×

ধর্ম

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ম-নিয়ত ও ফজিলত

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

লাইলাতুল কদর নামাজের নিয়ম-নিয়ত ও ফজিলত

ছবি : সংগৃহীত

ইসলামে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত হলো লাইতুল-কদর বা শবে কদর। মুসলমানদের বিশ্বাস, এ রাতেই মহান আল্লাহ মানবজাতির জন্য পথনির্দেশক গ্রন্থ পবিত্র আল কোরআন নাজিল শুরু করেন। তাই এই রাতকে রহমত, বরকত ও ক্ষমার বিশেষ রাত হিসেবে মনে করা হয়।

ইসলামের দৃষ্টিতে লাইতুল-কদর বা শবে কদর এমন এক মহিমান্বিত রাত, যে রাতে ইবাদত-বন্দেগি করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন এবং অসংখ্য সওয়াব দান করেন। পবিত্র আল কোরআনে উল্লেখ আছে, এ রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ এই এক রাতের ইবাদতের সওয়াব প্রায় ৮৩ বছরের বেশি সময়ের ইবাদতের সমান।

আরো পড়ুন: শবে কদর লাভের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

আরো পড়ুন: পবিত্র রমজানে খতম তারাবির ফজিলত ও গুরুত্ব

এছাড়াও ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদর এমন একটি বরকতময় রাত, যখন অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং আল্লাহর রহমত সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এই রাতটি মুসলমানদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভ, দোয়া কবুল হওয়া এবং অতীতের গুনাহ মাফ পাওয়ার একটি মহামূল্যবান সুযোগ। তাই ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই রাতে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করেন।

শবে কদর নামাজের নিয়ম

শবে কদরের রাতে মুসলমানরা বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। এই রাতে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ নামাজ বাধ্যতামূলক করা হয়নি; বরং নফল নামাজ আদায় করার প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শবে কদরের রাতে সাধারণত ২ রাকাত করে নফল নামাজ পড়া হয়। মুসল্লিরা নিজের সামর্থ্য ও সময় অনুযায়ী যত ইচ্ছা নফল নামাজ আদায় করতে পারেন। প্রতিটি রাকাতে প্রথমে সূরা ফাতিহা পড়তে হয় এবং এরপর পবিত্র কোরআনের যেকোনো সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করা যায়।

নামাজ আদায় করার পর বেশি বেশি দোয়া, তওবা ও জিকির করা অত্যন্ত উত্তম। কারণ এই রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দার দোয়া কবুল করেন এবং আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলে গুনাহ মাফ করে দেন। তাই মুসলমানরা এই রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, নিজের জন্য এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় দোয়া করেন।

এছাড়াও শবে কদরের রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করা বিশেষ ফজিলতপূর্ণ। রাতের শেষ ভাগে উঠে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া এবং আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে দোয়া করা এই রাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। এজন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা শবে কদরের পুরো রাতটি ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে কাটানোর চেষ্টা করেন।

শবে কদর নামাজের নিয়ত

ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদরের রাতে নফল ইবাদত করার জন্য অন্তরের নিয়তই মূল বিষয়। নামাজের জন্য আলাদা করে মুখে আরবি বা বাংলা নিয়ত বলা বাধ্যতামূলক নয়; বরং মনে মনে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ আদায় করার ইচ্ছা থাকলেই নিয়ত হয়ে যায়। তবুও অনেকেই বোঝার সুবিধার জন্য বাংলা ভাষায় নিয়ত বলে থাকেন।

বাংলা নিয়ত:

“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম।” এইভাবে দুই রাকাত করে যত ইচ্ছা নফল নামাজ আদায় করা যায়। প্রতিটি নামাজেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং ক্ষমা লাভের উদ্দেশ্যে নিয়ত করা উত্তম। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদরের রাতে আন্তরিক নিয়ত ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং রহমত লাভ করার একটি বিশেষ সুযোগ পাওয়া যায়।

শবে কদরের বিশেষ আমল

ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদর এমন একটি বরকতময় রাত, যখন আল্লাহ তাআলার রহমত ও ক্ষমা লাভের বিশেষ সুযোগ থাকে। তাই এই রাতে মুসলমানদের বেশি বেশি ইবাদত ও নেক আমল করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। আন্তরিকভাবে আল্লাহর ইবাদত করলে এই রাতের অসীম ফজিলত লাভ করা যায়। শবে কদরের রাতে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করা অত্যন্ত উত্তম আমল। কারণ এই রাতেই পবিত্র কোরআন নাজিল শুরু হয়েছিল। তাই কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায় এবং অনেক সওয়াব লাভ হয়।

এছাড়াও দরুদ শরিফ পড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। মহানবী মোহাম্মদ (সা.)–এর ওপর দরুদ পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা বান্দার প্রতি রহমত নাজিল করেন এবং তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন। শবে কদরের রাতে তাসবিহ, তাহলিল ও জিকির করা খুবই ফজিলতপূর্ণ। যেমন— “সুবহানাল্লাহ”, “আলহামদুলিল্লাহ”, “আল্লাহু আকবার” ইত্যাদি জিকির বেশি বেশি পড়লে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এবং অন্তর প্রশান্ত হয়।

এছাড়া এই রাতে আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের ভুল ও গুনাহের জন্য তওবা করলে আল্লাহ তাআলা বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। বিশেষ করে এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উত্তম— “আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি।” অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।

শবে কদরের ফজিলত

ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদর অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও বরকতময় একটি রাত। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে, এই রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ একজন মুসলমান যদি এই রাতে আন্তরিকভাবে ইবাদত-বন্দেগি করেন, তাহলে তিনি প্রায় ৮৩ বছরের বেশি সময়ের ইবাদতের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারেন। ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদরের আরেকটি বড় ফজিলত হলো—এই রাতে আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনা করলে অনেক গুনাহ মাফ হয়ে যায়। তাই মুসলমানরা এই রাতটিকে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের বিশেষ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন।

এছাড়াও পবিত্র কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং আল্লাহর রহমত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পুরো রাতটি শান্তি ও বরকতে ভরপুর থাকে। আরও বলা হয় যে, এই রাতে মানুষের সারা বছরের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়। তাই ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাত, যেখানে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করার চেষ্টা করা উচিত।

শবে কদর কবে হয়

ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদর রমজান মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় রাতগুলোর একটি। তবে নির্দিষ্টভাবে কোন রাতে শবে কদর হবে তা স্পষ্ট করে নির্ধারণ করা হয়নি। এজন্য মুসলমানদেরকে পুরো রমজানের শেষ অংশে এই রাতটি খোঁজার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

হাদিস অনুযায়ী, শবে কদর সাধারণত রমজানের শেষ ১০ রাতের যেকোনো বেজোড় রাতে হতে পারে। এজন্য ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই সময়টিতে বেশি বেশি ইবাদত, নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং দোয়া করার চেষ্টা করেন, যাতে শবে কদরের ফজিলত লাভ করা যায়।

বিশেষ করে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ রমজানের রাতকে শবে কদরের সম্ভাব্য রাত হিসেবে ধরা হয়। অনেক আলেমের মতে ২৭ রমজানের রাতকে বেশি সম্ভাবনাময় বলা হলেও নিশ্চিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট রাত নির্ধারণ করা হয়নি। এ কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে শবে কদর পাওয়ার সর্বোত্তম উপায় হলো রমজানের শেষ দশ রাতেই বেশি বেশি ইবাদত করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও রহমত প্রার্থনা করা।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ঝড়ের কবলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবোচরে আটকা লঞ্চ

ঝড়ের কবলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবোচরে আটকা লঞ্চ

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্তকরণের আশ্বাস সেতুমন্ত্রীর

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক প্রশস্তকরণের আশ্বাস সেতুমন্ত্রীর

৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস, স্মৃতি ও বর্তমানের প্রশ্ন

৭ মার্চের ভাষণ: ইতিহাস, স্মৃতি ও বর্তমানের প্রশ্ন

রাসিক পরিচ্ছন্নকর্মীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

রাসিক পরিচ্ছন্নকর্মীরা পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App