কেন রোজার প্রতিদান দেন স্বয়ং আল্লাহ?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামে প্রতিটি নেক আমলের জন্য নির্দিষ্ট সওয়াবের কথা উল্লেখ থাকলেও রোজার মর্যাদা ও প্রতিদান একেবারেই ব্যতিক্রম। কারণ রোজা এমন একটি ইবাদত, যার প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ নিজেই প্রদান করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে হাদিসে কুদসিতে। এই ঘোষণাই রোজার বিশেষ মর্যাদা ও মাহাত্ম্যকে আরও উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে।
ইসলাম ধর্মে রোজার গুরুত্ব ও ফজিলত অপরিসীম। অন্যান্য ইবাদতের চেয়ে রোজার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর গোপনীয়তা ও একনিষ্ঠতা। এ কারণেই মহান আল্লাহতায়ালা রোজার প্রতিদান সরাসরি নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
১. হাদিসে কুদসির বিশেষ ঘোষণা
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন—
‘বনী আদমের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা ছাড়া। কারণ রোজা কেবল আমারই জন্য এবং আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব।’ (সহিহ বুখারি: ১৯০৪, সহিহ মুসলিম : ১১৫১)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, অন্যান্য ইবাদত, যেমন—নামাজ, হজ বা সদকা মানুষ দেখতে পায়। কিন্তু রোজা এমন একটি ইবাদত, যা বান্দা ও আল্লাহর মাঝখানে এক গভীর গোপন রহস্য। কেউ চাইলে লোকচক্ষুর অন্তরালে পানাহার করতে পারে, কিন্তু সে কেবল আল্লাহর ভয়ে তা থেকে বিরত থাকে। এই একনিষ্ঠতার কারণেই আল্লাহ একে নিজের জন্য খাস বা নির্দিষ্ট করে নিয়েছেন।
২. প্রতিদানের বিশালতা
সাধারণত প্রতিটি নেক কাজের সওয়াব ১০ থেকে ৭০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু রোজার সওয়াব কোনো গাণিতিক সীমায় সীমাবদ্ধ নয়। আল্লাহ যখন বলেন, ‘আমি নিজেই এর প্রতিদান দেব’; এর অর্থ হলো, এই পুরস্কারের পরিমাণ হবে অকল্পনীয় এবং বান্দার ধারণার বাইরে। যেমন কোনো রাজা যদি বলেন, ‘আমি নিজ হাতে পুরস্কৃত করব’; তবে সেই পুরস্কার সাধারণ হবে না।
৩. রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রোজাদারের জন্য দুটি বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে:
প্রথম আনন্দ : ইফতারের সময়, যখন সে সারাদিনের ধৈর্য শেষে মহান আল্লাহর নিয়ামত গ্রহণ করে।
দ্বিতীয় আনন্দ : যখন সে কিয়ামতের দিন তার রবের (আল্লাহর) সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং রোজার বিশেষ প্রতিদান লাভ করবে।
৪. রাইয়ান নামক বিশেষ দরজা
জান্নাতে প্রবেশের জন্য অনেক দরজা থাকবে, যার মধ্যে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা কেবল রোজাদারদের জন্য সংরক্ষিত। মহান আল্লাহ নিজ হাতে পুরস্কার দেওয়ার অংশ হিসেবে রোজাদারদের এই সম্মানজনক প্রবেশাধিকার দান করবেন।
৫. রোজার মাধ্যমে তাকওয়া ও ক্ষমা
রোজা কেবল ক্ষুধার নাম নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধির মাধ্যম। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ইমান ও সওয়াব লাভের আশায় রোজা রাখে, আল্লাহ তার আগের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এই ক্ষমাই হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার জন্য সবচেয়ে বড় উপহার।
রোজাদার ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজের ক্ষুধা, তৃষ্ণা এবং প্রবৃত্তিকে বিসর্জন দেয়। বান্দার এই নিঃস্বার্থ ত্যাগের সম্মানার্থেই আল্লাহতায়ালা কিয়ামতের কঠিন দিনে তাকে নিজ হাতে পুরস্কৃত করে ধন্য করবেন।
