তিন বছর ঘরবন্দি বৃদ্ধ বাবা, পুলিশের হস্তক্ষেপে স্ত্রীর কবর জিয়ারত
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জুন ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
তিন বছর ধরে বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর পর মায়ের জানাজা ও দাফনেও অংশ নেয়নি ছেলে। এমনকি বৃদ্ধ স্বামীকেও স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে যেতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশেষে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর বাবা ও ছেলে কবর জিয়ারত করেন।
হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (৪ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের আব্দুল জলিল (৭৫) ও মাহমুদা বেগম (৬৫) দম্পতির তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৫) কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা (৩৫) বরগুনায় শিক্ষকতা করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ছোট ছেলে কর্মস্থলে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ তার বাবাকে জিম্মি করে প্রায় ১৪ একর জমি নিজের নামে লিখে নেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাবাকে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলেও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ।
এদিকে মাহমুদা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নেন মেয়েরা। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম রমজানের পর তাকে রংপুরে হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩১ মে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দিলে মেয়ের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানেই গত ৩ জুন রাতে তিনি মারা যান।
পরদিন সকালে পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তিনি বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রেখে স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দেননি বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পরিস্থিতির একপর্যায়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় মরদেহ দাফন সম্পন্ন করা হয়। খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ওসি মামুনুর রশীদের উদ্যোগে উপস্থিত সবার সঙ্গে আলোচনা করে দীর্ঘদিন ধরে ঘরে অবরুদ্ধ থাকা আব্দুল জলিলকে বের করা হয়। দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পর তিনি ও তার ছেলে মিলে মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।
রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদের মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে জমি-সংক্রান্ত বিরোধ ও বৃদ্ধকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগের বিষয়ে আগামী ৭ জুন থানায় উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
