অনিয়মের তথ্য চাইতেই চটে গেলেন রেল কর্মকর্তা
রবিউল ইসলাম বাবুল, লালমনিরহাট
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৮:২১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের কর্মকর্তার নিকট অনিয়মের তথ্য জানতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চটে গেলেন লালমনিরহাট রেল কর্মকর্তা। রবিবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেল কর্মকর্তার অফিসে গিয়ে অনিয়মের তথ্য চাইতে গেলে এ ঘটনাটি ঘটে।
বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হচ্ছে এতে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে- এমন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গেলে রেলওয়ের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলীর (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) তাসরুজ্জামান (বাবু) ৩ জন সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকরা হলেন- দূরবীন নিউজের জুয়াবের আহমেদ খান। ঢাকা পোস্টের নিয়াজ আহমেদ সিপন, ঢাকা ট্রিবিউনের মহসীন ইসলাম শাওন।
সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত একটি আন্তঃনগর ট্রেনে ইউনিফর্ম পরিহিত দুই পরিচর্যক (অ্যাটেনডেন্ট) বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে দরদাম করে টাকা নিচ্ছেন। গত ১৯ নভেম্বর ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘রংপুর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এ ঘটনার ভিডিও একজন যাত্রী ধারণ করেন। ওই দুই পরিচর্যকের একজন সোহেল রানা ও অপরজন মো. রাহাত বলে জানা গেছে।
সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, রবিবার বিকেলে ‘বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া’ প্রসঙ্গে পরিচর্যকদের দেখা শোনার দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) তাসরুজ্জামান বাবুর কক্ষে যান সাংবাদিকরা। নিজেদের পরিচয় দিয়ে ওই ঘটনা প্রসঙ্গে বক্তব্য জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উপর ক্ষেপে যান ওই কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে বেরিয়ে যেতে বলেন। এ বিষয়ে জানতে চেয়ে রাতে কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আরো পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু নিয়ে যা জানা গেল
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলওয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিনিয়ত বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণকারী যাত্রীদের কাছে পরিচর্যকরা টাকা আদায় করেন। আর আদায়কৃত অর্থের একটি অংশ ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগনের প্রকৌশলী তাসরুজ্জামান বাবুর পকেটেও আসে। লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়েতে ‘উগ্র মেজাজের কর্মকর্তা’ হিসাবে ক্ষ্যাতিও আছে তার।
এদিকে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ওঠার পর গত ১ অক্টোবর তাকে ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগনের প্রকৌশলীর পদ থেকে বিভাগীয় পার্সোনাল অফিসার হিসাবে বদলি করা হয়। কিন্তু সেই পদে যোগদান না করে নানা কৌশল খাটিয়ে আগের পদেই থেকে যান তিনি। এছাড়াও কিছু লোকজন দিয়ে বদলি প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করান। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর তিনি ফের শোকজ হন বলে জানা গেছে।
লালমনিরহাটে রেলের ইঞ্জিন ও কোচ ঘোরানোর জন্য সম্প্রতি প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে ওই কর্মকর্তার নেতৃত্বে নতুন করে ‘টার্নটেবিল’ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু সেটি উদ্বোধনের আগেই ভার বহনে অক্ষম হয়ে পড়েছে।
সৃষ্ট ঘটনায় লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) মো. আব্দু সালামের সঙ্গে আলোচনা হলে তিনি ভোরের কাগজ সাংবাদিক রবিউল ইসলাম বাবুলকে বলেন, ‘যাত্রীসেবা বা রেল সংশ্লিষ্ট কোনো ধরণের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার বিষয়েও তিনি জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে ‘টার্নটেবিল’ নির্মাণ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
