজরে পড়েছে শিল্পীর আঁকা সাতরঙের ক্যানভাসে,
মনেতে লুকানো কল্পজগৎ তার তুলির খোঁচাতে ভাসে-
ভাসে যে আরও কত কী, সেই বাস্তবতাকেও দেখেছি!
শুনেছি তাকে গায়কের গলায় আবেগমাখা ভঙ্গিতে,
চাপানো ক্ষোভ তার কণ্ঠে বাজে ভিন্ন সুরের ছন্দেতে-
সুরের কান্না শুনেছি, বাস্তবতার আবেদনও বুঝেছি।
পড়েছি তাকে পাতায়-পাতায়, লেখক-কবির খাতায় খাতায়!
কাহিনীর ভাঁজে লাইনে-লাইনে, খুঁজে পেয়েছি জীবনের মানে,
সাহিত্যের হাহাকারও শুনেছি- বারবার বাস্তবতাকে দেখেছি!
নজরে পড়েছে মঞ্চ অভিনেতার- মেকি ঢঙের উল্টো দিক,
নিজেকে লুকিয়ে দর্শক মাতিয়ে, গোপনকান্না ঢেকেছে ঠিক-
নজর এড়ায়নি সেখানেও- আমি বাস্তবতার দুঃখ দেখেছি!
বেকারকে দেখেছি চাকরির খোঁজে ক্ষয় করেছে জুতোর তলা-
পঁচিশ সালের শিক্ষাসনদ তো জুটেছে, জুটেনি কাজের অভিজ্ঞতা
কর্মের উপহাস দেখেছি, আমি সেই বাস্তবতারও ছোঁয়া পেয়েছি!
দেখেছি চোখে- আদরের ছেলে রমণীর ছলে ভুলেছে তার অতীত জনম,
বউ সোনামণির পোষালো না তাই গর্ভধারিণীর ঠাঁই বৃদ্ধাশ্রম!
সম্পর্কের জঘন্যতাও দেখেছি, বাস্তবতাকে আমি ভালোই চিনেছি।
মজুরকে দেখেছি- হাতুড়ি চালিয়ে স্বপ্ন পিটিয়ে গড়তে অন্যের রাজপ্রাসাদ
সন্ধ্যায় খালি হাতে ফিরে, আহাজারির ঘরে- অনাহারে কাটে আরেকটি রাত
দারিদ্র্যের নিষ্ঠুরতা দেখেছি, আমি ক্ষুধার বাস্তবতা বুঝেছি!
সংবাদে জেনেছি- গর্ভধারিণী মায়ের সন্তানদের নিয়ে বিষপান,
ধর্ষিতা কন্যার বিচার না পেয়ে- ট্রেনের নিচে বাপবেটির প্রাণ দান
ঘটছে যে আরও কত কী, আমি নির্মম বাস্তবতা দেখেছি!
দেখতে হয়েছে- চৌদ্দ বছরের ভালোবাসার এক ঝটকায় ইতি,
কারো তো আবার প্রেমের বিয়েতেও সুখহীন সংসার, প্রেম কেবলই স্মৃতি!
জগতে আসল প্রেমেরও আকাল! বাস্তবতার তামাশাও দেখেছি।
দুই দিনের এই দুনিয়ামঞ্চে লক্ষ-কোটি বাস্তবতা,
অভিজ্ঞতার বোঝা বয়ে এবার দেখার অপেক্ষায় শেষটা-
অসংখ্য বাস্তবতা দেখেছি, কেবল একেই জীবনে পেয়েছি!
